মাহবুবে আলমের সুস্থতা প্রার্থনা করি

মাহবুবে আলমের সুস্থতা প্রার্থনা করি

:: মুজতবা খন্দকার ::

মানুষ হিসেবে কোনো মানুষের অনিষ্ট কিম্বা অকল্যাণ চাওয়া কখনোই উচিৎ নয়। বাংলাদেশের অ্যার্টর্নী জেনারেল মাহবুবে অালম করোনা অাক্রান্ত হয়ে এখন সিএমএইচের অাইসিউ তে অাছেন। মাহবুব ভাইয়ের সুস্থতা প্রার্থনা করি।

মাহবুবে অালম,বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী সময়ের জন্য অ্যাটর্নী জেনারেল। বলতে গেলে তিনি রেকর্ড করেছেন। এর সংগত কারনও অাছে। সেটা নিশ্চই অাপনারা জানেন।মাহবুব ভাইয়ের সাথে অামার বহু স্মৃতি অাছে। পেশাগতকারনে তার সাথে অামার এই সম্পর্ক। তার অাগে অা্ওয়ামী লীগ সরকারের দুজন অ্যাটর্নী জেনারেলকে অামার কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো একজন হচ্ছেন কে এস নবি অন্যজন হচ্ছেন মাহমুদুল ইসলাম। কে এস নবি ছিলেন অাওয়ামী লীগের দলীয় লোক। সেই তুলনায় মাহমুদুল ইসলাম ছিলেন অাইনের পন্ডিত। তার কনষ্টিিটউশনাল ল বইটা দেশে বিদেশে প্রসংশিত এবং অাইনের ছাত্রদের অবশ্যই পাঠ্য। খর্বকায় প্রচার বিমুখ মাহমুদুল ইসলামকে অবশ্যই বলা যায়,তিনি সত্যিকার ছিলেন রাষ্ট্রের অ্যাটর্নী জেনারেল। এরপর কিম্বা বাকিরা সবাই রাষ্ট্রের চেয়ে ক্ষমতাসিন দলের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেছেন,যার সাথে রাষ্ট্রের নূন্যতম কোনো স্বার্থ জড়িত ছিলোনা।

যিনি গত বারো বছরে আওয়ামী লীগের আইন সমিতির কার্যালয়ে পরিনত করেছেন রাষ্ট্রের অ্যাটর্নী অফিসকে। যিনি তার পদমর্যাদা সম্পর্কে ভুলে গিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচনের ক্যাস্পিং করেন। সাংবিধানিক একটি পদে থেকে একটি দলের হয়ে প্রচারণা চালানো কেবল শেখ হাসিনার রাজ্যে সম্ভব। অন্য কোথাও এমন নজির দেখা মেলা ভার।

সেই কারনে মাহবুবে অালমকে অামি স্রেফ অাওয়ামী লীগের একজন ডিফেন্ডার মনে করি। মাহবুবে অালমের সময়ে রাষ্ট্রের কোনো স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে বলে অন্তত অামার জানা নেই, কেবল মাত্র সরকারের পলিটিক্যাল পারসার্ভ করতে তিনি প্রানপন খেটেছেন। রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা জড়িত যেসব ঋণ খেলাপির মামলা,ব্যাংক থেকে জনগনের কোটি কোটি টাকা লোপাটের মামলা, সরকারের ভ্যাট,অায়কর ফাঁকির মামলা অারো যেসব এসংক্রান্ত মামলা অাছে তাতে কখনো মাহবুবে অালমের নেতৃত্বাধীন অ্যাটর্নি অফিসকে ভূমিকা রাখতে অামি দেখিনি। অথচ সরকার বিরোধী পলিটিক্যাল মামলা হলে তার উৎসাহ দ্বিগুন হতো দেখতাম,সিঙ্গাড়া,সমুচা খাওয়ানোর পাশাপাশি অ্যাটর্নী অফিসে কেমন জানি উৎসব পরিবেশ বিরাজ করতো। অামার একবার মনে পড়ে বেগম জিয়ার মামলায়,তিনি অাদালতকে বলেছিলেন, এই মামলায় ‘সন্ত্রাসী খালেদা জিয়ার” জামিনের কোনো প্রভিশন নেই। অাদালত তাকে তিরস্কার করে বলেছিলেন.. জনাব অ্যাটর্নি অাপনি বড্ড অাগ বাড়িয়ে বলছেন। কনস্টিটিউশন ইন্টারপ্রিটিশনের জন্য অামরা অাছি,দয়া করে অাপনি ল পয়েন্টে অার্গুমেন্ট করুন…!

রবীন্দ্রভক্ত,ক্লাসিক্যাল সংগীতের সমঝদার ছিলেন মাহবুব ভাই। অামার মনে পড়ে ২০১২ সালের ৩/৪ অাগষ্ট মাহবুব ভাইয়ের সাথে কোনো একটা মামলা নিয়ে তার রুমে কথা বলছি। হঠাৎ এক ভদ্রলোক এলেন। মাহবুব ভাই অামাকে বললেন,উনি অামার বন্ধুস্থানীয় ওকে বিদায় দিয়ে বাকিটা বলবো। যাইহোক ভদ্রলোক এসেছেন,তার কন্যার বিবাহর দাওয়াত দিতে।ভদ্রলোক বলছেন,১২ অাগষ্ট সেনাকুঞ্জে অামার মেয়ের বিয়ে।অাপনাকে নিজে দাওয়াত দিতে এলাম। মাহবুব ভাই বললেন, অাগষ্ট মাসে তো অামি কোনো উৎসবে যাই না। লোকটা হতাশ হয়ে বললেন,কিন্তু কেন? মাহবুবে অালমের পাল্টা বক্তব্য জানেননা,এটা শোকের মাস। লোকটা তথমত খেয়ে বললেন এভাবে তো ভাবিনি। তিনি কিছুক্ষন চুপ থেকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বললেন,বঙ্গবন্ধু তো চৌদ্দ তারিখে রাতে বিয়েতে গিয়েছিলেন,নবদম্পতিকে অার্শিবার্দ করেছিলেন। তাতেও মাহবুব ভাইয়ের মন গললো না। লোকটাকে দেখলাম বিষন্নমনে ফিরে যেতে..এর কয়েকদিন পর মাহবুব ভাই, অামাকে ফোন দিয়েছেন,জরুরী দরকার। গিয়েছি। বেশ কজন বিচারপতি নিয়োগ হবে,সুপ্রিম কোর্টে। দুজনের নাম ফাঁস করে দিতে হবে। বললাম,গুন গুন করে রবীন্দ্র সংগীত গাইছেন ব্যাপারকি? বললেন,কলকাতা থেকে মোহন সিং এসেছিলো। সারারাত ওর গান শুনলাম। কোথায়.. যে বাসাটির কথা বললেন,সেটি ছিলো অাগষ্টে তার মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত করতে এসে প্রত্যাখাত হওয়া ভদ্রলোক।এ হেন অাওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব অন্তপ্রিয় একজন মাঝারি মানের অাইনজীবী মাহবুবে অালম। যিনি গত বারো বছরে অাওয়ামী লীগের অাইন সমিতির কার্যালয়ে পরিনত করেছেন রাষ্ট্রের অ্যাটর্নী অফিসকে। যিনি তার পদমর্যাদা সম্পর্কে ভুলে গিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচনের ক্যাস্পিং করেন। সাংবিধানিক একটি পদে থেকে একটি দলের হয়ে প্রচারণা চালানো কেবল শেখ হাসিনার রাজ্যে সম্ভব। অন্য কোথাও এমন নজির দেখা মেলা ভার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *