তুমি মহারাজ সাধু হলে আমি অতিশয় চোর বটে!

তুমি মহারাজ সাধু হলে আমি অতিশয় চোর বটে!

:: মুজতবা খন্দকার ::

মামলার বিষয়ে দুলাল হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার গাড়িটা ওরা (পুলিশ) নিয়ে গেছে, নাম–ঠিকানা সব নিয়ে গেছে। শুনসি, ওরা (পুলিশ) মামলা একটা করছে।’ এজাহারে আপনার সই আছে, এ কথা জানানোর পর তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলসে, ভাই, আপনি সই দিয়ে যান। আমরা গাড়ির ব্যবস্থা করবানে। আমি একটা সাদা কাগজে সই দিয়ে এসেছি।’


এজাহারে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতারা গাড়ি পুড়িয়েছেন, ১১৪ জনের নাম লেখা আছে, এক নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্যদের চেনেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে দুলাল বলেন, ‘আমি তো ভাই কাউরেই দেখি নাই, কাউরেই চিনি না। কারণ হলো যে আমি তো স্পটে (ঘটনাস্থলে) ছিলাম না। ড্রাইভার, স্টাফ ছিল। ওরাও কাউরে চেনে না। পুলিশে কী করসে না করসে, কারে ধরসে, কার কাছ থেকে জবানবন্দি নিসে, এগুলা আমি বলতে পারি না।’


ওপরের কথাগুলো একজন বাস মালিকের।

প্রধানমন্ত্রী সেদিন সংসদে নিতাই রায় চৌধুরীসহ যাদের কথোপকথনেরর রেকর্ড সংসদে বাজিয়ে জাতিকে শোনালেন, সেটা অাদৌ তিনি করতে পারেন কি না,সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। কারে ব্যক্তিগত টেলিফোনে অাড়িপাতা তার মৌলিক অধিকারে হস্ত্ক্ষেপ। অামাদের সংবিধানে সেটা স্বিকৃত। অারো একটি বিষয়,সংসদে যার প্রবেশাধিকার নেই,যিনি এমপি নন,তাার সম্পর্কে সংসদে কোনো কিছু বলা হচ্ছে অসংসদীয়। য়েমন ২০০০ সালে জয়নাল হাজারী প্রথম অালোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক বিষোদাগার করেছিলো। প্রথম অালোর সম্পাদক সেটার ব্যাপারে তৎকালীন স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে বললে,তিনি সংসদীয় কার্যপ্রনালী থেকে এক্সপাঞ্চ করেছিলেন। যিনি সংসদে দাড়িয়ে নিজেকে ডিফেন্ড করতে পারবেননা,তাকে নিয়ে সংসদে কথা বলা অসংসদীয় অাচরণ বলে গণ্য করা হয়। কিন্কু এখনকার অদ্ভুতুড়ে সঙসদে সেটা মানার গরজ কোথায়।


গত বৃহস্পতিবার লড়াই সংগ্রামের নগরী ঢাকার রাজপথে হঠাৎ অনেকদিন পর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিন অাচমকাই রাজধানীর বিভিন্নস্থানে এক যোগে বেশ কিছু পাবলিক বাসে অাগুন ধরিয়ে দেয় দুবৃত্তরা। ঝটিকা সে সন্ত্রাসে হতচকিত হয়ে পড়েন রাজধানীর পথচারিসহ সবাই। নিস্তরঙ্গ রাজনীতিতে হঠাৎ একটা ছোটখাটো ঢেউ এর অাগাম সংকেত বলো মনে হয়। সেদিনই ছিলো ঢাকা ১৮ অাসন অার সিরাজগঞ্জ এক অাসনের উপনির্বাচন।হঠাৎ করে কেন এই দিনটিকে বাসে অাগুন দেয়ার জন্য বেঁছে নিলো কালপ্রিটরা.. অামাদের জানা নেই। এরপর কদিন ধরে চললো দুই বড় দলের দুই সেক্রেটারির বাহাস। অত:পর গত সোমবার সঙসদে মুখ খুললেন স্বয়ং সংসদ নেত্রী। তিনি জাতিকে জানালেন,গাড়ি যে বিএনপি পুড়িয়েছে,তিনি এবং তার সরকার সন্ধেয়াতীত নিশ্চিত। কারন সরকারেরর মেশিনারিজের কাছে,তার প্রমাণ অাছে,কি সে প্রমান,ভিডিও ফুটেজ। অারো অাছে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বয় রায়ের বিএনপির এক মহিলা নেত্রির কথোপকথন।


বিএনপির কর্মীদের মুরোদ,দেশের মানুষের ঢের জানা অাছে। তারা যদি এমন ধ্বংসাত্মক ক্যাডার পলিটিকস করতো.. তাহলে তাদের দুর্দশা এতদিন গড়াতো না। অামি অাগে বহুবার বলেছি,বিএনপি একটি কনভেশনাল রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতা পরবর্তি জাসদের মতন নয়, যারা থানা লুট করতো, অর্তকিতে হামলা করতো, মুজিব শাসনকে তটস্থ করে তুলেছিলো এই জাসদ। বিএনপি তেমন দল নয়,হতে কখনো পারবেনা। তাদের রাজনীতি করতে হবে,নির্দিষ্ট ডিসিপ্লিন মেনে। তারা তাই করে। অার গত একযুগে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর যেভাবে স্টিম রোলার চালানো হয়েছে, তার পর তারা এধরনের মানে প্রকাশ্যে বাসে অাগুন দেবে,এটা রাজনীতিতে যিনি নবিশ তিনিও বিশ্বাস করবেনা। বরং অাওয়ামী লীগ,যুবলীগের অামার যারা বন্ধু, এক সাথে ছাত্রজীবন থেকে উঠাবসা করি,তারা নানা সময়ে অাড্ডা অথবা খোশ গল্পের সময় প্রায় টিপ্পনি কেঁটে বলে,বিএনপি অান্দোলন কাকে বলে সেটা অামাদের মতিয়া অাপা,মায়া চৌধুরীর কাছ থেকে শিখতে পারে…! এরকম কুসুম কুসুম অান্দোলন দিয়ে অাওয়ামী লীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহি দলকে বিব্রত কিম্বা চাপে ফেলতে বিএনপিকে অারো একশো বছর জন্মাতে হবে। অামি এরকম যারা বলেন,সেই বন্ধুদের অাত্মবিশ্বাসকে সমিহ করি, বাস্তবতা কিন্তু তাই। একটি অাসনের উপ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে যারা দেশের চরিত্র বদল করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। অথচ দু’দুইবার দেশের মানুষের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকার পরও তারা মামুলি বাস পুড়িয়ে দেয়ার মামলা দিয়ে বিএনপিকে পেরেশানিতে রাখে.. অামি ভাবি,এই অবস্থার বিপরীত চিত্র যদি হতো। মানে বিরোধী দলে অাওয়ামী লীগ,বিএনপি ভোট চুরি করে দুদুবার ক্ষমতায়! না না! এটা ভাবতেও ভয় লাগে!


অামার মনে পড়ে,মাগুরা একটি অাসনের নির্বাচনের পর, যতদুর মনে পড়ে সালিমুল হক কামালের অাসনের, একটা অনিয়ম ধরা পড়ার পর,অাওয়ামী লীগ এবং জামায়াত মিলে দেশে যে হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। সেটা এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেননা। তারা নজীরবিহিনভাবে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে রেকর্ড করেছিলেন। অার সেটা ছিলো বাজে দৃষ্টান্ত। সেই সময় সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ অান্দোলন করে যেভাবে নাশকতার সৃষ্টি করেছিলো, সেটা ছিলো,মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পর দেশে বড় কোনো ডিজাষ্টার। অামার মনে পড়ে,অফিসগামী সরকারী কর্মকর্তাদের কিভাবে হেনস্থা করেছিলো। অালম নামে ছাত্রলীগের একজন কর্মী দোয়েল চত্ত্বরে একজন সরকারী কর্মচারীর প্যান্ট খুলে ফেলেছিলেন। ডেইলিস্টারের একটা কার্টুন এখনো চোখে ভাসে,কার্টুনে দেখানো হয়েছিলো,প্যান্টে তালা লাগিয়ে একজন সরকারী কর্মকর্তা অফিসে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা বিরোধী,মখা,অালমগিরেে নাম এখানে বলতে চাই না,তার তথাকথিত জনতার মঞ্চ হচ্ছে দেশের অামলাতন্ত্রেরর বুকে শেষ অাঘাত। সে যে কত বড় ক্ষতি করেছে,একদিন প্রবীন অামলা অাকবর অালী খান কথা প্রসঙ্গে অামাকে বলেছিলেন। তার লেখা গ্রেশাম’স ল সিনড্রোম অ্যান্ড বিয়ন্ড, অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশ ব্যুরোক্রেসি” অামাকে পড়ার জন্য দিয়েছিলেন।

সেই সময়ের পত্রিকার অারো একজন ছাত্রলীগ নেতার ছবি এসেছিলো,যার নাম আনজাম মাসুদ। যিনি তখন ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক। অামার বন্ধু ছিলেন। একদিন তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেছিলেন পরে বলবেন। দীর্ঘদিন তিনি পা্র্টির নির্দেশে নিরুদ্দেশ ছিলেন। দুবছর পর রাজধানীতে ফিরলেও অার রাজনীতি করেননি। ট্র্যাক চেঞ্জ করেন, টেলিভিশনে আজকাল ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করেন, বিয়ে করেন রোমানা নামের এক তরুনীকে। যিনি এ্যারোমেটিক সাবানের মডেল ছিলেন। পরবর্তীতে সিনেমায় যান। তার সাথেও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সেটা যাইহোক, অান্জামের সাথে এখনো অার অামার বন্ধুত্বের সম্পর্ক নাই। কারন তার ভাষায় অামি ঠোট কাটা মানুষ। কিন্তু টকিং টার্মস বোধ করি অাছে।


যাইহোক যা বলছিলাম, বিএনপি সেদিন বাসে অাগুন দিয়েছে,এটা অামি বিশ্বাস করতে চাই,কিন্তু কেন জানি অামার দ্বিধা কাজ করছে,সেটা কিসের জন্য জানিনা। বিএনপি হচ্ছে ঈদের পর অান্দোলেনর দল। দেশের সবচেয়ে বিপুল জনপ্রিয় নেতা হচ্ছেন খালেদা জিয়া। তাকে গ্রেফতারের পর যখন বিএনপি কিছু করতে পারেনা,তখন কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি বাসে অাগুন দেবে! এটা বিশ্বাস করতে অামার ভরসা হয়না।


তবে, অাওয়ামী লীগের একটা সংবাদ সম্মেলন অামার মনে পড়ে,বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি পংকজ দেবনাথের বিরুদ্ধে তার এলাকার অাওয়ামীলীগ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন,তিনি তার বিহঙ্গ পরিবহনের একটি গাড়িতে অাগুন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেন? প্রধানমন্ত্রীর সিমপ্যাথি পেতে। পংকজ দেবনাথ পরিবহন ব্যবসায়ী এবং বিহঙ্গ পরিবহন তার মালিকানাধিন। পংকজদাকে অামি ক্যাম্পাস থেকে চিনি, জানি। সে অনেকদিন অাগের কথা! এখন হয়তো অামাকে তিনি চিনবেননা। একজন ছাপোষা সাংবাদিককে চিনতে তার বয়েই গেছে..!


প্রধানমন্ত্রী সেদিন সংসদে নিতাই রায় চৌধুরীসহ যাদের কথোপকথনেরর রেকর্ড সংসদে বাজিয়ে জাতিকে শোনালেন, সেটা অাদৌ তিনি করতে পারেন কি না,সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। কারে ব্যক্তিগত টেলিফোনে অাড়িপাতা তার মৌলিক অধিকারে হস্ত্ক্ষেপ। অামাদের সংবিধানে সেটা স্বিকৃত। অারো একটি বিষয়,সংসদে যার প্রবেশাধিকার নেই,যিনি এমপি নন,তাার সম্পর্কে সংসদে কোনো কিছু বলা হচ্ছে অসংসদীয়। য়েমন ২০০০ সালে জয়নাল হাজারী প্রথম অালোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক বিষোদাগার করেছিলো। প্রথম অালোর সম্পাদক সেটার ব্যাপারে তৎকালীন স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে বললে,তিনি সংসদীয় কার্যপ্রনালী থেকে এক্সপাঞ্চ করেছিলেন। যিনি সংসদে দাড়িয়ে নিজেকে ডিফেন্ড করতে পারবেননা,তাকে নিয়ে সংসদে কথা বলা অসংসদীয় অাচরণ বলে গণ্য করা হয়। কিন্কু এখনকার অদ্ভুতুড়ে সঙসদে সেটা মানার গরজ কোথায়।


অার নিতাই রায়কে অামি যতদুর জানি.. তিনি একজন অাইনজীবী। দীর্ঘদিন সুপ্রিমকোর্টে প্র্যাকটিস করেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে এমন কিছু করেছেন তার নজির কেউ দেখাতে পারবেন না।
তাই বলি, তুমি মহারাজ সাধু হলে অামি অতিশয় চোর বটে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *