সাকিবকে করুনা করা যায়, আইডল মানা যায়না!

সাকিবকে করুনা করা যায়, আইডল মানা যায়না!

:: মুজতবা খন্দকার ::

সাকিব আল হাসান শচিন টেন্ডুলকের চেয়ে নিশ্চই বড় তারকা নয়। শচিনকে এক সময় ব্রাডমানের সঙ্গে তুলনা করা হতো। অথচ খেলোয়াড়ি জীবনে কিম্বা অবসরে যাওয়ার পর তার সম্পর্কে কোনো রটনা,কোনো কেচ্ছা কিম্বা কোনো স্ক্যান্ডাল শুনেছেন কেউ? তিনি হিন্দুস্থানের শুধু নয় ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ গুলোতে একজন লিভিংলিজেন্ড।


ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ। ক্ষুধা,দারিদ্র,বন্যা,খরা মারি যে দেশের বিধি লিপি, সেরকম একটি দেশের অালো বাতাসে বেড়ে ওঠা একটি ছেলে, এখন নিজের প্রচেষ্ঠা কিম্বা গুরুদের প্রচেষ্টায় হয়ে উঠেছেন বিশ্বসেরা। ও এদেশের গরব। কিন্ত সেটা কি ও ধারন করতে পেরেছে না কি পারছে। কথায় অাছে বড় হলে মানুষ বিনয়ী হয়। ফলবান বৃক্ষ নুইয়ে পড়ে। কিন্ত সাকিব কেন এমন উল্টোটা হলো? বলছিলাম শচিনের কথা। শচিনের রেকর্ড বুক কখনো সাকিব ছুঁতে পারবে কি না,সেটা ভবিষ্যতই বলবে,কিন্তু তার কাছ থেকে কি খেলোয়াড়ি অাচরণ সাকিব কিছুই শিখেনি।

কিন্তু কোনো এক ব্যক্তির ভয়ে সাকিব যখন, জড়ো সড়ো হয়ে ক্ষমা চান, তখন অামার হাসি পায়,তখন সাকিবের প্রতি করুনা হয়, এমন ঋজুহীন ব্যক্তিত্ব সে। যে নিজের কাজকে জা্ষ্টিফাই করতে দ্বিধান্বিত থাকে, তাকে অন্তত,সৎ মানুষ বলা যায়না। সাকিব,এই কালিপুজা উদ্ধোধন নিয়ে চাতুরতার অাশ্রয় নিয়েছে,সে নিজমুখে বলেছে সে প্রদিপ প্রজ্জ্বলন করেছে,উদ্ধোধন করেনি, প্রদিপ প্রজ্জ্বলন মানেই তো, উদ্ধোধন, সব জায়গায় কি ফিতে কাটতে হয়! এটাকি তার চাতুরতা নয়! সে কি ঋজু ঢঙে বলতে পারতোনা,অামি যা করেছি,সেটা ঠিক করেছি,তুমি বলার কে? সে পারেনি সেটা বলতে! কারন তার সেই সৎ সাহস নেই! যে কিনা ভার্চুয়ালী কারো হুমকীতে নিজেকে গূলিয়ে ফেলেছে.. এই ডিজঅনেষ্ট সাকিবকে তাই, শুধুই করুনাই করা যায়,অাইডল মানা যায়না! সরি সাকিব সরি!


সাকিব হচ্ছে, একটি দুষ্টু গাভি। যে ভালো দুধ দেয়,কিন্ত,দুধ দোয়াতে গেলে গোয়ালিনিকে চাট্টি মারে,প্রতিবেশীর জমির ফসল মাড়ায়। ফলশ্রুতিতে সেই গাভিকে প্রায়শ বন্দি থাকতে হয়।


তার খেলোয়াড়ি জীবনে কতবার যে সে তার অাচরন দিয়ে নিজেকে বির্তকিত করেছে তা গুনে শেষ করা যাবেনা। কিন্তু কেন,তার জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট বার বার বিশ্বে শীরোনাম হচ্ছে। তাকে সমঝে চলতে বলার কি কেউ নেই! সত্যি বলতে কি নেই।


কারন হচ্ছে.. অামরা হচ্ছি অল্পতে তুষ্টু জাতি। সাকিব কিন্তু এমন না যে অামাদের একটি বিশ্ব শীরোপা ঘরে এনে দিয়েছে। এমনকি একটি দক্ষিন এশিয় শ্রেষ্টত্ব অামরা এখনো তার অামলে পাইনি। কিন্ত সে নিজের ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সে সেরা বলে অামরা তাকে মাথায় তুলে নাচছি। অথচ একটা জাতির অর্জন হওয়া উচিৎ হচ্ছে সেই জাতি সম্মিলিতভাবে কি এচিভ করলো.. অামরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি সেটা ছিলো বিংশ শতাব্দির বড় অর্জন। এই শতকে অামাদের অার কোনো বড় অর্জন অামি দেখি না।সাকিব,তামিম,মুশফিক যারা এই প্রজন্মের প্রতিভাবান ক্রিকেটার,তাদের হাত ধরে অামরা অারো একটা বৈশ্বিক সাফল্য পেতে পারতাম। কিন্ত অামরা তা অর্জনে ব্যার্থ হয়েছি,হচ্ছি। কারন, এসব খেলোয়াড়রা যখন নিজেদের পারফর্মেন্স নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে.. তখনি অামরা অামাদের সরকার তাকে নিজের সম্পত্ত্বি মনে করে লোভ দিয়ে তাদের কিনে নিচ্ছে.. যেমন উদহরন হিসেবে সাকিবের কথাই ধরা যাক। সে ভালো পারফর্মার বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে নিজ দলে ভিড়িয়েছেন, হরহামেশা তার খবর নিচ্ছেন,তাকে গণভবনে ডেকে নিয়ে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন.. অথবা তার বাসায় রান্না করে পাঠাচ্ছেন। সেটা অাবার ফলাও করে প্রচারও করছেন। একজন প্রমিজিং পারফর্মারের মাথা নষ্ট করার জন্য এর চেয়ে অার কি লাগে! সাকিবের বয়স অার কতইবা! সে তো এই দেশের সন্তান। খেই হারাতে এটাই কি যথেষ্ঠ নয়!


অস্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ড কিম্বা ইন্ডিয়ার কোনো একজন খেলোয়াড়কে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কবে কতবার তার বাসভবনে ডেকে নিয়েছেন.. অাছে কি কোনো নজির। হ্যা। কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের অাগে অ্থবা সেই টুর্নামেন্ট জিতে অাসার পরে সেই দেশের সরকার তাদের রিসিপশন দেয়,এটা একটা প্রথাগত বিষয়। কিন্তু ইনডিভিজুয়াল কাউকে এমনভাবে সরকার প্রধান বিশেষ খাতির যত্ন করেছেন,এটা বোধ করি বাংলাদেশেই সম্ভব।

দুই।
প্রধানমন্ত্রী অামাকে পুছে, অামি কি হনুরে.. এটাই এখন সাকিবের মাথায় ঘুরছে.. না হলে সে এত এতবার খামখেয়ালিপনা করে কিভাবে। জুয়াড়ীদের সাথে সস্পর্ক রাখার কারনে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার খড়গ মাথার ওপর থেকে উঠতে না উঠতেই তিনি জস্মদিলেন কিছু অনাকাংখিত ঘটনার জন্ম দেন। যেটা কোনোভাবেই তার জন্য দরকার ছিলোনা। সাকিবের বউ বাচ্চা যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। নিষেধাজ্ঞার বেশীরভাগ দিনগুলি সে সেখানে কাটিয়েছেন। কিন্ত এই করোনা মহামারি্র সময় তিনি দেশে ফিরলেন গভীর রাতে। পরদিন গেলেন একটি বানিজ্য বিতান উদ্বোধনে।অথচ যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি এখন বিশ্বের মধ্য সবচেয়ে ভয়াবহ। কিন্ত চৌদ্দদিনের কোয়ারেন্টিন তো দুরের কথা একটা দিনও থাকলেন না,একান্তে। তার দুদিন পর ঘটা করে গেলেন বাইরোডে কলকাতা পুজা উদ্ধোধন করতে।


সাকিব হচ্ছেন এ প্রজন্মের অাইকন, দেশের অ্যামবেসেডর। তিনি যদি এ ধরনের অাচরণ করেন,তবে তা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই!


সাকিব,এখন কেবল একজন সাকিব নন,তার ভক্ত অনুসারী,অনুগামীর সংখ্যা অগুনতি। তার তো নিজ থেকেই অারো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিৎ ছিলো। কিন্তু তিনি কি সেটা একবারও ভেবেছেন? না কি নিতে পারছেননা,কিম্বা ধারণ করতে পারছেননা এই ইমেজ। তিনি কি খ্যাতির বিড়ম্বনার শিকার! অামি জানিনা। তার কি কোনো পরামর্শক নেই,যারা তাকে বলে দেবে কোনটা ভালো অার কোনটা মন্দ হবে তার জন্য.. পৃথিবীর তাবৎ সেলিব্রেটির জন্য তো এমন কিছু বাতলে দেয়ার জন্য একজন পরামর্শক থাকে! সাকিবের নাই কেন? নাকি অাছে,অামি জানিনা,থাকলে তাকে নির্ঘাৎ ছাগল বলবো!

পুজো টুজো,উদ্ধোধন নিয়ে অামার কোনো বিকার নেই। সেটা তার সস্পুর্ন নিজের ব্যাপার। কারো ব্যক্তিগত জীবনাচরন নিয়ে অামার কোনো মাথাব্যথা নেই,কখনো ছিলোনা।


কিন্তু কোনো এক ব্যক্তির ভয়ে সাকিব যখন, জড়ো সড়ো হয়ে ক্ষমা চান, তখন অামার হাসি পায়,তখন সাকিবের প্রতি করুনা হয়, এমন ঋজুহীন ব্যক্তিত্ব সে। যে নিজের কাজকে জা্ষ্টিফাই করতে দ্বিধান্বিত থাকে, তাকে অন্তত,সৎ মানুষ বলা যায়না। সাকিব,এই কালিপুজা উদ্ধোধন নিয়ে চাতুরতার অাশ্রয় নিয়েছে,সে নিজমুখে বলেছে সে প্রদিপ প্রজ্জ্বলন করেছে,উদ্ধোধন করেনি, প্রদিপ প্রজ্জ্বলন মানেই তো, উদ্ধোধন, সব জায়গায় কি ফিতে কাটতে হয়! এটাকি তার চাতুরতা নয়! সে কি ঋজু ঢঙে বলতে পারতোনা,অামি যা করেছি,সেটা ঠিক করেছি,তুমি বলার কে? সে পারেনি সেটা বলতে! কারন তার সেই সৎ সাহস নেই! যে কিনা ভার্চুয়ালী কারো হুমকীতে নিজেকে গূলিয়ে ফেলেছে.. এই ডিজঅনেষ্ট সাকিবকে তাই, শুধুই করুনাই করা যায়,অাইডল মানা যায়না! সরি সাকিব সরি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *