কি দ্ব্যর্থবোধক সমাজে, দেশে আমাদের বসবাস

কি দ্ব্যর্থবোধক সমাজে, দেশে আমাদের বসবাস

কি দ্ব্যর্থবোধক সমাজে, দেশে আমাদের বসবাস

:: মুজতবা খন্দকার :: দেশের প্রথিতযশা শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার। তার মালিক স্যামসন এইচ চৌধুরী,দেশের শীর্ষ করদাতা ছিলেন। তার হাতে গড়া স্কয়ারও…

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের প্রতি খোলা চিঠি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের প্রতি খোলা চিঠি

:: তাজ হাশমী :: প্রিয় ড. মোমেন, আমি এই চিঠি লিখছি,গত ৩১শে মে,২০২০ এ ভারতীয় সাপ্তাহিক ‘দ্য উইকে’ প্রকাশিত আপনার…

কে মুজিবের পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছিল ৬-দফা?

কে মুজিবের পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছিল ৬-দফা?

রহস্যের উন্মোচন করতে গেলে প্রথমেই প্রশ্ন জাগে – শেখ মুজিব ৬-দফা কোথায় পেলেন? কে তার পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছিল ৬-দফা? একথা ঐতিহাসিক সত্য এবং আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব কর্তৃক স্বীকৃত যে, আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের কোন সভায় বা বৈঠকে ৬-দফা কর্মসূচী আলোচিত বা গৃহীত হয়নি – পাকিস্তান আওয়ামী লীগে তো নয়ই, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কোনো ফোরামেও নয়। শেখ মুজিব গেলেন করাচী হয়ে লাহোরে। লাহোরে তিনি পকেট থেকে বের করলেন ৬-দফা। ঢাকা-করাচী-লাহোরের পথে অপরাপর যে সমস্ত আওয়ামী লীগ নেতা তার সহযাত্রী ছিলেন তারা পর্যন্ত কিছু জানতে পারেননি এক মূহূর্ত আগেও। অত:পর লাহোর থেকে ঢাকা এয়ারপোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করলেন। পরবর্তী পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ শেখ মুজিব ঘোষিত ৬-দফা অনুমোদন করে। এজন্য শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একখানা পুস্তিকাও প্রকাশ করেছিলেন। ছাত্রলীগ, মুজিব বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর  সাবেক নেতা বর্তমানে বাকশালের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের মতে, ‘৬ দফা এর মূল কপি আমি দিয়েছিলাম মনি ভাইকে, তিনি এটি হারিয়ে ফেলেন।’  শেখ মুজিব, তাজউদ্দিন ও আবদুস সালাম খান প্রমুখ সমন্বয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের  একটি টীম আইয়ুব খানের সাথে আলাপ করার জন্য ‘টকিং পয়েন্ট’ হিসাবে নাকি  এটা নিয়ে যান। আবার সাবেক সিএসপি রুহুল কুদ্দুস দাবী করেছেন যে, তিনিই নাকি ৬-দফার প্রণেতা। ৬-দফার উৎস সংক্রান্ত এ রহস্যময়তা প্রসঙ্গে ৩টি তত্ত্ব প্রচলিত আছে। প্রথম তত্ত্বটা হল : ৬-দফা একান্তভাবেই বাংলাদেশের কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যেমন – রুহুল কুদ্দুস, শামসুর রহমান খান ও আহমদ ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের তৈরী। অথবা অধ্যাপক ও আমলাদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরী। দ্বিতীয় তত্ত্বটি হলো : ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর আইয়ুব খান যে তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষর করেন সেই চুক্তি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অন্যান্য জেনারেল এবং সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। সারা পাকিস্তানে এর প্রতিবাদ হয়। ভুট্টো পদত্যাগ করেন। এই সব কারণে আইয়ুব খান ঘাবড়ে গিয়ে তার মূল সমর্থক পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং কিছু রাজনীতিবিদকে আবার ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চান। এই উদ্দেশ্যে আইয়ুব খান তখনকার পাকিস্তানের বিশেষ পরিচিত সিভিল সার্ভেন্ট আলতাফ গওহরের মাধ্যমে ৬-দফা পরিকল্পনা প্রনয়ণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল এই ধরণের কর্মসূচীর ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে উঠলে তৎকালীন পাকিস্তানের মিলিটারী ব্যুরোক্রেসী ও রাজনীতিকরা আবার তার হাত শক্ত করতে আসবেন। জনাব আলতাফ গওহরই নাকি এই কর্মসূচীটি জনাব রুহুল কুদ্দুসের কাছে দেন। রুহুল কুদ্দুস দেন খায়রুল কবীরের (প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কৃষি ব্যাংক) কাছে। জনাব খায়রুল কবীর দেন এই ড্রাফট শেখ মুজিবের কাছে। তৃতীয় তত্ত্ব হল : এই ৬-দফা কর্মসূচী ভারতের কাছ থেকে আসে কমিউনিস্ট পার্টির খোকা রায়ের কাছে। খোকা রায় দেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও পীর হাবিবুর রহমানের কাছে। তারা দেন খায়রুল কবীরের কাছে। খায়রুল কবীর দেন শেখ মুজিবের কাছে। এই তিনটি তত্ত্বের কোনটি সঠিক? তবে মনোরঞ্জন ধরও দাবি করেছেন – এই ৬-দফা কর্মসূচী বস্তুত: তাদেরই তৈরী। ১৯৫০ সালে তারা পাকিস্তানের সংবিধানের ‘মৌলিক নীতিমালা কমিটি’র সদস্য হিসাবে যে নীতিমালা তৈরীর সুপারিশ করেন, ৬-দফা মোটামুটি তারই বাস্তবায়ন। অলি আহাদ সাহেব বলেছেন – এই ৬-দফা দাবি শেখ মুজিব সাহেব প্রথম দিন দিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্ণর হাউসে এক সভায় নুরুল আমীনকে। নুরুল আমীন তখন সম্মিলিত বিরোধী দলীয় জোট এনডিএফ-এর চেয়ারম্যান। নুরুল আমীন ৬-দফাকে দেখেই বললেন – এই দাবির অর্থ পাকিস্তান ভেঙ্গে দেয়া। এ প্রসঙ্গে সাপ্তাহিক মেঘনা (১২ মার্চ, ১৯৮৬) লিখেছে – ‘লাহোর বিরোধী দলীয় কনভেনশনে যাবার সময় শেখ মুজিবের সাথে ছিলেন আবদুল মালেক উকিল ও অধ্যাপক ইউসুফ আলী। তারা দুজনেই এই প্রতিবেদকে বলেছেন, এই দলিলটি লাহোর না যাওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আমাদের দেখাননি।’ এদিকে ছাত্রলীগ, মুজিব বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সাবেক নেতা বর্তমানে বাকশালের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের মতে, ‘৬-দফা এর মূল কপি আমি দিয়েছিলাম মনি ভাইকে, তিনি এটি হারিয়ে ফেলেন।’ শেখ মুজিব, তাজউদ্দিন ও আবদুস সালাম খান প্রমুখ সমন্বয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের একটি টীম আইয়ুব খানের সাথে আলাপ করার জন্য ‘টকিং পয়েন্ট’ হিসাবে নাকি এটা নিয়ে যান। আবার সাবেক সিএসপি রুহুল কুদ্দুস দাবী করেছেন যে, তিনিই নাকি ৬-দফার প্রণেতা। তবে রহস্যের মূলে আরও কিছু আলোক সম্পাত করতে হলে ৬-দফার প্রেক্ষিতটাও আলোচনা করা দরকার। শেখ মুজিব ৬-দফা দিয়েছেন ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী। এর আগে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ১৭ দিনের একটা যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধের ফলাফলটা আইয়ুব খানের জন্য আনন্দদায়ক ছিল না। ফলে তাসখন্দ চুক্তি করে তিনি দেশে ফিরে এলে প্রচন্ড প্রতিবাদের মুখোমুখি হন। এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আইয়ুব খানকে বিশেষভাবে পীড়িত করে। পাকিস্তান আমেরিকার সাথে যুদ্ধ জোটে আবদ্ধ। ভারত জোট নিরপেক্ষ দল। সে ক্ষেত্রে আইয়ুব খানের স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন করবে। কিন্তু কার্যত: যুক্তরাষ্ট্র সযত্নে এমন ধরণের কাজ থেকে বিরত থেকেছে – যা ভারতের অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য,…

কবি হুমায়ুন কবির যেদিন খুন হলেন!

কবি হুমায়ুন কবির যেদিন খুন হলেন!

হুমায়ুন কবির (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ – ৬ জুন, ১৯৭২) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক। তিনি কবি ছিলেন। জীবনানন্দ দাশ নিয়ে…

নিঃসঙ্গ মৃত্যু বেছে নিয়েছেন ডাক্তার এন আই খান

নিঃসঙ্গ মৃত্যু বেছে নিয়েছেন ডাক্তার এন আই খান

:: আব্দুন নূর তুষার :: আমার শিক্ষক এন আই খান। নিঃসঙ্গ মৃত্যু বেছে নিয়েছেন গতকাল। ঢাকা মেডিকেলের কেবিনে। পাশে ছিল…

'হিজবুল বাহার'-এ দেখা জিয়া: আমার মাটি আমার সমুদ্র

‘হিজবুল বাহার’-এ দেখা জিয়া: আমার মাটি আমার সমুদ্র

:: মুনশী আবদুল মান্নান :: কখনও সমুদ্র দেখিনি। রূপকথা, উপকথা, গল্প, উপন্যাস ও ভ্রমণ কাহিনীতে সমূদ্র যতটুকু বাণীরূপে ধরা পড়ে…

এই সরকার থেকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে হবে

এই সরকার থেকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে হবে

একদিকে দেশে  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের প্রতিশ্রুতি  আর অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশে  চরশ গণদারিদ্র্য ও অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে এলিটদের বিলাসিতা বেড়েই চলেছে, শাসক পার্টির  সদস্যদের…

মোস্তফা কামাল সৈয়দ ছিলেন সবার স্বজন

মোস্তফা কামাল সৈয়দ ছিলেন সবার স্বজন

:: কামরুননেসা হাসান :: ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিশাল সাম্রাজ্যের তিনি ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মেধা-মননে-চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। শিল্পী…

বিশ্বাসঘাতক আমরা নই, সরকারই বিশ্বাসঘাতক

বিশ্বাসঘাতক আমরা নই, সরকারই বিশ্বাসঘাতক

আজ লিখিতে বসিয়া বিশিষ্ট লেখক শ্রী নির্মল সেনের একটা লেখার কথা মনে পড়িল। “বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ” শীর্ষক সেই লেখাটি আজ হইতে ঠিক এক বছর আগে এই দিনে (১৬ ই ডিসেম্বর, ১৯৭৪) প্রকাশিত হয়। নির্মল সেন নির্ভয়ে অনেক নির্মম সত্য কথা নিবন্ধে তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, ‘মেহেরপুরের আম-বাগান’, ‘বালিগঞ্জের অভিজাত এলাকা’, ‘আগরতলার কয়েকটি ভবন’ এর গল্পই সব গল্প নয়। আছে আরো অনেক গল্প। সেই গল্প-বলাচ্ছলে তিনি তুলিয়া ধরেন ১৯৭২ সালে মুক্তিবাহিনীর ছেলেদের চরিত্র হননের জন্য সেই ষড়যন্ত্রের আলেখ্যও। মাত্র চার বছরের স্বাধীনতা জীবনে বাংলাদেশও কম লাভ করে নাই। আর তাই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক বন্ধু নির্মল সেনকেও (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিরূপে) গত বছর ২৫শে সেপ্টেম্বর বলিতে শুনিয়াছি, “হয় এই সরকার থাকবে , না হয় আমরা থাকবো। বিশ্বাসঘাতক আমরা নই, সরকারই বিশ্বাসঘাতক”। … সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হইয়াছে। ওরা নাই, আমরা আছি, আমরা থাকিবও। কিন্তু যাইবার আগে চারটা বছরের মধ্যে ওরা এই জাতির কী করিয়া গিয়াছে, আজ ১৬ই ডিসেম্বর তার একটা সালতামামি সমীক্ষা হওয়া দরকার। বিভিন্ন একাডেমির ‘নিরলস প্রচেষ্টার’ ইতিহাস লেখার নামে তৈলায়ন ও পৃষ্ঠকুন্ডলায়ন চার বছরে যথেষ্ট হইয়াছে। আর নয়। এবার সত্যিকার একটা হিসাব-নিকাশ হউক। একটি বিখ্যাত বৈদেশিক পত্রিকার প্রতিনিধির সহিত এক ‘গোপন সাক্ষাৎকার’ এদেশের জনৈক প্রবীণ বামপন্থী দলপতি দাবী করিয়াছেন যে, ‘পঁচিশ হাজারের অধিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মীকে সেই স্বৈরাচারী শাসনামলে নিধণ করা হইয়াছে’। কারও কারও মতে নিধন সংখ্যাটা আরো বৃহৎ। রাষ্ট্রীয় বা দলীয় পর্যায়ে যাহাদের সেই শাসনামলে ‘নির্মুল’ করা হইয়াছে, অনেকের মতে, তাহাদের সংখ্যা নিরূপণের জন্য পাঁচ মিনিটে কুলাইবেনা। তিনি বলেন, “সীমান্তের ওপারে যারা গিয়েছিল তারা সকলেই সৎ এবং সাধু ছিল এ দাবী কেউ করবেনা। অনেক নেতা এবং উপনেতাই সৎ এবং সাধু জীবনযাপন করেননি। এজন্য বিদেশে আমাদের মুখে কলংক লেপন করা হয়েছে। অনেকের জন্য মুখ দেখান ভার হয়েছে। অনেক নেতা ছিলেন যারা সুযোগ পেলে ইয়াহিয়া খানের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করতেন। অনেক নেতাই ছিলেন যারা মানুষের দুর্গতির সুযোগ নিয়ে ভারতের ব্যাংকে টাকা জমিয়েছেন। অনেক নেতাই ছিলেন যারা কোনদিন ফ্রন্টে না গিয়ে বাক্স কাধে নিয়ে ছবি তুলে কাগজে ছাপিয়েছেন। তারা আজও আছেন। আছেন বহাল তবিয়তে। কিন্তু তারা তো সব নয়। সব নয় ওরা যারা বাংলাদেশে এসে একগাল দাড়ি দেখিয়ে কাঁধ পর্যন্ত চুল ঝুলিয়ে মুক্তিবাহিনীর লোক সেজেছিল। ওরা সব নয় যারা বাংলাদেশের বুকে গাড়ী বাড়ী হাইজ্যাক করেছিল। তাদের মধ্যে অধিকাংশ মুক্তিবাহিনীর শিবিরের কাছাকাছিও যায়নি। ওরা কলকাতা আর আগরতলার ‘নেতৃত্ব’ করেছে। ওরা ভাগাভাগির জন্য প্রতিযোগিতা করেছে। ওরা গ্রামের হাজার হাজার তরূণকে শত্রুর মুখে ঠেলে দিয়ে কলকাতা, আগরতলা, শিলং আর দিল্লীতে ভাষণ দিয়েছে আর সভা করেছে। “বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ”-এ সেই নেতাদের গল্প বলিয়াছেন নির্মল সেন। ….. সেই নেতা-উপনেতারা এবং লম্বা চুল আর বাবরিওয়ালা হাইজ্যাকাররা ওখানেই থামেন নাই। নির্মল সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ১৯৭২ সালের প্রথম দিন হইতেই খুব সুচতুরভাবে একটা গভীর ষড়যন্ত্র চালাইতেছিলেন প্রকৃত মুক্তিবাহিণীর চরিত্র-হননের উদ্দেশ্যে। তার ভাষায়, সেই ষড়যন্ত্রকারীরা মুজিবনগরে গিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম তারা সমর্থন করেনি। তারা জানত, মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা তাদের চেনে। তারা জানত মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা যদি বাংলাদেশে এসে সত্য কথা ফাঁস করে দেয় তাহলেই (‘নেতাদের’) রাজনৈতিক এবং সামাজিক অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তাই এই নেতারা বাংলাদেশে এসেই ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন। এমনকি যে নেতারা একদিন দালালদের হত্যার জন্য মুক্তিবাহিনীর তরণদের নির্দেশ দিয়েছিল তারাই আবার এই হত্যার জন্য মুক্তিবাহিনীর ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা শুরু করল। … দিনের পর দিন হাজতে পুরে রাখা হয়েছে। জামিন পর্যন্ত দেয়া হয়নি। এ ঘটনা থেকে একান্তই পরিস্কার, শুধু সীমান্তের এপারে নয়, সীমান্তের ওপারেও যারা ছিলেন তাদের অনেকেই এই বাংলাদেশের স্বধীনতা চাননি। তারা মুক্তিবাহিনীকে বরদাশ্ত করতে পারেননি। তারা জানতেন যে, এই মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা যদি বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে তাদের এই কাহিনী জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারে তাহলে তাদের রেহাই নেই। তাই দেখা গেছে, দেশ স্বাধীন হবার পর প্রতি জেলায় এমন একটি চক্র যে চক্রের নেতারা ওপারে ছিলেন সারাদেশে অসংখ্য নকল মুক্তিবাহিনী সৃষ্টি করেছেন। পার্মিট-লাইসেন্স দিয়ে কিনতে চেষ্টা করেছেন মুক্তিবাহিনীর সৎ তরুনদের। … একদল তরুন দেশের জন্য প্রাণ দিতে গিয়ে পরিচিত হয়েছে চোর বাটপার আর হাইজ্যাকার হিসেবে আর তার ভিত্তিতে রচিত হচ্ছে আরেক ইতিহাস। “বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ” নিবন্ধে নির্মল সেনের এক বছর আগেকার সেই বক্তব্য ছিল আরও দীর্ঘ। অব্যক্তও হয়ত রাখিয়া গিয়াছিল অনেক কিছু, অনেক নেতার অনেক কথা, অনেক কীর্তিমানের অনেক কীর্তিগাঁথা। বলিতে চাহিলেও হয়ত অনেক কথা তখন বলা যায় নাই। বলার উপায় ছিলনা। কারণ, কারোরই ঘাঁড়ের উপর দুইটা মাথা নাই। লেখক নিজেই আরেক প্রসঙ্গে অন্যত্র স্বীকার করিয়াছেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক, কিন্তু স্টেনগানকে আমিও অস্বীকার করতে পারিনা’। বস্তুতঃ গত চার বছরের ইতিহাসে একটা বড় অধ্যায়ই এই স্টেনগান, এল-এম-জি, এস-এল-আর এর শ্বেত সন্ত্রাসের ইতিহাস। শোনা যায় বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্র পরিচালক স্বাধীনতার কিছুদিন পর একদা অদ্ভূতভাবে স্বগৃহ হইতে অন্তর্হিত হন। সেই যে নিখোঁজ হইয়া গেলেন আর কোনদিন ফিরিলেন না। একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামকালে তিনিও ওপারে গিয়াছিলেন এবং টেপে ও ক্যামেরায় এমন অনেক বাস্তব আলেখ্য নাকি ধরিয়া আনিয়াছিলেন যাহা ডকুমেন্টারি চিত্রাকারে প্রকাশ পাইলে ‘কীর্তিমান নেতা-উপনেতা’দের রেহাই ছিলনা। হি নিউ অল দীজ ‘এফেয়ার্স’ টু মাচ। এবং সেই টু মাচ জানাটাই হইল তার কাল। অকস্মাৎ একদা তিনি নিখোঁজ হইলেন। আর কোনদিন ফিরিলেননা। “বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ” এর বিবরণের সাথে সেই প্রখ্যাত চিত্র পরিচালকের চির অন্তর্ধান ঘটনার কি অদ্ভূত মিল। মাত্র চার বছরের স্বাধীনতা জীবনে বাংলাদেশও কম লাভ করে নাই। আর তাই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক বন্ধু নির্মল সেনকেও (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিরূপে) গত বছর ২৫শে সেপ্টেম্বর বলিতে শুনিয়াছি, “হয় এই সরকার থাকবে , না হয় আমরা থাকবো। বিশ্বাসঘাতক আমরা নই, সরকারই বিশ্বাসঘাতক”। … সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হইয়াছে। ওরা নাই, আমরা আছি, আমরা থাকিবও। কিন্তু যাইবার আগে চারটা বছরের মধ্যে ওরা এই জাতির কী করিয়া গিয়াছে, আজ ১৬ই ডিসেম্বর তার একটা সালতামামি সমীক্ষা হওয়া দরকার। বিভিন্ন একাডেমির ‘নিরলস প্রচেষ্টার’ ইতিহাস লেখার নামে তৈলায়ন ও পৃষ্ঠকুন্ডলায়ন চার বছরে যথেষ্ট হইয়াছে। আর নয়। এবার সত্যিকার একটা হিসাব-নিকাশ হউক। একটি বিখ্যাত বৈদেশিক পত্রিকার প্রতিনিধির সহিত এক ‘গোপন সাক্ষাৎকার’ এদেশের জনৈক প্রবীণ বামপন্থী দলপতি দাবী করিয়াছেন যে, ‘পঁচিশ হাজারের অধিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মীকে সেই স্বৈরাচারী শাসনামলে নিধণ করা হইয়াছে’। কারও কারও মতে নিধন সংখ্যাটা আরো বৃহৎ। রাষ্ট্রীয় বা দলীয় পর্যায়ে যাহাদের সেই শাসনামলে ‘নির্মুল’ করা হইয়াছে, অনেকের মতে, তাহাদের সংখ্যা নিরূপণের জন্য পাঁচ মিনিটে কুলাইবেনা।…

কুটনীতিকের দৃষ্টিতে জিয়া

কুটনীতিকের দৃষ্টিতে জিয়া

১৯৭৭ সালের জুন মাসে অপ্রত্যাশিতভাবেই জানলাম যে লন্ডনের কমনওয়েলথ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে আমাকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে এবং দুবাই…