বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে সব হচ্ছে সুবিধাবাদী স্বার্থপর!

বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে সব হচ্ছে সুবিধাবাদী স্বার্থপর!

:: মুজতবা খন্দকার ::

পেয়াজের দাম কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা অাবার বেড়েছে। চালের দামও উর্ধ্বমুখী। এই ভরা ভাদরে নিম্ন বিত্ত মানুষের কষ্টের কোনো শেষ নেই। এমনিতেই ভাদ্র,অাশ্বিন অার কার্তিক এই তিনমাস সব সময় দেশের খেটে খাওয়া মানুষকে নানা উপায়ে কষ্ট শিষ্টে চলতে হয়। তার ওপর যদি নিত্য পন্যের দাম এমন লাগামহীন হয়, তাহলে দুর্ভোগটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা সহজেই অনুমিত। বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কেউ নেই। যে দলটির প্রতি মানুষের বেশী ভরসা করেছে সেই বিএনপি তাদের অাশাহত করছে সবচেয়ে বেশী। জনগনের জন্য তাদের কি কোনো দায় অাছে? অবস্থাদৃষ্টে অামার তা মনে হয়না। কেউ কেউ অবশ্য যুক্তি দিয়ে বলার চেষ্টা করেন, এইভাবে যে সরকারী নিপীড়নে দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে জেরবার অবস্থা, একটা মানববন্দন করারও স্পেস দিতে চায়না,সেখানে জনগনের কথা ভাববার সময় কোথায় দলটির। সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত একটি দলের পক্ষে সরকারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাংগঠনিক ভিত্তি কোথায়?

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে -বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে সব হচ্ছে সুবিধাবাদী স্বার্থপর! তারা বিএনপিকে একটি দল হিসেবে কখনো গড়ে উঠতে কখনো দেবে না… তাদের সুবিধামত সব কিছু করবে.. অার নেতৃত্ব কখনো বাইরে থেকে দিলে হয়না.. সেটা কেউ নেয়না। অামির খসরুর পারিবারিক ঐতিহ্য অাছে.. কিন্তু রাজনীতিতে তিনি এখনো নোমানের পর্যায়ে অাসতে পারেননি। তাইওয়ান কান্ড তো তিনি ঘটিয়েছিলেন। চীন ছিলো বিএনপির পরিক্ষিত বন্ধু তাকে হোষ্টাইল করার কি দরকার ছিলো..তখন? সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয়না। বিএনপির নেতৃত্ব যতদিন এটা না বুঝবেন,ততদিন পস্তাতেই থাকবেন, এটাই তাদের বিধিলিপি। অাসলে বলতে গেলে অনেকের কথাই বলতে হয়, বললে ঠাকুর বেজার হবে,তাই জিহবাটাকে লগাম পরালাম… শুধু বলি বেগম জিয়া উত্তর বিএনপি হচ্ছে স্ববিরোধীতায় ভরা একটি দল…!


যারা এমনটি বলেন অামাকে অামি তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনা। অামি মনে করিনা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতন দম বিএনপির নেই। কেন বিশ্বাস করিনা তার বড় প্রমান গত দুদিনে নয়াপল্টন অার গুলশান অফিসে নেতাকর্মীদের ভীড় দেখে। একটি নৈশভোটের পার্লামেন্টের এমপি হতে বিএনপি নেতাদের তাহলে এত অাগ্রহ কেন? কেন এত উৎসাহ। যদি সেই নির্বাচন ফেয়ার হতো,তাও না হয় কথা ছিলো। যে নির্বাচনে ভোট চুরি হবে জেনেও বিএনপির সেই নির্বাচনে যাবার ব্যাপারে কেন এত অাগ্রহ বা উৎসাহ। তাও অাবার এই করোনাকালে। করোনার অজুহাতে যেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দলের সব ধরনের পুর্নগঠনের কাজ ঘোষণা দিয়ো স্থগিত করা হয়েছে.. সেখানে চার পাচটি অাসনের উপনির্বাচনের জন্য দলের নেতাকর্মীদের এই যে শো ডাউন! তাতে জনগনের কাছে কি মেসেজ যাচ্ছে কিম্বা দিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকগন।


কেউ কেউ বলেন, বিএনপি সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে,অামি তাদের প্যাসেমেস্টিক মানসিকতার বলে এতদিন মনে করতাম, কিন্তু না ইদানিং তাদের বক্তব্য কেন জানি অামার মন নিতে সায় দিচ্ছে… তার দুটি কারণ এই মুহুর্তে অামার মনে পড়ছে.. একটি হচ্ছে.. বিএনপি নেতারা এই সংসদকে নৈশভোটের সংসদ বলে প্রথম দিন সংসদ বাতিলের দাবি করেছেন অথচ,তাদের যে সবেধন এমপি অাওয়ামী লীগ দয়াপরবশ হয়ে পাস করিয়েছিলো তাদের নব্বই দিন পার হবার অাগেই শপথ পড়িয়ে সেই সংসদে পাঠিয়ে নীশি ভোটের সংসদকে বৈধতা দিয়েছে। এরপর শফিক রেহমানের ত্রিশ সেট স্বর্নালংকার এমপি এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ জনে। তাতেও তার গুন গরিমা,মাহাত্ম সেই অাগের মতই অাছে তাদের ভাগও বিএনপি নিয়ে অলি অাহদের মেয়েকে সংসদে পাঠিয়েছে.. অার দ্বিতীয়টি হচ্ছে, নুরুল হুদার মতন একজন তৃতীয় শ্রেনীর জনতার মঞ্চের অামলা দ্বারা গঠিত কমিশন যারা নিশি ভোট কন্ডাক্ট করলো.. তাদেরকে প্রথমে মানিনা বলে ফের সেই কমিশনের অধীনে নির্বাচন নির্বাচন খেলা খেলতে বার বার গিয়ে বোল্ড অাউট হয়ে ফিরছেন..


বিএনপি অাসলে কি চায়, সেটা খোদ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কি জানেন? না কি সরকারেরই পুড়ে যাওয়া সলতেই প্রতিদিন তেল যোগাড় করে যাচ্ছে বিএনপি, অামি অবাক হই। এই দলটির এ হেন অাত্মবিধ্বংষি এজেন্ডাতে…!


গত বারো বছরে ক্রস ফায়ারে দলের এত এত সম্ভাবনাময় তরুন রাজনীতিককে হত্যা করেছে এই সরকারের কথিত গে্স্টাপো বাহিনী। অ্রথচ তাদের লাশের ওপর দিয়ে প্রতিদিনই বিএনপি নামক দলটি নিচ্ছে.. অাত্মঘাতি সিদ্ধান্ত!এতে কি প্রমানিত হয়না সরকারের জিয়নকাঠি হিসেবে কাজ করছে বিএনপি।
অাসলেই শেখ হাসিনা একজন দক্ষ খেলোয়াড়! তিনি জানেন কে কাকে,কোন দলকে কোন ভোগ দিয়ে বাগে অানতে হবে.. বাকিরা তার কাছে নস্যি! নস্যিই তো না হলে বিএনপি কিভাবে বাই ইলেকশনে যায়,তাও উৎসব পরিবেশে। বাদ্যি বাজিয়ে. মনে হয় যেন এই চার পাঁচটি অাসনই তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার অনুঘটক। ভাবতেও অবাক লাগে! বাকি অার কোন দল অাছে, সিপিব, ন্যাপ তো ঐতিহাসিকভাবে সরকারের সব অপকর্মের দোসর। বাকি থাকে কে.. এখন অার শার্টের অাস্তিন গুটানোরও কেউ বাকি নেই!

এক মাগুরা অাসনের উপ নির্বাচনের পর কিভাবে সাবেক বিচারপতি অাবদুর রউফ কমিশনকে চলে যেতে হয়েছিলো.. অথচ বিএনপি মাঠের অান্দোলনকে কখনোই সেইভাবে সিরিয়াসলি নেইনি.. নিলে কাদের যখন শ্লেষাত্মক ভাবে বলেন,খালেদা জিয়া জেলে যাবার পর পাচশো কর্মী নিয়েও মাঠে নামতে পারেনি বিএনপি। বরং খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী মানবিকতায় সাময়িক মুক্তি দিয়েছেন.. কাদেরর এই বক্তব্য খন্ডানোর কোনো যুক্তি বিএনপি নেতাদের অাছে.. অামার ধারনা নেই। এই অপমান বিএনপিকে কাদের বহুবার করেছেন, তবু বিএনপির অহমে লাগেনি…অথচ দলটির যারা সৃহৃদ তারা অপমানিত হয়েছেন বারংবার। বিএনপির কর্মী নেই, জনগন কি বিএনপির সাথে নেই.. অামি দেখেছি কথা বলে, বিএনপির হাজার হাজার,লাখো লাখো নিরব সমর্থক অাছে, জাতীয়তাবাদি এবং হিন্তুস্থানের অাধিপত্যবাদ বিরোধি বাংলার সব মানু্ষ, বিএনপির নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে থাকে.. তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে -বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে সব হচ্ছে সুবিধাবাদী স্বার্থপর! তারা বিএনপিকে একটি দল হিসেবে কখনো গড়ে উঠতে কখনো দেবে না… তাদের সুবিধামত সব কিছু করবে.. অার নেতৃত্ব কখনো বাইরে থেকে দিলে হয়না.. সেটা কেউ নেয়না। অামির খসরুর পারিবারিক ঐতিহ্য অাছে.. কিন্তু রাজনীতিতে তিনি এখনো নোমানের পর্যায়ে অাসতে পারেননি। তাইওয়ান কান্ড তো তিনি ঘটিয়েছিলেন। চীন ছিলো বিএনপির পরিক্ষিত বন্ধু তাকে হোষ্টাইল করার কি দরকার ছিলো..তখন? সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয়না। বিএনপির নেতৃত্ব যতদিন এটা না বুঝবেন,ততদিন পস্তাতেই থাকবেন, এটাই তাদের বিধিলিপি।

অাসলে বলতে গেলে অনেকের কথাই বলতে হয়, বললে ঠাকুর বেজার হবে,তাই জিহবাটাকে লগাম পরালাম… শুধু বলি বেগম জিয়া উত্তর বিএনপি হচ্ছে স্ববিরোধীতায় ভরা একটি দল…!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *