ফাটাকেষ্টর ডায়েরি থেকে

ফাটাকেষ্টর ডায়েরি থেকে

… সফল মন্ত্রী হিসেবেই ‘পাবলিক পারসেপশন’ ছিল। সঙ্কট তৈরি হয় পরবর্তী নির্বাচনকে (২০০১) সামনে রেখে আমার (ওবায়দুল কাদের)  নিজের নির্বাচনী এলাকাকে ঘিরে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার ছোটভাই মির্জা বসুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান হবার পর পরই শত্রুতার ক্ষেত্র তৈরি হতে থাকে। মন্ত্রী না হতে পেরে ফেনীর জয়নাল হাজারী আমার উত্থানকে কখনো সুনজরে দেখেন নি।

একুশের বইমেলায় তার ‘বাঁধনের বিচার চাই’ বইটি বাংলা একাডেমীর কোনো স্টলে বিক্রির অনুমোদন না পাওয়ায় জয়নাল হাজারী তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন।স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার সামান্যতম যোগসূত্র ছিল না।

তবু জয়নাল হাজারী আমাকে ভুল বোঝেন এবং আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিষোদগার করেন। তার সিদ্ধান্তে আমার নির্বাচনী এলাকায় (কোম্পানীগঞ্জ-সদর পূর্বাঞ্চল) ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১১ দিন বাস চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় এলাকার হাজার হাজার লোক সীমাহীন দূর্ভোগের সম্মুখীন হন। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেও জয়নাল হাজারীর আক্রোশ থেকে রেহাই পাই নি।

ইতোমধ্যে আমার এলাকায় আঞ্চলিকতার হাওয়া তুলে প্রতিদ্বন্ধীতায় নামানো হয় একরামুল করিম চৌধুরীকে।ঢাকায় ক্ষমতাবান একটি মহলের ইন্ধনে আমি এলাকায় পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই।

শুনেছি, নোয়াখালীর দুই নেতা ভেতরে ভেতরে একরামকে আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধী হতে উৎসাহিত করেন।

ফেনী থেকে জয়নাল হাজারী নাকি তাকে সমর্থন করে উজ্জীবিত করে তোলেন। এরকম পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে নির্বাচন করার ইচ্ছাই পরিত্যাগ করি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছাকে আমি উপেক্ষা করতে পারিনি।

আমার সহকর্মী ও বন্ধু আবুল হাসান চৌধুরী অবশ্য শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

সেই থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাসান চৌধুরী সক্রিয় রাজনীতি থেকেও সরে পড়েন।

পয়লা অক্টোবরের পর আমিও কিছুদিন রাজনীতি ছেড়ে পড়াশোনায় ডুবে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার পক্ষে এই সিদ্ধান্তেও অনড় থাকা সম্ভব হয় নি নেত্রীর কারণে।

নির্বাচনের পরের দিন হঠাৎ করে একরামের ফোন। অপরপ্রান্ত থেকে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সে বলল : ‘কাদের ভাই, সরি, আমার ভুল হয়ে গেছে’। আমি বললাম : ‘ভুল তোমারও হয়েছে, আমারও হয়েছে। কাজেই এখন আর ওসব কথা বলে লাভ নেই’।

পরে অবশ্য সাবের চৌধুরী, বীর বাহাদুর, টুটুল ও আলাউদ্দিন নাসিমসহ কয়েক দিন বৈঠক করার পর একরামের সঙ্গে আমার সমস্যার অবসান ঘটে। বৈঠকে হানিফ ভাই ও বেলায়েত ভাইও সক্রিয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

একপর্যায়ে একরামকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার মতো বিরল ঘটনাও ঘটে যায়।

এতে নেত্রীর প্রথমটা আপত্তি থাকলেও পরবর্তী নির্বাচনী এলাকায় আমার ভবিষ্যৎ নিষ্কন্টক হবে মনে করে সম্মতি দেন।

এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদিও সঠিক হয় নি তবু ভোটের রাজনীতির কথা ভেবে শেখ হাসিনা বীর বাহাদুরসহ আমাদের অনেকের অনুরোধে সয় দেন। বিষয়টি শুধু নোয়াখালী নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *