জনগনের করের টাকার অপচয়ের নাম উন্নয়ন!

জনগনের করের টাকার অপচয়ের নাম উন্নয়ন!

:: মুজতবা খন্দকার ::

স্মার্ট এনআইডি কার্ড সরবরাহ করতে প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ৪০টি দেশে যাবেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। এ জন্য এক শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একনেকের এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী । বুঝলাম,ঘাস কাটা,কিম্বা পুকুর কাটার প্রশিক্ষণ নিতে অামলাদের বিদেশ সফরের খবরে নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সচিবালয়ের অামলারা অালজিভ বের করে লোল ফেলছিলো.. বলছিলো ইস! যদি অামরা অাগারগাও এর এই ভবনে বন্দি না হতাম! তাহলে অামরাও সুযোগ পেতাম! সুযোগটা হাতছাড়া হলো বলে যারা বুক চাপড়াচ্ছিল। তাদের মনের কথা বুঝতে পেরেছিলো বোধ করি জাতীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক নির্বাহি কমিটি একনেক! তাদের বিদেশে প্রমোদ ভ্রমনের জন্য তাই ঘোষণা করা হলো একশো কোটি টাকা! এখন ইসির কর্মকর্তাদের গিন্নিদেরও দিলখুশ। এখন তারা বসবেন…বিদেশ থেকে কি কি অানাতে হবে ফর্দ তৈরী করতে!

এই যে একনায়কতন্ত্র চলছে দেশে, এ নিয়ে দেখেছেন কোনো সংস্কৃতিকর্মীর কোনো একাংক কিম্বা কোনো নাটক কিম্বা নাটিকা মঞ্চস্থ করতে! সবাই কি তাহলে ক্ষমতার পুজারি! ভেবে পাইনা।সমাজে যারা এখন বিবেকের যারা ঠিকাদারি নিয়ে বসে অাছেন.. তারা এখন কোন নেশায় অাছেন অথবা কোন নেশা তাদের পেয়ে বসেছে অামি জানিনা। অামাকে অনেকেই বলেন,অাপনার লেখা বিএনপির পক্ষে যায়। অামি তাদের অভিযোগ কবুল করে বলি। অাজ যদি বিএনপি অাওয়ামী লীগের মতন এমনভাবে জনগনের সাথে প্রতারনা করে ক্ষমতায় থাকতো, অামার, ভয়েজ ঠিক একই টোনে উঠানামা করতো। কারন অামি বিএনপির বেনিফিশিয়ারী নই। অামি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদেরর একজন অনুরাগি মাত্র। বিএনপির যারা বেনিফিশিয়ারী এখন কোথায় তারা? তারা কি বিএনপিকে অন করে কিছু লিখেন,অামার জানা নেই,তারা সবাই এখন জীবনানন্দ দাস! হয়ে অাছেন,ঘাস,ফুল,পাখি নদী এখন তাদের লেখার উপজিব্য! অামি অাবারও বলছি,অামি কোন দল করিনা। অামি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশেরর পক্ষে কথা বলি,বলতে চাই। সেটা অাওয়ামী লীগের বিপক্ষে যদি যায়,তাতে অামার কি কসুর!


দেশটা যে। সামরিক,বোসামরিক অামলাতন্ত্রের হাতে বন্দি, সেটা তো ঢের অামাদের জানা। তাই বলে, জনগনের করের টাকার এমন অপচয়। ভাবতে পারেন!এরই নাম কি উন্নয়ন! একদল ঘাস কাটার প্রশিক্ষন নিতে যাবেন বিদেশে অারেকদল হামলা পুকুর কাটা দেখতে! প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এ হেন খরচের মচ্ছব অামরা শুনছি,জানছি। অথচ সবাই অামরা নির্বাক। তাহলে কি অামাদের অালজিভ সরকারের কাছে অামরা বন্ধক রেখেছি,যে অামাদের মুখে টু শব্দটি পর্যন্ত নেই!


অামাদের দেশে একসময় সিভিল সোসাইটির একটা গুরুত্ব ছিলো। বিশেষ করে অাজকের সরকারী দল যখন বিরোধী দলে ছিলো। তখন সেই সময়ের সরকারের চুন থেকে পান খসলে তারা সরব হতো। কিন্তু গত এক যুগে দেখেছেন কিম্বা শুনেছেন তাদের কোনো ভয়েস।গণতন্ত্রহীনতার সাথে এদেশের মানুষের বসবাস। মৌলিক অধিকার বলতে গেলে তাদের নেই.. এই যে একনায়কতন্ত্র চলছে দেশে, এ নিয়ে দেখেছেন কোনো সংস্কৃতিকর্মীর কোনো একাংক কিম্বা কোনো নাটক কিম্বা নাটিকা মঞ্চস্থ করতে! সবাই কি তাহলে ক্ষমতার পুজারি! ভেবে পাইনা।সমাজে যারা এখন বিবেকের যারা ঠিকাদারি নিয়ে বসে অাছেন.. তারা এখন কোন নেশায় অাছেন অথবা কোন নেশা তাদের পেয়ে বসেছে অামি জানিনা।
অামাকে অনেকেই বলেন,অাপনার লেখা বিএনপির পক্ষে যায়। অামি তাদের অভিযোগ কবুল করে বলি। অাজ যদি বিএনপি অাওয়ামী লীগের মতন এমনভাবে জনগনের সাথে প্রতারনা করে ক্ষমতায় থাকতো, অামার, ভয়েজ ঠিক একই টোনে উঠানামা করতো। কারন অামি বিএনপির বেনিফিশিয়ারী নই। অামি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদেরর একজন অনুরাগি মাত্র। বিএনপির যারা বেনিফিশিয়ারী এখন কোথায় তারা? তারা কি বিএনপিকে অন করে কিছু লিখেন,অামার জানা নেই,তারা সবাই এখন জীবনানন্দ দাস! হয়ে অাছেন,ঘাস,ফুল,পাখি নদী এখন তাদের লেখার উপজিব্য! অামি অাবারও বলছি,অামি কোন দল করিনা। অামি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশেরর পক্ষে কথা বলি,বলতে চাই। সেটা অাওয়ামী লীগের বিপক্ষে যদি যায়,তাতে অামার কি কসুর!


গত বারো বছরে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দেশে নেই কোনো সেই অান্দোলন,নেই কোনো অরাজকতা! তারপরও কেন দেশ অাজ পরনির্ভর। কেন কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের রিজার্ভ লুট, পছন্দের লোকদের ব্যাংকেের লাইসেন্স দেবার পর,অত;পর সেই ব্যাংকের অামানত শেষ। এরপর তার নাম পরিবর্তন করে ব্যাংকের নাম চেঞ্জ এটাকি এই দেশে হয়েছে কখনো? এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বললে যদি অামি বিএনপি হই,তবে বিএনপি।


এটাতো ঠিক, বিএনপির নূন্যতম একটা চক্ষুলজ্জা ছিলো.. কিন্তু এই সরকারেের কি সেটা অাছে?
প্রধানমন্ত্রির বেসরকারী উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা যার বিরুদ্ধে শেয়ার বাজার এবং ঋন খেলাপির অভিযোগ অাছে, এমন কাউকে বিএনপির প্রধানমন্ত্রী যদি উপদেষ্টা করতো,তখন কি তাকে ছেড়ে কথা বলতো,দেশের তথাকথিত সুশীল ও গণমাধ্যম? করোনাকালে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী,তার সবটুকু নিতে পেরেছে কেবলমাত্র বেক্সিমকো গ্রুপ..! এটাও নিয়েেও কি কারো কোনো কথা অাছে.. নাই!


অামি গণতান্ত্রিক একটা বাংলাদেশ চাই। কিন্তু দেশের কোনো সংগঠনে কি কোনো গণতন্ত্র অাছে! .
সেদিন কোন একটি চ্যানেলে টকশো দেখছিলাম, বিষয় ছিলো, ব্যবাসায়ী সংগঠন গুলোতে কেন নির্বাচন হচ্ছেনা। অামি হাসলাম, যেখানে সরকার স্বনির্বাচিত। সেদেশে বিজনেস বডিতে গণতন্ত্রের কথা বলা,সোনার পাথর বাটির মতন শোনায় না কি!


এফবি সিসি অাইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে করিম ফাহিম। ভেবে দেখুন, শেখ পরিবার এখন শণৈ শণৈ কত উন্নত করেছে,তিনি অাবার শেখ ফজুলল করিমের পুত্র,তাকে অাবাার যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ বনিক সস্প্রদায়ের সভাপতি শেখ পরিবারের। দেশে কি অারো কেউ ছিলোনা,বংশ পরম্পরায় সবাই সব কিছু হয়! শেখ ফজলে ফাহিমের পরম্পরা কি ব্যবসায়ী? রাজনীতিক হলে বলার কিছু ছিলোনা! ভাবনার অবকাশ অাছে বই কি!

শুরু করেছিলাম, ইসির কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বরাদ্দ নিয়ে..। সেটা সস্পর্কে বলি, অামাদের দেশের অাইনে প্রবাসীদের ভোট দেবার বিধি প্রচলন হয়েছে কি? কত লোক বিদেশে থাকেন, তাদের সম্পর্কে জানতে কিম্বা তাদের পূর্নাঙ্গ ডিটেইলস নিতে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের কিম্বা সংশ্লিষ্ট দেশের দুতাবাসের মাধ্যমে করা কি সম্ভব ছিলোনা! এর জন্য রাষ্ট্রের একশো কোটি টাকা খরচ করতে হবে!
এই সরকারের কাছে টাকা কোনো টাকা বলে মনে হয়না। পদ্মা সেতু প্রকল্প,কিম্বা মেট্রো রেল প্রকল্পের বাজেট শেষতক কোথায় গিয়ে পৌছুবে অাল্রাহ মালুম! অথচ কেউ জানেনা। সবাই শুধু সেতুর স্প্যান বসলো কি বসলোনা,সেটা নিয়েই উদগ্রিব। অাফিম খাওয়া জাতি বলে কথা! কোনো দেশে কখনো শুনেছেন,কোনো সেতুর প্রতিটা পিয়ারের পরে স্প্যান বসলো কি বসলো নি,সেটা নিয়ে গণমাধ্যমের এমন উচ্ছ্বাস! যমুনা সেতুর সময়ে কি এমন হয়েছে? অামার জানা নেই। ওই সেতু করেছিলো ৯১ এর বিএনপি সরকার! ৯৮ সালে অ্রথবা ৯৯ সালে সেটার উদ্ধোধন করেছিলেন শেখ হাসিনা। অামি অাজকের কাগজ থেকে সেটার উদ্ধোধনী অনু্ষ্ঠান কাভার করতে গিয়েছিলাম। অামার মনে পড়ে অামরা যখন ফেরীতে চড়ে টাঙ্গাইলের (ওই জায়গাটার নাম এই মুহুর্তে মনে পড়ছেনা)তখন ফেরীর লোকজনের সে কি উল্লাস! শেষ ফেরীর যাত্রী। ইতিহাসে তারা স্মরণীয় হবেন এই ভেবে।

শুধু এটুকু বলি,গিমিক,দিয়ে, মুখের বাণী দিয়ে কিছু হয়না! কেউ চীরতরে ক্ষমতায় থাকেনা। থাকলে পুরানের সেই ঈগলের জন্যেও অাফসোস করতোনা! যে কিনা.. অামৃত্যু ক্ষমতায় খাকার বাসনা করেছিলো। গল্পটা সবার জানা বলেই দ্বিরুক্তি করছিনা। শুধু বলি..
অাচ্ছা,হ্যাম চলতে হ্যায়..ফির কাব মিলুঙ্গি..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *