বিএনপির দরকার ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি

বিএনপির দরকার ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি

:: মুজতবা খন্দকার ::

রাজনৈতিক দল হিসেবে,এখনো কেন বিএনপি ভেদবুদ্ধিসম্পন্ন সম্পন্ন হতে পারলো না। এটা রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অপরিপক্বতা না কি বালখিল্যতা অামি জানিনা। বেগম জিয়া কার্যত এখন রাজনীতিতে থেকেও নেই..। শাসকদলের ষড়যন্ত্রের শৃংখলে তিনি রাজনীতির মাঠে কেবলি অতীত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো যারা শৃংখলবিহীন অাছেন,তারা কিভাবে বিএনপি নামের একটি রাজনৈতিক দলকে পরিচালনা করেন,বা করছেন,সেটা দেখার অাগ্রহ বোধ করি সবার অাছে। ইভেন শাসকদলের নেত্রিরও সেই কৌতুহল অাছে।

শুধু সুবচন দিয়ে কোনো পরিবর্তন অাসেনা, এরজন্য প্রয়োজন গায়েগতরে কিছু করা.. বিএনপি কি একজন মতিয়া চৌধুরীর খোঁজ পাবে.. যিনি কথায় কথায় রাজপথে শেখ হাসিনার জন্য জীবনপন করেছেন.. অাবার সেই তিনি মুজিবের মৃত্যুকে তিনি সেলিব্রেট করেছেন। দরকার অাছে,বহুত দরকার অাছে। ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির..


রাজনীতির কোনো পরীক্ষায় কখনো কেউ কখনো খালেদা জিয়াকে টপকে যেতে পারেননি,এমনকি তিনিও নন। গৃহবধূ থেকে দেশের বিপুল জনপ্রিয় একটি দলের শীর্ষ নেতার দায়িত্ব নিয়েও তিনি খেই হারিয়ে ফেলেননি,ধীর,স্থির শান্ত অথচ প্রয়োজনে কঠোর কঠিন হয়েছেন। কিন্তু কখনো দলকে বিব্রত করার মত কাজ তার রাজনীতিক জীবনে করেছেন,এমন নজির তার শত্রুরাও দেখাতে পারবেনা।


নব্বইযে এরশাদবিরোধী অান্দোলনে তার সেই অতুঙ্গ সাহস, গতিশীল নেতৃত্ব, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন তাকে দিয়েছে অাপোসহীন মর্যাদা। যেকারনে ধূূত এরশাদের জালকে বার বার ছেড়ে ফুড়ে তিনি ঠিকই সামিল হয়েছেন জনতার কাতারে..বেঈমান,বিশ্বাসঘাতক,সুবিধাবাদির তকমা তার গায়ে কখনো অাচড় দিতে পারেনি.. নিজের নীতি,অাদর্শে কাজে এবং কর্মে অবিচল ছিলেন বলেই,একানব্বইতে জনগন তাকে দিয়েছিলো জয়ের মালা। হয়েছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রি। এদেশে কেন বোধ করি দক্ষিন এশিয়ারও..


দুর্ভাগ্য জাতির, হিন্দুস্থানের ষড়যন্ত্রে অাজ তাকে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে। একজন রাজনীতিক তিনি অামৃত্যু রাজনীতিক। দেশের মানুষের যেকোন সংকটে তিনি কথা বলবেন,অভয় দেবেন,সাহস দেবেন। কিন্তু বেগম জিয়ার সে অধিকার অাজ হরণ করা হয়েছে.. এটা বাংলার মানুষের জন্য একটা ট্রাজেডি ছাড়া অার কিছু নয়।


বলছিলাম, বিএনপি নামক বিপুল জনপ্রিয় এই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক শক্তিকে কে নিয়ন্ত্রন করে সে বিষয়টি নিয়ে। কথাটি পাড়লাম নাট্যভিনেতা অালী যাকেরের মৃত্যুতে বিএনপির শোকে মুহ্যমান দেখে! হাসি পেলো! সেই জন্য বলি দলটা এখন কে চালায়,পলিসি মেকার কারা.. সেটা জানতে চাই… অালী যাকের নামক একজন শাসকদল সমর্থিত অালোকিত ভাড়ের মৃত্যুতে বিএনপির কিএমন এসে যায়। বিএনপির রাজনীতির কখনো সে কি নূন্যতম শুভ কামনা জানিয়েছিলো.. কিম্বা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করতে শিল্পী,কুশিলবদের নিয়ে সে ছিলো অাসাদুজ্জামান নূরের হরিহর অাত্মা! তাহলে বিএনপির নেতৃত্ব এখন কোন বিম্বিসায় অাক্রান্ত!


বেশীদুর যাবোনা। এই তো বছর দুয়েক অাগে মারা গেলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ভাই। তাঁর মত নিপাট ভদ্রলোক,সাদাকে সাদা, কালোকে কালো প্রকাশ্যে বলতে পারার হিম্মত এখন কোন পেশাজীবীর মধ্যে অাছে। কিন্তু তার মৃত্যুতে শাসককুলেরর কাউকে তো দেখিনি সামান্য কনডেোলেন্স টুকু জানাতে। শাসকদলের প্রধানমন্ত্রীর কথা না হয় বাদ দিলাম,দলের দফতর সম্পাদককেও তো দেখলামনা এক লাইন লিখতে। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তখন ছিলো কেবল তাঁর নিন্দাবাদ! অথচ মাহফুজ উল্লাহ ভাইয়ের অল থ্রু ক্যারিয়ারটা নিয়ে যদি অামি পোষ্টমর্টেম করতে বসি.. তবে তার সমকক্ষ এই ইহধামে অাছেন এমন কারো সাথে তুলনা করতে পারবোনা।


তবুও তিনি মৃত্যুতে রাষ্ট্রের কোনো নুন্যতম সহানুভূতি পাননি। উদহরন দিলে অারো অাসে, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার ও সংস্কৃত ব্যক্তিত্ব মুক্তিযোদ্ধা চাষী নজরুল ইসলাম যখন মারা যান.. তাদেরও রাষ্ট্র যথাযথ সম্মান জানায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নূন্যতম শোক প্রকাশের সৌজন্যতাটুকু দেখায়নি.. তাহলে বিএনপির একজন তথাকথিত অালোকিত ভাড়ের জন্য এত সৌজন্যবোধের এত কি এমন দায় ছিলো অামার জানা নেই!

এক সময় মস্কোপন্থি কমিউনিষ্ট সেজেছিলেন,কিন্তু অাপদমস্তক একজন ক্যাপিটালিষ্ট! সুবিধাবাদি, ফ্যাসিস্ট মনোভাপন্ন একজন নাস্তিকের বিদায়ে দল হিসেবে বিএনপির শোক বিবৃতি অামার কাছে বেমানান লাগে। তাই ক্ষেদের সাথে বলি বিএনপিকে এখন কে চালায়!

সন্ধ্যায় একাত্তর টিভির টকশো দেখছিলাম। অামি সাধারনত এসব বাকোয়াজ দেখিনা। (কিন্ত নাজনীন মুন্নী যাকে অামি একসময় পছন্দ করতাম, সে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করছিলো) এই অনুষ্ঠানে অতিথির মধ্যে ছিলেন নাসির উদ্দীন বাচ্চু।যিনি খান অাতাউর রহমানকে রাজাকার বলে তীব্র সমালোচিত হয়েছিলেন। তিনি বললেন,শেখ মুজিব অামাদের জাতির পিতা। অনেকে বলেন, এখন তার ভাস্কর্যের অনেকে বিরোধীতা করছে, সরকার কেন কিছু বলেনা। বাচ্চু বললেন,সরকারের অনেক সমীকরণ অাছে,অামাদের কোনো সমীকরন নেই। অামরা জাতীর পিতার বিরুদ্ধে যারা বলবে.. তারা সাম্প্রদায়িক.. তাদের প্রতিরোধে কথা বলবো!


বাচ্চুর কথা শুনে,সরকারের এজেন্ডা অামি বুঝে ফেলেছি! ফ্যাসিবাদের বহুমাত্রিক এজেন্ডা থাকে,ফ্রন্ট থাকে। তারা দুধ কলা কালো সাপ যেমন পোষে,তেমনি ধনত্বরি ওঝাও তাদের হাতের পাশে রাখে!
প্রশ্ন হচ্ছে.. ফ্যাসিস্ট সরকারকে মোকাবেলা করতে হলে সেই দলকে নিদেন পক্ষে একটু কঠোর হতে হয়,বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় অথবা গায়ে গতরে.. বিএনপিকি এর একটাও অর্জন করতে পেরেছে..


শুধু সুবচন দিয়ে কোনো পরিবর্তন অাসেনা, এরজন্য প্রয়োজন গায়েগতরে কিছু করা.. বিএনপি কি একজন মতিয়া চৌধুরীর খোঁজ পাবে.. যিনি কথায় কথায় রাজপথে শেখ হাসিনার জন্য জীবনপন করেছেন.. অাবার সেই তিনি মুজিবের মৃত্যুকে তিনি সেলিব্রেট করেছেন। দরকার অাছে,বহুত দরকার অাছে। ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *