আবরারের মৃত্যু ও আওয়ামী আনিসুল হকের দায়মুক্তি

আবরারের মৃত্যু ও আওয়ামী আনিসুল হকের দায়মুক্তি

:: মুজতবা খন্দকার ::

রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী অাবরারের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মামলায় প্রথম অালোর সম্পাদক মতিউর রহমান, গীতিকার কবির বকুলসহ ৯জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে অাদালত।
একজন সম্ভাবনাময় কিশোরের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু অামাদের ব্যাথিত করে সন্ধেহ নেই। সেদিন (গত বছর পয়লা নভেম্বর) প্রথম অালোর সহযোগি প্রকাশনা কিশোর আলোর ওই বর্ষপূর্তির উৎসবের অায়োজকদের গাফিলতি থাকলেও থাকতে পারে। সেটা তদন্ত কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। তবে এই অনুষ্ঠানটির অায়োজকরা কোনোভাবেই কি চেয়েছিলেন,তাদের উৎসব অায়োজনে কারো করুণ মৃত্যু!অামি সেটা মনে করিনা। তারপরও যেকোন মৃত্যুই অনাকাংখিত। অার যদি কোনো সম্ভাবনাময় মেধাবীর মৃূত্যু হয়,তবে তা অারো বড় বেদনাদায়ক। তবে এই কিশোরের মৃত্যু পরবর্তী ঘটনাগুলোর পরম্পরা যোগ করলে অামার কেন জানি সন্ধেহ হয়। এবং সরকারের অাগ্রহ ও উৎসাহ দেখে অামার সন্ধেহ হয় এই মৃত্যুজনিত মামলা যতটানা অাবরারের পরিবারকে ন্যায় বিচার দেয়ার জন্য দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে তার চেয়ে বেশী মনে হচ্ছে সরকারের মেশিনারিজদের একটি বড় অংশের গণমাধ্যমকে চাপে রাখার বদমতলব থেকে। না হলে দেশে কত শত স্পর্শকাতর মামলা ধামাচাপা পড়ে অাছে বছরের পর বছর ধরে,সেখানে এই মামলাটি কেন এত দ্রুত লয়ে এগুচ্ছে। অামার মনে অাছে দেশের ঐতিহ্যবাহি দৈনিক ইত্তেফাকে (যখন এর অফিস টিকাটুলিতে ছিলো) মানিক মিয়ার দুই ছেলের দন্দ্বে কতবার গোলমাল হয়েছে। সবশেষ সংঘর্ষে লাশও পড়েছিলো। কিন্তু সেই মামলার কি অাদৌ কোনো সূরাহা হয়েছে? অামার জানা নেই।

আনিসুল হক বরাবরই আওয়ামী ঘরানার একজন নব্য বৃত্তিজীবী। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অথবা তাঁকে উপজিব্য করে অনেক বই, কলাম লিখেছেন। জিয়াকে হেয় করে তার কিছু রচনাও বক্তৃতা আছে। সবশেষ শেখ হাসিনার সামনে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্তুতি করে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেটা যে কাউকেই সম্মোহিত করবে। মেধাবীরা দালালি করবে অথবা কারো প্রশংসা করবে সেটা তো আর্টের পর্যায়ে পৌছবে তাই না! কিন্ত, তাই বলে নিজের লোক বলে একটি মৃত্যুজনিত মামলায়, যার অনুষ্ঠানে এই ঘটনা তিনি দায়মুক্তি পাবেন! সেটা কী করে হয়?


অথচ কিশোর অালোর অনুষ্ঠানে অনবধানতা বশত একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু নিয়ে সরকারের অত্যুৎসাহি মহলের অতিতৎপরতা অামাকে তাই এমন ভাবতে বাধ্য করেছে। অামি প্রথম অালোর তীব্র সমালোচক। অামি প্রথম অালোর সস্পাদকীয় নীতির কট্টর সমালোচক। কিন্তু তারপরেও অামি প্রথম অালোর পাঠক। অামি টাকা দিয়ে যে তিনটি পত্রিকা বাসায় পড়ি,সেটার একটা প্রথম অালো অন্যটা নিউএজ।


এই মামলায় সরকারের মেশিনারিজ গুলোর ভূমিকা শুরুতেই ছিলো,এখনো অাছে। কেমন করে, এবার তার একটা ব্যাখা দেই। কিশোর অালো হচ্ছে প্র্রথম অালোর একটি সহযোগি প্রকাশনা। যেমন এক সময় সরকারী ট্রাস্টের পত্রিকা দৈনিক বাংলার সহযোগি প্রকাশনা ছিলো বিচিত্রা এবং অানন্দ বিচিত্রা। অার অনুষ্ঠানটি ছিলো কিশোর অালোর বর্ষপূর্তির। কিশোর অালোর সম্পাদক কে অানিসুল হক। এখানে প্রথম অালোর যদি কোনো ভূমিকা থাকে সেটা গৌন। মূখ্য ভুমিকা ছিলো কিশোর অালোর। অার কিশোর অালোর সম্পাদককে.. অানিসুল হক। অথচ অাবরারের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর প্রধান অাসামী কে? মতিউর রহমান। অথচ মূল অাসামী হবার কথা ছিলো অানিসুল হকের। তাকে অাসামী করা হয়েছিলো,কিন্ত বিচারক ইমরুল কায়েশ তাকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। অানিসুল হককে অামি চিনি বহু অাগে থেকে। বুযেটে পড়ার পর প্রথম যখন স্যাটায়ার কিম্বা রম্য রচনা কিম্বা গদ্য কার্টুন লিখতেন,তখন সেটা মিঠুন মুনতাসির নামেই লিখতেন। ভোরের কাগজে এক সময় বাংলা একাডেমি্র বইমেলা তিনি এই নামেই কাভার করতেন,পূৃর্বাভাষ পত্রিকা দিয়ে সম্ভবত ১৯৮৯ সালে তার সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি। মেধাবী,যোগ্য সেটা নিয়ে অামার কোনো দ্বিমত নেই। তাঁর পত্নি মার্কিন দুতাবাসে চাকরি করেন। অামি তাকে চিনি, তিনি অামাকে হয়তো নাও চিনতে পারেন।


বরাবরই অাওয়ামী ঘরানার একজন নব্য বৃত্তিজীবী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অথবা তাঁকে উপজিব্য করে অনেক বই,কলাম লিখেছেন। জিয়াকে হেয় করে তার কিছু রচনাও বক্তৃতা অাছে। সবশেষ শেখ হাসিনার সামনে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্তুতি করে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেটা যে কাউকেই সম্মোহিত করবে। মেধাবীরা দালালি করবে অথবা কারো প্রসংশা করবে সেটা তো অার্টের পর্যায়ে পৌছবে তাই না! কিন্ত, তাই বলে নিজের লোক বলে একটি মৃত্যুজনিত মামলায়,যার অনুষ্ঠানে এই ঘটনা তিনি দায়মুক্তি পাবেন! সেটা কী করে হয়?

দুই

অাজ প্রথম অালোতে,একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তারেক রহমানের মতদ্বৈতার কথা বলা হয়েছে। রিপোর্ট নিয়ে অামি কিছু বলতে চাইনা।
বিএনপি একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল। অাওয়ামী লীগের মত ভারতপন্থী দলের বিপরীতে একটি জাতীয়তাবাদি দল। যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব, দেশের অখন্ডতা রক্ষার একটি অার্দর্শ প্লাটফরম। দলটিকে নানাভাবে হয়রানী, নির্যাতন,দলের সুবিধাভোগি নেতাদের কুমতলব দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টাতো কম হয়নি। এখন সেটা অারো বেশী কঠিন। দলের অন্যতম মেধাবী অাবার চঞ্চলমতি নেতা যিনি দলবদলে পারদর্শি সেই তাকে, একদিন টকশো শেষে এগিয়ে দিতে দিতে বললাম,মওদুদ ভাই, অাপনি এখন কী করবেন,এই বয়সে! অামি কী করবো! সব দলই তো দেখলাম! অার দেশ দ্রোহি হতে চাই না। যতদিন অাছি বিএনপি অামার ধ্যান জ্ঞান। এটা মওদুদ অাহমদ অামাকে বলেছিলেন,২০১৩ সালের ১২ নবেম্বর।


যেটা বলছিলাম,বেগম জিয়া রাজনীতিতে এসেছিলেন ধূম কেতুর মত।( অামার এক সময়ের সিনিয়র সহকর্মী,যাকে অামি বড় ভাইয়ের মতন শ্রদ্ধা করি, অধূনালুপত দৈনিক বাংলার মনজুর অাহমদ) তিনি জিয়ার ইন্টারভ্যু নিতে তার সেনানিবাসের বাসাঢ গিয়েছিলেন। তখন ছিলো ভোর। জিয়ার সাথে কথোপকথন তার চলছিলো। হঠাৎ জিয়া চা চাইলেন, ভেতর থেকে এলো শুধুই চা! জিয়া। তৎক্ষনাৎ রাগান্বনিত স্বরে বেগম জিয়াকে দুষলেন,একজন অতিথি এসেছে,তার জন্য শুধুই চা! বেগম জিয়া তাকে মনে করিয়ে দিলেন,তার অাগে বলা কথা! কেউ এলে যেন চার বেশী অার কিছু না দেয়া হয়! এটা মনজু ভাই,অামাদের গল্পচছলে শুনিয়েছিলেন।


অাজ খালেদা জিয়ার সাথে তারেক রহমানের যে অমিলের কথা বলা হয়, সেটার সত্য মিথ্যে অামি জানিনা। তবে অামি এটা জানি যে বেগম জিয়ার রাজনীতিতে অাগমন,তার এরশাদ বিরোধী অাপোসহীন সংগ্রাম। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানে তার অবদান,সবাই জানে। তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে নিজের মার সাথে দন্দ্বে জড়াবেন,এটা হলেও হতে পারে.. তবে অামাদের মনে রাখতে হবে, তারেক রহমানেরর মা ছাড়া কেউ নেই.. অকালে তিনি হারিয়েছেন, তার অনুজকে..


তিন


গণমাধ্যম স্বাধীন!
প্রথম অালোর সস্পাদকের চার্জশীট হবার পর দিন, এই স্টোরি না দিলেই বরং ভালো হতো! এদেশের সরল সোজা পোড় খাওয়া মানুষ তো তারা দুইয়ে দুইৃৃয়ে চার মেলাতে বড় বেশী পছন্দ করে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *