মৃত্যুদন্ডের মতন আইন করার পক্ষে মত দেবেন না

মৃত্যুদন্ডের মতন আইন করার পক্ষে মত দেবেন না

:: মুজতবা খন্দকার ::

ফাঁসি ছাড়া মানিনা এই শ্লোগান উঠেছিল গনজাগরণ মঞ্চ থেকে। সেটা ছিলো ফ্যাসিষ্ট শ্লোগান। ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের মুখ দিয়ে এই শ্লোগান শুনিয়েছিল জাতিকে। তখন বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের অাপিলের শুনানী চলছিলো হাইকোর্টে।


বিচার বিভাগকে চাপের মধ্যে রেখে কেউ কেউ বলেন ব্লামেইল করে,সেদিন যুদ্ধাপরাধ অাইনের কতিপয় ধারা সেসময় তাদের অনুগত সরকার দ্বারা সংশোধন করিয়ে নিয়েছিলো ,ইমরান,কামাল পাশা,বাপ্পাদিত্য বসু,জয়দেব নন্দি, অমি পিয়ালরা।


যুদ্ধাপরাধিদের বিচার তাই অাজও প্রশ্ন বিদ্ধ দেশ বিদেশে। অথচ প্রকাশ্যে বিচার বিভাগকে হুমকী দেয়া হলেও তখনকার প্রধান বিচারপতি সিনহা গংরা চুপ ছিলেন। অথচ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে টু শক্দটি করলে তার পরিনাম অাগে পরে অনেকেই টের পেয়েছেন। বিচার বিভাগের সবচেয়ে নির্দয় দংশনটা বোধ করি অামার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে করা হয়েছিলো। তিনি বিষে নীল হলেও মাথা নত করেননি। মাহমুদুর রহমানের অাপোষহীনতা সুবিধিত ঘটনা। এখনো অনেকেই কারনে অকারনে মাহমুদুর রহমানের প্রতি রাষ্ট্র,বিচার বিভাগ,নির্বাহী বিভাগ কোনো পক্ষই ন্যায় বিচার করেনি বলে মন্তব্য করেন।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি আমিন ভাই, অত্যন্ত সজ্জন লোক,ভদ্র এবং অমায়িক। আমি যখন রিপোর্টার ছিলাম, তখন তাকে কাছ থেকে দেখেছি। তিনি আওয়ামী লীগার হলেও,তথাকথিত আওয়ামী লীগারদের মতন ছিলেন না। তার কাছে আশা করবো,মৃত্যুদন্ডের মতন কোনো আইন যেন তিনি সমর্থন না করেন। আমি বিশ্বাস করি তিনি এ ধরনের আইন করার পক্ষে কখনো মত দেবেন না। আমিন ভাই, আপনার পথচলা সুগম হোক এটাই কামনা করি, তবে আপনি যদি আপনার সিনিয়রের মতন নিজেকে রাষ্ট্রের নয় আওয়ামী লীগের অ্যাটর্নী জেনারেল হয়ে যান,সেটা হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যের.. আপনার সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করি।


যে প্রধান বিচারপতি সিনহা সেদিন যুদ্ধাপরাধের বিচারে সরকারের সুরে সুর গড্ডারিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছিলেন,তিনি অাজ কোথায়? সেই তার প্রিয় সরকারই একদিন তাকে গলাধাক্বা দিয়ে শুধু জুডিশিয়ারী থেকে নয়,বাংলাদেশ থেকেই বের করে দিয়েছে। সম্ভবত ইতিহাসে তিনি একমাত্র প্রধান বিচারপতি যার নামে হুলিয়া হয়েছে। তিনি এখন বাংলাদেশ সরকারের খাতায় একজন ক্রিমিন্যাল বই কিছু নয়। সুতরাং অাইনের শাসন,সংবিধান,নিজের শপথ ভেঙ্গে সরকারের ইচ্ছা চরিতার্থ করতে যেই গিয়েছেন তার এমন পরিনতি হয়েছে। অারেকটি উদহরন অাপিল বিভাগের পদত্যাগি বিচারপতি অাবদুল ওয়াহাব মিয়া। তিনি লোভ সংবরণ করতে পারেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হয়েই তিনি হঠাৎ নিজের অতীত ভুলে যান। তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তার পূবর্তন বিচারপতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ অানেন।ভেবেছিলেন এতে তিনি হাসিনা সরকারের বিশ্বস্ততা পাবেন। কিন্তু সেটাইবা তিনি অাশা করেন কিভাবে? ক্যারিয়ারের অল থ্রু তিনি অাইনের প্রতি নিবেদিত ছিলেন,নিয়োগ পেয়েছিলেন খালেদা সরকারের সময়ে। বিচারিক কার্যক্রমে বলিষ্ঠতা দেখিয়েছিলেন। কিন্ত শেষ মুহুর্তে তার এই যে স্খলন। সেটা তিনি হাসিনার মন যোগাতে করেছিলেন, যদি প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করা যায়। যদি বা শিকেয ছেড়ে! কিন্ত না..এত কিছুর পরেও তিনি শেখ হাসিনার গুডবুকে ঠাই পাননি। শেষ মেস অভিমান করে চলে গেলেন। কিন্ত কী দরকার ছিলো জীবন সায়ান্নে এসে এভাবে অাপোষের!
শেখ হাসিনা এবং অাওয়ামী লীগকে সবাই চিনতে পারেনা,যেমন পারেননি অাবদূল ওয়াহাব মিয়া। গ্লোরিয়াস একটা ক্যারিয়ার সামান্য লোভে বির্সর্জন দিয়ে.. নিজেকে নো হোয়ার করে ফেলেছেন,এর কি কোনো দরকার ছিলো…?

এখন শাহবাগে,উত্তরা,এমনকি সারাদেশে ধর্ষনের সর্ব্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদন্ডের দাবি উঠেছে। দাবিটা কারা করছেন,মোটা দাগে বললে, সেই গণজাগরন মঞ্চে ইমরানের সাথে যারা ছিলেন তারাই,মানে সিপিবি,উদিচি এদের নেতাকর্মীরা। কিন্ত দেশে দেশে যখন মৃত্যুদন্ড রহিত করে অাইন হচ্ছে,সেখানে বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ডের অাওয়াজ কেন উঠলো? বাংলাদেশ কি তাহলে পেছনের দিকে যাবে,কিম্বা যাচ্ছে?


অার বারো বছরের নিচে কাউকে দলগত ধর্ষন করে তার মৃত্যুর কারণ হলে অামাদের দেশের অাইনেই তো মৃত্যুদন্ড রয়েছে। ধর্ষন হলেই তার শান্তি প্রাণদন্ড। এটা মানাটা কঠিন। যে কারনে ক্রস ফায়ার এনকাউন্টারের বিরোধীতা করি,ঠিক একই কারনে ধর্ষনের চরম শাস্তি মৃত্যুদন্ডও চাইনা।
ধর্ষনের যে অাইন অাছে, নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল যেটা খালেদা জিয়া সরকার করে গেছিলো। সেটার অধিনে যদি বিচার করা য্য়,তাহলে ধর্ষকের সব্বোর্চ শাস্তি যাবজ্জীবন এম্নিতেই হয়। দরকার পুলিশ রিপোর্ট, এফঅাই অার,তদন্ত এবং চার্জিশীটের নির্ভুলতা এবং নিরপোক্ষতা। কিন্ত সেটা কি হয় কিম্বা হচ্ছে। এক যুগের বেশী সময় ধরে হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায়। এই এতদিন ধরে পুলিশে যারা নিয়োগ পেয়েছে তারা কারা? বেছে বেছে তো নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগকে? দুদিন অাগে প্রথম অালোতে লিখেছে, পুলিশ রিপোর্টের কারনে অনেক বিসিএস উত্তীর্নরা অাটকে অাছেন। কারণ তাদের পরিচয় অাওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নয়।

তাই বলছি,প্রচলিত যে অাইন অাছে,তার শুদ্ধতম প্রয়োগ যদি হয় তবে,ধর্ষন অনেক কমে যাবে। কিন্তু সেখানেও যদি বাছ বিচার হয় তবে তো মুশকিল!


ধর্ষন কোন সেক্স এন্টারটেইনমেন্ট নয়। কখনো ছিলোনা। এটা জাষ্ট জিগাংসা চরিতার্থের বিষয়! রাজনৈতিক ব্যাকিং এবং সামাজিক প্রভাবে এটা করে থাকে শাসক দলের উচ্ছিন্নে যাওয়া অংশ। সুতরাং তাদের যদি শাসক দল নিয়ন্ত্রন করতে পারে তাহলে র্ধর্ষন অনেকাংশে কমে যাবে বলে অামার বিশ্বাস!
কিন্তু বাস্তবতা বলছে, হাসিনা সরকার যেহেতু, পুলিশ এবং দলীয় ক্যাডার নির্ভর। তাই পাড়ায়,পাড়ায় যে গ্যাং কালচার শুরু হয়েছে,তারা শাসকদলের জন্যই দরকার। কারণ, জনগনকে সমঝো চলাতে ভীতি প্রদর্শন করে দমিয়ে রাখতে শাসক কুলের এটা খুবই দরকার।


যেটা হুমো এরশাদের অামলে অামি দেখেছি। চড় মারলে মাথা ঘুরে পড়বে,সেই পিস্তল নিয়ে ঘুরে মহণ্লায়! সে যাইহোক, সরকারের অাইনমন্ত্রী অানিসুল হক। অামার অনেক পছন্দের একজন মানুষ। অামার প্রিয় স্যার অাতাউস সামাদের নিকটাত্মিয়।অামার অারেকজন প্রিয় মানুষ মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি
Ishtiaq Aziz Ulfat ভাইয়েরও অাত্মিয় তিনি। অানিস ভাই বললেন, ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে বিদ্যমান অাইনের সংশোধনী ক্যবিনেটে তুলবেন তিনি।


একটা অাইন হোক অার সংশোধনী হোক পাস করা মানে বিশাল ব্যাপার। যার সাথে জনগনের জীবনমরন জড়িত সেটা পাস করাটা তো অারো ব্যাপক। কিন্ত টিঅাইবির কদিনের অাগের রিপোর্ট বলছে,প্রতি তেত্রিশ মিনিটি সংসদে একটি অাইন পাস হয়েছে। অথচ একটি পাস হবার অাগে সেটা সংসদে অালোটরা হবে,এরপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাবে।স্থায়ী কমিটি প্রয়োজনে কিছু বিশেষজ্ঞদের মতামত নেবেন,ফের সেটা যাবে ক্যাবিনেটে,সেখান থেকে অাবার সংসদে,তারপর সংসদ সদস্যদের ভোটে পাস হবে অাইন। কিন্তু গত দশবছরে কোনো অাইনের ক্ষেত্রে এমন রেওয়াজ মেনে চলতে দেখিনি।


অাইন কমিশনের কাজ অাইনের খুটিনাটি দেখে মরকারকে সুপারিশ করা খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন অাইন কমিশনের কোনো সুপারিশ অাইনমন্ত্রনালায় নিয়েছে বলে অামার জানা নেই। অতীতেও নেয়নি তাই এমন একটি ঠুটো জগন্নাথ থাকার কোনো দরকার অাছে কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। প্রতিষ্টানটি হয়ে গেছে সরকারপন্থি বিচারপতিদের সুবিধাভোগের অাখড়া।


সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অামিন উদ্দিন ভাই, অত্যন্ত সজ্জন লোক,ভদ্র এবং অমায়িক। অামি যখন রিপোর্টার ছিলাম, তখন তাকে কাছ থেকে দেখেছি। তিনি অাওয়ামী লীগার হলেও,তথাকথিত অাওয়ামী লীগারদের মতন ছিলেন না। তার কাছে অাশা করবো,মৃত্যুদন্ডের মতন কোনো অাইন যেন তিনি সমর্থন না করেন। অামি বিশ্বাস করি তিনি এ ধরনের অাইন করার পক্ষে কখনো মত দেবেন না।
অামিন ভাই, অাপনার পথচলা সুগম হোক এটাই কামনা করি, তবে অাপনি যদি অাপনার সিনিয়রের মতন নিজেকে রাষ্ট্রের নয় অা্ওয়ামী লীগের অ্যাটর্নী জেনারেল হয়ে যান,সেটা হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যের.. অাপনার সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *