প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির কাছে প্রত্যাশা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির কাছে প্রত্যাশা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির কাছে প্রত্যাশা

:: হাবিবুর রহমান :: পহেলা সেপ্টেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিএনপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ…

সব বলে দিলেন প্রণব মুখার্জি!

সব বলে দিলেন প্রণব মুখার্জি!

:: শাফিন আহমেদ :: ভারতের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি (৮২) তার দি কোয়ালিশন ইয়ার্স, ১৯৯৬-২০১২ গ্রন্থে,(এটি তার দ্বাদশ গ্রন্থ)…

জিয়াউর রহমান ও বাংলাদশি জাতীয়তাবাদ

জিয়াউর রহমান ও বাংলাদশি জাতীয়তাবাদ

এখন  প্রশ্ন হলো: জাতীয়তাবাদ কি? ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায়, এ বিশ্বে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছে। ‘ রেসিয়াল বা…

শেখ মুজিবের মধ্যে আত্মপ্রীতি ছিল খুব প্রবল

শেখ মুজিবের মধ্যে আত্মপ্রীতি ছিল খুব প্রবল

” …. ২ রা এপ্রিল (১৯৫৪) জনাব ফজলুল হককে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্তফ্রন্টের পার্লামেন্টারী পার্টির নেতা নির্বাচিত করা হইল। ইতিমধ্যে অন্য একটি অভাবিত ব্যাপার ঘটিয়া গেল। শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের একদিন কি দুইদিন পর ঢাকায় আসিয়া পৌঁছিলেন। ঐ দিন রাতেই তিনি সোজা জালালউদ্দিন ও আবদুল হামিদ সমভিব্যাহারে ‘ইত্তেফাক’ অফিসে আসিয়া আমাকে লইয়া প্যারামাউন্ট প্রেসে গেলেন। তিনি আমাকে বলিলেন যে, ‘মোহন মিঞা ও আবদুস সালাম খান নাকি ফরিদপুরে বলিয়াছেন, শেখ মুজিব কেমন করিয়া মন্ত্রী হয় তা তারা দেখিয়া লইবেন’। শেখ মুজিব আরও বলিলেন যে, মন্ত্রী হইতে তিনি ইচ্ছুক নহেন, তবে তাদের এই কথার পর ব্যাপারটা তার মর্যাদার প্রশ্নে দাঁড়াইয়াছে। শহীদ সাহেবকে এ ব্যাপারটা জানাইবার জন্য তিনি আমাকে অনুরোধ করিলেন। আমি বিব্রতবোধ করিলাম। শেষে শহীদ সাহেবকে কথাটা বলিলে তিনি অবাক হইলেন। তার ইচ্ছা ছিল, ফজলুল হক সাহেবের অধীনে কাজ শিখাইবার জন্যে তিনি শেখ মুজিবকে ফজলুল হক সাহেবের পলিটিক্যাল সেক্রেটারী করিবেন। অথচ আতাউর রহমানের অভিযোগ সত্য।সত্যই মুজিবুর রহমানের মধ্যে এই দূর্বলতা ছিল যে, তিনি যেটাকে পার্টি-প্রীতি মনে করিতেন সেটা ছিল আসলে তার ইগোটিযম, আত্ম-প্রীতি। আত্মপ্রীতি এমনি আত্মভোলা বিভ্রান্তিকর মনোভাব যে ভাল-ভাল মানুষ এর মোহে পড়িয়া নিজের পার্টির, এমনকি নিজেরও, অনিষ্ট করিয়া বসেন। আমি যখন কংগ্রেসের সামান্য একজন কর্মী ছিলাম, তখনও উঁচুস্তরের অনেক কংগ্রেস নেতার  মনোভাব দেখিয়া বিস্মিত ও দু:খিত হইতাম। তাদের ভাবটা ছিল এই : ‘স্বরাজ দেশের জন্য খুবই দরকার। কিন্তু সেটা যদি আমার হাত দিয়া না আসে, তবে না আসাই ভাল।’ আমার বিবেচনায় মুজিবুর  রহমানের মধ্যে এই আত্ম-প্রীতি ছিল খুব প্রবল। এটাকেই তিনি পার্টি-প্রীতি বলিয়া চালাইতেন। এই জন্যই আতাউর রহমানের সহিত তার ঘন-ঘন বিরোধ বাঁধিত। এই বিরোধে উভয়েই আমার বিচার চাহিতেন, অর্থাৎ সমর্থন দাবি করিতেন। সে বিচারে আমি অযোগ্য প্রমাণিত হইয়াছি। নিরপেক্ষ সুবিচারের ভড়ক দেখাইতে গিয়া আমি অপরাধ করিয়াছি বলিয়া এতদিনে  আমার মনে হইতেছে॥” … শেখ মুজিবুর রহমান নির্যাতন ভোগ করিয়াছেন। তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আছেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমার অপেক্ষা অধিক। কিন্তু আমি আমার সাধারণ জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়া বুঝিতে পারি নাই যে, যে যুক্তফ্রন্ট তিন নেতার (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানী) সমন্বয়ে গঠিত হইয়াছিল, সেই যুক্তফ্রন্টকে ভাঙ্গিবার দায়িত্ব কেমন করিয়া তার উপর বর্তাইল। আমাদের বক্তব্য ছিল, জনাব ফজলুল হকের আচরণ অবাঞ্ছিত ও যুক্তফ্রন্টের স্বার্থের পরিপন্থী হইলে, শহীদ সাহেব আর মাওলানা ভাসানীর উপস্থিতিতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। ইতিমধ্যে হক সাহেব যদি প্রকাশ্যে গোলাম মুহাম্মদের সহিত হাত মিলাইতেন তাহা হইলে আওয়ামী লীগ তাকে বর্জন করিলে আওয়ামী লীগের ভূমিকা সম্পর্কে দেশবাসীর মনে কোন বিতর্কের সৃষ্টি হইত না॥” – তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) / পাকিস্তানী রাজনীতির বিশ বছর ॥ [বাংলাদেশ বুকস ইন্টারন্যাশনাল লি:- মে, ১৯৮১ । পৃ: ৫৬–৫৭] #০২ “… কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের যোগদানের প্রস্তাবে আমরা বিরোধিতা করিয়াছিলাম। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যরা অবশ্য প্রথম হইতে নুন মন্ত্রিসভাকে সমর্থন দিয়া আসিতেছিল। শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে প্রধানমন্ত্রীর পদ হইতে অপসারণের পর তাকে বাদ দিয়া অন্য প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ যোগদান করিবে না। নুন মন্ত্রিসভার প্রতি সমর্থন ঘোষণাকালে স্পষ্টভাবে এই কথা বলা হইয়াছিল। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতন কোন নূতন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় নাই বলিয়া আমরা জানাইলাম। ইস্কান্দার মীর্জা তবু তাগাদা দিতে লাগিলেন। মূখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের যোগদানের পক্ষপাতী ছিলেন। ইহারই মধ্যে একদিন শুনিতে পাইলাম যে, শহীদ সাহেবের নির্দেশে জহিরুদ্দিন, দেলদার আহমদ, নুরুর রহমান, আদিল উদ্দীন, আব্দুর রহমান খান এবং কংগ্রেস দলীয় মি: গোমেজ সমভিব্যাহারে শেখ মুজিবুর রহমান করাচী গমন করিয়াছেন। এই সংবাদ শুনিয়া আতাউর রহমান খান ক্ষুব্ধ হইলেন। তিনি মূখ্যমন্ত্রী অথচ তার সহিত পরামর্শ না করিয়া কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ দলীয় মন্ত্রী নিয়োগ করা হইতেছে, ইহাই তার ক্ষোভের কারণ। আতাউর রহমানের কথা শুনিয়া আমি বিস্ময়বোধ করিলাম। তিনি এই খবর রাখিতেন না, এই ধারনা আমার ছিল না। তার উপস্থিতিতেই আমি শহীদ সাহেবের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করিলাম এবং মন্ত্রিসভায় যোগদানের বিপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করিলাম। শেষ পর্যন্ত বলিলাম আতাউর রহমান সাহেবের করাচী না পৌঁছা পর্যন্ত যেন মন্ত্রিসভায় যোগদান না করা হয়। পরদিন আমরা দু’জন করাচী পৌঁছিলাম। বিমানবন্দরে শেখ মুজিব ও জহিরুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর হইতে আমরা খাবারের জন্য একটি হোটেলে গেলাম। খাবারের বিল পরিশোধের সময় শেখ সাহেব জহিরুদ্দিনকে ঠাট্টার সুরে বলিলেন, ‘মন্ত্রী হইয়াছ, খাবার বিল চুকাও।’ আমরা বুঝিলাম মন্ত্রিত্ব গ্রহণের কাজ ইতিমধ্যে সমাধা হইয়া গিয়াছে। রাত্রে এক বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াত ছিল। সেখানে নূতন মন্ত্রি জহিরুদ্দিন, এম পি এ নুরুদ্দীন ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য মন্ত্রি উপস্থিত ছিলেন। ড্রইংরুমে ঢুকিতেই নুরুদ্দিন বলিল, ‘মানিক ভাই, মুজিব আপনার সঙ্গে দেখা করিতে সাহস পাইতেছে না।’ আমি বলিলাম, ‘কেন?’ সে বলিল, ‘মন্ত্রিত্ব নিয়া যে কেলেঙ্কারি হইয়াছে, তার জন্য সে আপনার সঙ্গে দেখা করিতে সাহস পাইতেছে না।’…

ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান

ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান

:: এমাজউদ্দিন আহমদ :: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণবাংলাদেশ শুধু যে, একদিকে পশ্চিমে এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া…

সি আর দত্ত আমাদের স্মৃতি ও ইতিহাসের অংশ

সি আর দত্ত আমাদের স্মৃতি ও ইতিহাসের অংশ

:: মারুফ কামাল খান :: একবার ওসমানী সাহেব আমাকে সি আর দত্তের কাছে পাঠিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণী…

সেক্টর কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত

সেক্টর কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত

:: সাহাদত হোসেন খান :: আজ থেকে মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত আমাদের কাছে স্মৃতি হয়ে গেলেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি চির অম্লান…

মোশতাকের মন্ত্রিসভায় আ'লীগ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি 'প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের' ফল

মোশতাকের মন্ত্রিসভায় আ’লীগ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ ফল

[বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আদালতে তৎকালীন বিডিআর মহাসচিব এবং হত্যা পরবর্তী খন্দকার মোশতাক সরকার কর্তৃক চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত সাক্ষী মেজর জেনারেল (অব:) খলিলুর রহমান-এর জেরা থেকে … ] প্র: জেনারেল ওসমানী ১৯৮৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী লন্ডনে মারা যান?  উ: সন-তারিখ আমার মনে নেই।  প্র: জেনারেল ওসমানী জীবিত অবস্থায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে বই লিখেছিলেন। ৮ ভলিয়ম পান্ডুলিপি। তার বাড়ি সিলেটের নুর মঞ্জিলে এগুলো ছিল?  উ: আমি জানি না।  প্র: জেনারেল ওসমানী মারা যাবার পর একটি বিশেষ বিমানে সিলেটে গিয়ে এই পান্ডুলিপিসহ অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিলেন?  উ: ঐ নুর মঞ্জিলে কোন পান্ডুলিপি ছিল না। আমরা নিয়ে আসার প্রশ্নই ওঠে না।  প্র: আপনারা পান্ডুলিপি এনে ব্যাংকে জমা দেবার কথা বলেছেন অথচ জমা দেননি।  উ: ওসমানী সাহেব মারা যাবার পর তার নুর মঞ্জিলের সব জিনিসের তালিকা করেছি, তাতে কোথাও আমরা পান্ডুলিপি পাই নি।  প্র: সিলেটের ডাক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছে।  উ: তাকে জিজ্ঞাসা করলেই তার সত্যতা পাওয়া যাবে।  প্র: ওসমানী সাহেব বই লিখেছেন তা আপনি জানতেন?  উ: ওনার বই লেখা সম্পর্কে আমি জানতাম না।  প্র: ‘৭৫-এর ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনে আপনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন?  উ: তা সবই মিথ্যা।  প্র: আপনি বর্তমান সরকারীদলের একজন সমর্থক হিসাবে সত্য গোপন করে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন?  উ: আপনার বক্তব্য সত্য নয়। – বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা / এ্যাড: সাহিদা বেগম ॥ [তাম্রলিপি – ফেব্রুয়ারী – ২০১০ । পৃ: ৭৩৪] মোশতাকের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের একক অন্তর্ভুক্তি ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ ফল। এরা শেখ মুজিবের বাকশাল গঠন মেনে নিতে পারেননি। একটি তথ্যে জানা যায়, আওয়ামী নেতাদের একটি অংশ (যাদের মধ্যে ছিলেন …

স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনায় ধর্ম নিরপেক্ষতার উল্লেখ নেই

স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনায় ধর্ম নিরপেক্ষতার উল্লেখ নেই

“… ১৯৫৪ সালের নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত যুক্তফ্রন্টের ঘোষণানুসারে —  “কায়েদে আযমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সংগ্রাম করিয়া ভারতের দশকোর্টি মুসলমান পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করিয়াছে। বিরাট…