শহীদ জেহাদ স্মরণে

শহীদ জেহাদ স্মরণে

:: ওয়াসিম ইফতেখার ::

আজ ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদ দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে অবরোধ চলাকালে রাজধানী ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড়ে এরশাদের পেটোয়া পুলিস বাহিনীর গুলিতে নিহত হন সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া কলেজ ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন জেহাদ।

তাঁর এই আত্নবলীদানে অকস্মাত়্ৎ বারুদের মতন জ্বলে ওঠে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। অনবরত আপোষকামী একটি কুচক্রী দলের প্রধানের স্বৈরাচার এরশাদের সাথে আপোষের মাধ্যমে এরশাদকে টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। শহীদ জেহাদের মৃত্যু বিএনপির ছাত্র-সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আর আওয়ামীলীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হাবিবুর রহমান হাবিব-অসীম কুমার উকিল) কে গণ-আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যস্থলের মোহনায় নিয়ে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজু ভাস্কর্য’র সামনে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আমানউল্লাহ আমান, জিএস খায়রুল কবির খোকন ও এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম ও ছাত্রদল-ছাত্রলীগ নেতৃত্ব-সহ সকল ছাত্রসংগঠন শহীদ জেহাদের লাশ ও রক্ত ছুঁয়ে রক্ত-শপথ নেয় যেঃ

খুনী এরশাদের পতন ছাড়া তারা আর ঘরে ফিরে যাব-না।

এমনকি একটা ছাত্র সংগঠন তো সেদিন নিজ দলীয় নেত্রীকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেছিল। তাঁরা নিজ নেত্রীকে জানিয়েছিলঃ

এইবার এরশাদ স্বৈরাচারকে বাঁচানোর কোন আঁতাত মূলক প্রচেষ্টাকেই তারা আর মেনে নেবে-না।

এখন উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন আবার কবে আসবে শহীদ জেহাদদের সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ আর তা আবার কাঁপিয়ে দেবে আরেক বিশ্ববেহায়ার দুঃশাসন! আর বর্তমান ছাত্রদল তোমরা দেখ আমরা কিভাবে গর্ব করি আমাদের ইতিহাস নিয়ে। আর তোমরা ভবিষ্যতে লজ্জা পাবে যদি ব্যর্থ হও। ব্যর্থতার দৈন্যতা যে কাউরে ক্ষমা করে না।

সে এক আশ্চর্য দিনের বিস্ময়কর জনসভা। বিএনপির সেইদিনের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিন্যু এর কাছাকাছি রমনা ভবনের সামনে আর জনসভা শেষে মিছিল ও হয়েছিল একই রাস্তায়। অবশ্য সেদিন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা রাজপথে থাকতে পারেন নি। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একটি দলের নেত্রীকে আলটিমেটাম দেন যেঃ

এইবার এরশাদ স্বৈরাচারকে বাঁচানোর কোন আঁতাত মূলক প্রচেষ্টাকেই তারা আর মেনে নেবেনা।

বার্তা-সংস্থা REUTERS সেইদিনের সেই ঐতিহাসিক নিউজের ফুটেইজের ভিডিও দেয়া হল যাতে দেখা যাচ্ছে জেহাদের মৃত্যু পরবর্তী সর্ব-দলীয় ছাত্র-ঐক্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জেহাদের লাশ নিয়ে মিছিল এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এরশাদ ও বিশেষ নেত্রী’র আঁতাত বিরোধী আল্টিমেটাম দিচ্ছেন। ফুটেজ টি এটাচ করলাম সাথে

১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচিত বিএনপি সরকার জেহাদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্মারক ডাকটিকিট প্রস্তুত করে।

এখন উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন আবার কবে আসবে শহীদ জেহাদদের সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ আর তা আবার কাঁপিয়ে দেবে আরেক বিশ্ববেহায়ার দুঃশাসন! আর বর্তমান ছাত্রদল তোমরা দেখ আমরা কিভাবে গর্ব করি আমাদের ইতিহাস নিয়ে। আর তোমরা ভবিষ্যতে লজ্জা পাবে যদি ব্যর্থ হও। ব্যর্থতার দৈন্যতা যে কাউরে ক্ষমা করে না।

যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে, স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি। এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি। সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *