জয়তু তারেক রহমান!

জয়তু তারেক রহমান!

:: মুজতবা খন্দকার ::

অাধুনিক বাংলাদেশের রুপকার জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা করি,পছন্দ করি। তার পুত্র হিসেবে তারেক রহমান। সংগতকারনে তার প্রতি এদেশের অযুৎকোটি মানুষের অনেক অনেক প্রত্যাশা। রাজনীতির হাতে খড়ি হয়েছিলো, খুব কম বয়সেই। তিনি চাইলেই হইতো রাজনীতির কন্টাকীর্ন পথ বেছে না নিয়ে বিলাসি জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু তারেক রহমান জেনেশুনে বিষপান করেছেন। তিনি মসৃন পথ নয়, রাজনীতির অাঁকাবাকা জন্ঝা বিক্ষুদ্ধ পথে পা বাড়িয়েছেন নিজের ইচ্ছেতেই। অভিষেকে বরমাল্য পাননি দল থেকে কিম্বা দলের বাইরে থেকে কেউ থাকে শুভ কামনা জানায়নি। কিন্ত রক্তের প্রবহমান ধারার অনিবার্য পরিনতিতে তিনি এখন একটি বড় দলের শীর্ষ রাজনীতিক। যখন শুরু করেছিলেন, তখন তার দল ক্ষমতাসিন ছিলোনা.. তিনি তখন দলের প্রয়োজনে মাঠে নেমেছিলেন। যারা জাতীযতাবাদী চিন্তাচেতনায় বিশ্বাসী তারা জিয়ার উত্তর প্রজন্ম হিসেবে তাকে সাদরে গ্রহন করেছিলো। কিন্তু গ্রহন করতে দ্বিধান্বিত ছিলো সেইসব রাজনীতিক,যারা সেকেলে,যারা একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত নন। তারা বুটিশ,পাকিস্তানি অামলের তথাকথিত টিপিক্যাল রাজনীতিতে বিশ্বাসী। যারা রাজনীতিতিতে নতুন প্রানের সঞ্চার হোক সেটা চাননি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পরও সরকারের অংশীদার হননি। চাননি তথাকথিত সরকারের উপদেষ্টার পদ অলংকৃত করে,জাতিকে মিথ্যে স্বপ্ন দেখাতে। তিনি বেঁছে নিয়েছিলেন দল পুর্নগঠনে। দলের নেতাকর্মীদের জাগিয়ে তুলতে। দেশের নিরন্ন খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা নিজ চোখে দেখতে.. চেষ্টাও করেছিলেন,একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির পুত্র অাটষট্টি হাজার গ্রাম বাংলা ঘুরেছেন.. কথা বলেছেন,দেখা করেছেন এদেশের যারা প্রান সেই মেহনতি মানুষের সাথে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তার সমালোচকদের অভিযোগ তিনি দলীয় অফিসে বসেননি!

এদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের যেমন কোনো বিকল্প ছিলোনা.. তার ঊত্তরসুরী হিসেবে তারেক রহমান সেই পথেই হাটছিলেন, কিন্ত হিন্দুস্থানের চক্রান্ত বিশেষ করে প্রয়াত প্রনব মুখার্জির ষড়যন্ত্রে মঈন, ফখরুদ্দিনের সরকার তারেক রহমানসহ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি শেষ করে দিতে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সাথে যে অমানবিক অাচরণ করেছিলো, সেটা ছিলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

হাওয়া ভবন নামে নতুন একটি অফিস সৃষ্টি করেছেন। অামি এটাকে কখনো বড় করে দেখিনি,দেখতে চায়নি। তিনি যদি দলের প্রয়োজনে নতুন একটি অফিস নেন,তাতে কি অার এমন ক্ষতি.. এটাকে রঙ চড়ানোর কি অাছে।


তারেক রহমান তার রাজনীতির প্রথম তিন কি চার বছরে নিজেকে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যে কাজে কর্মে তিনি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি। অার এটাই ছিলো তার সমালোচকদের সবচেয়ে বড় ঈর্ষার কারণ। তখন থেকেই তারা তাঁর চরিত্র হননের পথে যায়। সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হচ্ছে.. এ দেশের গণমাধ্যম। তারা শুরুতেই বৈরীতার পথে হেটেছে.. তারা তারেক রহমানের গিবত গেয়েছে কিন্তু কখনো তাকে সুপরামর্শ দেয়নি.. অামি জানি দেশের অনেক প্রথিতযশা সম্পাদক তার কৃপা পেতে দিনের পর দিন ধর্না দিয়েছেন.. যাদের কেউ কেউ জীবিত কেউবা মৃত অথচ তাদের পত্রিকার পাতায় তারেক রহমানকে কখনো বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি। তাঁর সঙ্গে নিষ্টুর অাচরন করেছে।


তারেক রহমান জিয়ার যোগ্য বিকল্প এটা জানে,বোঝে বলেই বোধ করি, ক্ষমতাসীন সরকার তারেক রহমানেন জুজু থেকে অাজো মুক্ত হতে পারেনি। কোথাও কোনো দেশে এমন অাছে,যে সেদেশের শীর্ষ রাজনীতিকের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা যাবেনা বলে স্বয়ং কোর্ট এমবার্গো দিয়েছে..! এ দেশের অাদালত সেটাই করেছে.. এগুলো হচ্ছে ক্ষমতাসিন দের ক্ষমতা পোক্ত করার কৌশল ছাড়া অার কিছু নয়।


এদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের যেমন কোনো বিকল্প ছিলোনা.. তার ঊত্তরসুরী হিসেবে তারেক রহমান সেই পথেই হাটছিলেন, কিন্ত হিন্দুস্থানের চক্রান্ত বিশেষ করে প্রয়াত প্রনব মুখার্জির ষড়যন্ত্রে মঈন, ফখরুদ্দিনের সরকার তারেক রহমানসহ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি শেষ করে দিতে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সাথে যে অমানবিক অাচরণ করেছিলো, সেটা ছিলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।


তার ব্যক্তিগত অফিস হাওয়া ভবন নিয়ে কত মিথ সৃষ্টি করেছিলো তখনকার বিরোধী দল,অার তাতে হাওয়া দিয়েছিলো এখনকার ক্ষমতাসিন দল। কিন্তু তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কিছু কি প্রমান করা গেছে
বরং এক বিচারপতি তারেক রহমানকে একটি চাঁদাবাজির মামলায় কেন বেকসুর খালাস দেয়া হলো, সব রোষ পড়লো ব্যাচারা বিচারকের ওপর,তাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়া করা হলো! চাঁদাবাজির মামলা তো বর্তমান প্রধানমন্ত্রির বিরুদ্ধেও হয়েছিলো,প্রাইম ব্যাংকের অাজম জে চৌধুরী করেছিলো। কিন্ত অামি বিশ্বাস করিনি শেখ মুজিবের কন্যা চাঁদাবাজি করতে পারে! এটা অবিশ্বাস্য!


অার বিএনপির সেই অামলে এক লাখ থেকে কোটি টাকার দুর্নীতির কথা বলা হয়,যার সাথে তারেক রহমানের কি কোনো সম্পর্ক ছিলো কিম্বা অাছে,সে কা সরকারের কোন পর্যায়ে ছিলেন।


যদি বলতেই হয়,এখন তো ঘরে ঘরে এক একটা ভবন। শত কোটি,হাজার কোটি ছাড়া দুর্নিতির কোনোা কথা শুনিনা। অামাদের গণমাধ্যম,এসব লেখে, লেখেনা তা বলবোনা। কিন্তু এমনভাবে লেখে যেন এসবের সাথে সরকারের দুরতম কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার হচ্ছে ধোয়া তুলসি পাতা!


অামি বলছিনা,যে তারেক রহমান কোনো ভুল করেননি, তারেক রহমানও মানুষ,তিনিও ভুল করেছেন। যখন তার বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগের ডালা সাজিয়েছিলেন,তখন তিনি নবিশ রাজনীতিক,কতইবা তার বয়স। তবে এটা ঠিক,তিনি যাদের সৃহৃদ বলে নিজের অাস্থায় নিয়েছিলেন,তারা সবাই তার শুভাকাঙ্ক্ষী কিনা অামি জানিনা।অামার সন্ধেহ হয়। বলতে দ্বিধা নেই,অামি কখনো হাওয়া ভবনে যাইনি,এমনকি কখনো তার সাথে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলা হয়নি।তবে অামার কাছের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বান্ধবদের বেশীরভাগ তার সাহচর্য পেয়েছেন। সেই জন্য বলি,অাজ তারেক রহমানের ভাবমুর্তি, সেটার ঔজ্জ্বল্য অারো বাড়াতে পারতেন তিনি। তিনি তার পরামর্শক চিনতে ভুল করেছিলেন। যারা তার চারপাশে ঘুর ঘুর করতো তারা ছিলো স্বার্থান্বেষী। তারা ছিলো মোসাহেব। তাদের কারো মধ্যে তিনি যখন কোনো ভুল করছেন,সেটা জোর গলায় তাকে সতর্ক করার সৎ সাহস করেনি।


তারেক রহমানকে অামি এখনো পছন্দ করি,বিশ্বাস করি, অামি মনে করি জিয়াউর রহমানের ছেলে হিসেবে তিনি বাংলাদেশের যোগ্য কান্ডারি। অার সেই জন্য তাকে মোসাহেবদের বলয় থেকে বেরুতে হবে,প্রকৃত বন্ধু, দেশ প্রেমিকদের চিনতে হবে। অামার বিশ্বাস এতদিনে সেটা তিনি চিনেছেন,বুঝেছেন।

জয়তু তারেক রহমান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *