করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার

করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার

:: মুজতবা খন্দকার ::

সরকার প্রধান শেখ হাসিনা মাস খানেক অাগে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্রেডিট দিয়ে বলেছিলেন, তারা পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পেরেছে,তিনি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
অথচ করোনা শুরু হবার পর মাস্ক কেলেঙ্কারি, করোনা টেষ্ট নিয়ে যেসব কেলেঙ্কারী হলো,সেগুলি তিনি অামলে নিতে চাননি,অথবা সচেতনভাবে এড়িয়ে গেলেন কি না জানিনা। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী (স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ে ঢাকার মেয়র এমএ মালেকের পুত্র) জাহিদ মালেক ঘটা করে বললেন,করোনা চিকিৎসায় রোগি প্রতি সরকারের না কি ৫ লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে! অামি অবাক বনে যাই,লুটপাট দুর্নীতি করে রাষ্ট্রকে ফতুর বানানো শক্তি কিভাবে মিথ্যাচার করতে পারে! অারো অবাক হই,তা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনা,সবাই নিরব। হইসেল ব্লোয়ার নামে একটি শব্দ দেশে দেশে ইদানিং বেশ জনপ্রিয়। যারা কি না দেশের সকল অপকর্মের সোচ্চার হয়। কিন্তু অামাদের দেশে এর অস্তিত্ব কোথায়? অথবা এনজিও অথবা সিভিল সোসাইটি! এরকম মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে দেখিনা তো কারো কোনো ভয়েস!

অাজ অবশ্য টিঅাইবি কিছু কথা বলেছে…

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। জড়িতরা দুর্নীতিকে মহোৎসবে পরিণত করেছে। সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে তথ্য নিয়ন্ত্রণে বেশি তৎপর ছিল। বদলি ছাড়া দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী (স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ে ঢাকার মেয়র এমএ মালেকের পুত্র) জাহিদ মালেক ঘটা করে বললেন,করোনা চিকিৎসায় রোগি প্রতি সরকারের না কি ৫ লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে! অামি অবাক বনে যাই,লুটপাট দুর্নীতি করে রাষ্ট্রকে ফতুর বানানো শক্তি কিভাবে মিথ্যাচার করতে পারে! অারো অবাক হই,তা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনা,সবাই নিরব। হইসেল ব্লোয়ার নামে একটি শব্দ দেশে দেশে ইদানিং বেশ জনপ্রিয়। যারা কি না দেশের সকল অপকর্মের সোচ্চার হয়। কিন্তু অামাদের দেশে এর অস্তিত্ব কোথায়? অথবা এনজিও অথবা সিভিল সোসাইটি! এরকম মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে দেখিনা তো কারো কোনো ভয়েস!

টিঅাইবি বলছে, পরীক্ষাগার ও নমুনা পরীক্ষার সম্প্রসারণ : সাড়া প্রদানে ঘাটতি, করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ, পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ : কৌশলগত ঘাটতি এবং এলাকা ও শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য, পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়নে ঘাটতি, নমুনা পরীক্ষায় সক্ষমতায় ঘাটতি, নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতার অভিজ্ঞতা : হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্নীতি, নমুনা পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রবাসীদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে হয়রানি, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ : সাড়া প্রদানে ঘাটতি, জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবায় সক্ষমতার ঘাটতি, চিকিৎসাসেবায় সক্ষমতার ঘাটতি : কোভিড স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা বা হয়রানি, চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনিয়ম-দুর্নীতি, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সক্ষমতার ঘাটতি, হাসপাতালের সংক্রমণ প্রতিরোধে মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি এসব বিষয়ে ঘাটতা রয়েছে। তারা অারো বলেছে,সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহে অনিয়ম-দুর্নীতি : মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ, কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ বিস্তার রোধে গৃহীত পদক্ষেপসমূহে ঘাটতি, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি ক্রয় : আইন অনুসরণে ঘাটতি, বিভিন্ন দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের ক্রয় : দুর্নীতি ও আইন অনুসরণে ঘাটতি, বিভিন্ন হাসপাতালের ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি, একটি প্রকল্পের অধীনে ৮৩টি হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপনে দুর্নীতি, কোভিড নির্ধারিত হাসপাতাল : করোনা চিকিৎসা ব্যয়ে দুর্নীতি, প্রণোদনা বিতরণ : সাড়া প্রদানে ঘাটতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা, সরকারি সহায়তায় তালিকাভুক্তি : অনিয়ম-দুর্নীতি, সহায়তা পেতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ওএমএস (চাল) সহায়তার ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রাসঙ্গিক আইন অনুসরণ না করা, স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।

মনে রাখা দরকার, টি অাইবি একটি এনজিও। যাদের প্রধান কার্যালয় বার্লিন। তারা নিশ্চই সরকারকে সরাসরি জবাবদিহি করবার এখতিয়ার রাখেনা। তাদের সে সুযোগও নেই,তারা শুধু কিউ দিতে পারে,ধরার দায়িত্ব এ দেশের মানুষের। তারা যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি বলছে.. মোটা দাগে সেগুলোই হচ্ছে দুর্নীতি! টিঅাইবির হিসাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত কি ভয়াবহ রকম অনিয়ম পার করছে. সেটার একটা সার সংক্ষেপ দিয়েছে মাত্র।

অামাদের রাষ্ট্রপতি হরহামেশায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান, তিনি পাকিস্তান অামল থেকেই অাইন প্রণেতা। উকিল,রসিকজন। যখন সংসদ উপনেতা ছিলেন,তখন থেকেই চিনতাম, এরপর স্পিকার অত:পর রাষ্ট্রপতি। চেইন স্মোকার ছিলেন। তাকে অামার সত্যিকারের রাজনীতিবিদই মনে হতো। অথচ রাষ্ট্রপতি হবার পরেও তাকে যখন হরহামেশা বিদেশে যেতে দেখি। অামি হতাশ হই। অথচ অামার মনে পড়ে বুকের চিকিৎসার জরুরী প্রয়োজনে তিনি এমপি হোস্টেল থেকে রাজধানীর কোন একটি হাসপাতালে সেবা নিতেন। অামাদের সাথে দেশের স্বাস্থ্য সেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে বলতেন! অথচ এখন তিনি কি পারেন না..এসবের খোলনলচে বদলে দিতে!

টি অাই বি,তাদের রিপোর্টে বলেছে,দেশে সুশাসনের অভাব। অামি বলি কি এটার জন্য গবেষণার বড় একট্ দরকার নেই। অামরা সবাই সেটা জানি। বাংলাদেশে একজন ন্যায়পাল থাকবেন। সেটা অাওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনের মেনিফেস্টেতোও ছিলো।

তখন কার অাইনমন্ত্রী ছিলেন ব্যারিষ্টার শফিক অাহমেদ। তাকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন,এটা নিয়ে অামিও ভাবছি,ক্যাবিনেট মিটিং ছাড়াতো তাঁর সঙ্গে দেখা হয়না। বুঝোতো অামি তো বহিরাগত,অাওয়ামী লীগার নই। ব্যারিষ্টার শফিক অাহমেদ সত্যিটাই বলেছিলেন সেদিন। তিনি অাওয়ামী রাজনীতির সাথে ছিলেননা কখনো। তিনি বামপন্থি পলিটিকস করতেন। ওয়ান ইলেভেনের সরকার অনেক কিছু বদলে দিয়েছে.. যে কারনে তাকেও শেখ হাসিনার অাইনমন্ত্রী হতে হয়েছিিলো। শফিক স্যারের পত্নি ডাকসুর জিএস ছিলেন, অামাদের অতি প্রিয় অাপা। তিনি ছিলেন সেলিম ভাইদের অনুসারী মস্কোপন্থি কমিউনিষ্ট।


যাইহোক। অাবার অাইন মন্ত্রী হলেন অানিসুল হক। অামার ঘনিষ্ট! উনাকে একদিন বললাম, ন্যায়পাল কে হচ্ছেন.. উনি অাকাশ থেকে যেন পড়লেন! বললেন.. জনননেত্রী শেখ হাসিনার মতন নেত্রি থাকতে অাবার ন্যায়পাল কিসের…! তিনি হাসলেন। অামিও.. সে হাসির পর অামি অার বলতে পারি নাই,এরকম প্রতিশ্রুতি অাওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোতে অাছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *