মূর্তি-ভাস্কর্যের নামে পাতানো খেলা ও জামায়াতের অতীত ভূমিকা

মূর্তি-ভাস্কর্যের নামে পাতানো খেলা ও জামায়াতের অতীত ভূমিকা

:: মুজতবা খন্দকার ::

মূর্তি না কি ভাস্কর্য এই নিয়ে কাইজা চলছে দেশে। শাসকদলের একটা পাতানো গেম এটা। অার এ থেকে যত দুরে থাকা যায় ততই মঙ্গল। শাসক দল চাই যে, দেশের মানুষ যেন অার সব কিছু ভুলে এদিকে মন দেয়। হেফাজতে ইসলাম,কিম্বা জামায়াতে ইসলাম কখনো দেশের ভালো চেয়েছে অামার মনে পড়েনা। এরা সব সময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের ভালোটা সংরক্ষিত করে এসেছে বার বার।
জামাতের কথাই ধরুন, ৯১ সালে গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রার সূচনালগ্নে বিএনপি দলটিকে অতটা গুরুত্ব দেয়নি.. অথচ তারা তখনই ক্ষমতার অংশিদার হতে চেয়েছিলো। অাকালমন্দ ঈশারায় কাফি বলে একটা কথা অাছে, বিএনপি নেত্রি জামাতের ঈশারাটা বোধ করি ধরতে পেরেছিলেন বলে তাদের তিনি তার প্রথম পাঁচ বছরে অনেক ছাড় দিয়েছিলেন। জামায়াতের অামীর গোলাম অাজমের নাগরিকত্বও সেই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট স্থির করেছিলো।

দেশে অাজ একনায়কতন্ত্র চলছে.. এটা বোঝার বোধ বুদ্ধি শেখানো হয়নি,ওদের শুধু ধর্মিয় অাচার অাচরন শেখানো হয়েছে জাগতিক ক্রিয়াকলাপ, হিসেব নিকেষ কিম্বা মেরুকরণ তারা জানেনা। অার জানেনা বলে তাদের পুঁজি করে.. হোফাজতের নেতারা.. এখন ভাস্কর্য না মূৃতি এসব নিয়ে অান্দোলনের নামে দেশে একটা অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করছেন,যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এদেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের মনকে বিগড়ে দেয়া। মানে মূর্তি অার ভাস্কর্য্য ছাড়া দেশে অার কোনো সমস্যা নেই! কি অদ্ভুত! অামরা শুধু ফাঁদে পড়তে শিখেছি। ফাঁদ ছিড়তে বোধ করি শিখিনি.. সেটা শিখতে হবে, না হলে মুক্তি অসম্ভব!


কিন্তু সেই জামাত ক্ষমতার স্বাদ না পেয়ে অাওয়ামী লীগের নেত্রির সাথে জোট বেঁধে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নামলো.. তখন দুই বিপরীত মেরুর দলদুটির সে কি গলায় গলায় ভাব। তখনও কিন্তু দেশে খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত ছিলোন। স্বাধীনতার স্বপক্ষের একটি দলের সাথে স্বাধীনতাবিরোধীতাকারী একটি দলের দহরম- মহরমকে রাজনৈতিক কৌশল বলে এন্ড্রোস করেছিলেন। জামাতের পৃষ্ঠপোষকতা এবং অাব্বাস অালী খানের তত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলার গুনে একুশ বছর পর ফের ক্ষমতায় অাসে অাওয়ামী লীগ। তাও একা নয়, অা,স ম রব,অানোয়ার মঞ্জুর দলকে সাথে নিয়ে ঐক্যমতের সরকার গঠন করে। তার অাগে শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতার শাসনামলের কর্মফলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। বলতে হয়,একদলীয় বাকশাল গঠন করে তিনি ভুল করেছিলেন। সে যাইহোক। জামাতের শিকেহ কিন্ত তাতে ছেড়েনি। শেখ হাসিনার ঐক্যমত সরকারে দলটির কোনো জায়গা হয়নি। কিন্তু নিজেদের শেষকৃত্য সম্পন্নের পথ সেদিনই তৈরী হয়,৯৬ সালে যেদিন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেন। এরপর কি হলো, ২০০১ সালে চারদলীয় জোটে বিএনপি জামাতকে ক্ষমতার অংশিদার করলো বটে.. সেটা ছিলো বিএনপির রাজনৈতিক ভুল। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেয় জামাতকে বিএনপি দলে টেনেছিলো.. যাতে ফের অাওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে কোনো কুমতলব করতে না পারে। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।


হিন্দুস্থানের ষড়যন্ত্রে মঈন, ফখরুদ্দীন, হাসান মশহুদ চক্র যখন দেশে ক্যু করার পরিকল্পনা করছিলো,তখন জামাত সরকারে থেকেও নিজেদের ধোয়া তুলসিপাতা দাবি করে এই ক্যুদেতাদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০০৮ সালের একটা পাতানো নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপিকে বাধ্য করে… অতি চালাকের গলায় দড়ি বলে একটা কথা অাছে.. পরবর্তীতে গলায় জামায়াতের সেইসব নেতাদের গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ে,যারা অতি উৎসাহি হয়ে ভঙ্গুর বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠে নিয়েছিলো।যার নেত্রি বিন্দুমাত্র অাগ্রহি ছিলেনন না,নিজের নির্বাচনে যেতে।


ব্যারিষ্টার মওদুদ অাহমদ,যিনি রাজনীতিক হিসেবে ঘটন অঘটন পটিয়সি বলে পরিচিত,তিনি তার সর্বশেষ বইয়ে লিখেছেন,২০০৮ সালের নির্বাচনে কিভাবে সেনাবাহিনী ম্যানুপু্লেশন করেছে। যাইহোক। জামাত বরাবরই দলকানা। দেশ তাদের কাছে কখনো বড় হয়ে ওঠেনি কখনো। না হলে.. বেগম জিয়াকে গৃহবন্দি করার পর স্বাভাবিকভাবে তিনি একটা কর্মসুচী ঘোষনা করেছিলেন.. সেটাকে বিধ্বংসি রুপ দিয়েছিলো.. জামায়াত। অথচ সেই দোষ এখনো বিএনপিকে বহন করতে হচ্ছে। বিএনপি যদি চুয়াত্তরের মতন জাসদ হতো, তাহলে না হয় একটা কথা ছিলো! জামাত যখন যেটা করেছে বা করছে সব নিজের দলের স্বার্থে দেশ তাদের কাছে কখনো মূখ্য ছিলোনা। যেমন অাওয়ামী লীগ তেমনি জামাত।


অার হেফাজত,কওমি মাত্রাসার সনদের জন্য কত চিল্লাইলো.. এই সনদ তো বিএনপির সময়ে সরকারীভাবে গেজেট করে দেওয়া হয়েছে,তাহলে এটা নিয়ে অার উচ্চবাচ্চের কি ছিলো।
অাজ হেফাজতের এই যে বড় বড় বুলি.. এসব অসার। কারন এদের অগুনতি কর্মির কারো কাছে দেশের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই! এসব অগুনতি ধর্মপ্রাণ ছেলে গুলোকে ধর্মিয় অাফিম খাইয়ে যে যার মত ব্যবহার করছে,এতদিন করেছেন অাহমদ শফি এখন করবেন অন্য কেউ! তাদের যদি নুণ্যতম নিজস্ব বিচারবোধ থাকতো তাহলে নিশ্চই শাপলা চত্ত্বরে সেদিনের সেই ঘটনার পর বসে থাকতো না। তাদের সমাবেশে শাসক দলের প্রধানমন্ত্রী সহসা শফি সাহেবের পাশে বসে পারতেন না।


দেশে অাজ একনায়কতন্ত্র চলছে.. এটা বোঝার বোধ বুদ্ধি শেখানো হয়নি,ওদের শুধু ধর্মিয় অাচার অাচরন শেখানো হয়েছে জাগতিক ক্রিয়াকলাপ, হিসেব নিকেষ কিম্বা মেরুকরণ তারা জানেনা। অার জানেনা বলে তাদের পুঁজি করে.. হোফাজতের নেতারা.. এখন ভাস্কর্য না মূৃতি এসব নিয়ে অান্দোলনের নামে দেশে একটা অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করছেন,যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এদেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের মনকে বিগড়ে দেয়া। মানে মূর্তি অার ভাস্কর্য্য ছাড়া দেশে অার কোনো সমস্যা নেই! কি অদ্ভুত! অামরা শুধু ফাঁদে পড়তে শিখেছি। ফাঁদ ছিড়তে বোধ করি শিখিনি.. সেটা শিখতে হবে, না হলে মুক্তি অসম্ভব!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *