বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফেরার আবেদন জিয়া নাকচ করেন

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফেরার আবেদন জিয়া নাকচ করেন

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট অভ্যুত্থানের নায়ক ফারুক, রশীদ ও অন্যান্যরা ভেবেছিল তাদের বিদেশে অবস্থান হবে স্বল্প কালের জন্য। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষের দিকে তারা বুঝতে পারল যে, তাদের দেশে ফেরা জেনারেল জিয়ার কাম্য নয়। দেশে ফেরার জন্য তাদের সকল আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের পরিবারবর্গকে বেতন ও ভাতা দেয়া থেকে পর্যন্ত সরকার বিরত থাকে। রশীদ ও ফারুককে এ সময় সেনাবাহিনী থেকে অবসর প্রদান করা হয়। এ সমস্ত কারণে ফারুক ও রশীদ জিয়ার প্রতি রাগান্বিত হন। রশীদ শেষ পর্যন্ত জেনারেল জিয়াকে দুই পাতা বিশিষ্ট একটি চিঠি লেখেন এবং ঢাকা যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। রশীদ এই পত্রে আরও উল্লেখ করেন যে, জেনারেল জিয়াকে অবশ্যই তাদের ফেরত যাবার খরচ বাবদ ১৫০০০ ডলার পাঠাতে হবে। যদি ফেরত যেতে না দেওয়া হয় তাহলে তার যথার্থ কারণ ৩ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে। তা না হলে তারা নিজ খরচে ঢাকা ফিরে আসতে বাধ্য হবেন।

রশীদ ও ফারুক বেনগাজীতে বসে জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ফারুক ২৪শে মার্চ ফ্রাংকফুটে। এ সময় রশীদ বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বার্তা পান যে, শুধুমাত্র তাকে বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের জন্য ফিরে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বার্তায় ফারুক ও অন্যান্যদেরকে ফিরে না আসার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়। রশীদ অবিলম্বে ফ্রাংকফুটে ফারুকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। ফারুক তখন লন্ডনে চার্চিল হোটেলে এবং এম.জি তোয়াব সে সময় পোর্টম্যান হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ফারুক তিনবার তোয়াবের সাথে বৈঠকে মিলিত হন এবং জানতে পারেন যে ১৪টি ট্যাংক ঢাকার অদূরে সাভার সেনানিবাসে মোতায়েন আছে।

জেনারেল জিয়া ২৩শে ফেব্রুয়ারী সেনাবাহিনীর এডজুডেন্ট জেনারেল ব্রিগেডিয়ার নুরুল ইসলাম শিশুকে বেনগাজী পাঠান। শিশু তাদের সাথে আলাপ করেন এবং বিদেশী দূতাবাসে চাকুরী প্রদানের নিশ্চয়তা দেন। ফারুক ও রশীদ চাকুরী গ্রহণে অস্বীকার করলে শিশু তাদের দেশে ফিরে যাবার বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ার নিশ্চয়তা দেন এবং বলেন যে, এটা করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। রশীদ দলের পক্ষ থেকে জিয়াকে হাতে লেখা আর একটি পত্র দেন। এই পত্রে রশীদ জিয়ার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দেশ সেবার প্রস্তাব পেশ করেন এবং জিয়ার উত্তরের জন্য ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করবেন বলে জানান।

রশীদ ও ফারুক বেনগাজীতে বসে জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ফারুক ২৪শে মার্চ ফ্রাংকফুটে। এ সময় রশীদ বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বার্তা পান যে, শুধুমাত্র তাকে বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের জন্য ফিরে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বার্তায় ফারুক ও অন্যান্যদেরকে ফিরে না আসার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়। রশীদ অবিলম্বে ফ্রাংকফুটে ফারুকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। ফারুক তখন লন্ডনে চার্চিল হোটেলে এবং এম.জি তোয়াব সে সময় পোর্টম্যান হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ফারুক তিনবার তোয়াবের সাথে বৈঠকে মিলিত হন এবং জানতে পারেন যে ১৪টি ট্যাংক ঢাকার অদূরে সাভার সেনানিবাসে মোতায়েন আছে।

জেনারেল জিয়া বেঙ্গল ল্যান্সারকে বিভক্ত করে অপর একটি রেজিমেন্ট ১৪টি ট্যাংক এবং ৫০০ সৈনিক সমন্বয়ে গঠন করেন। বেঙ্গল ল্যান্সারকে বগুড়া সেনানিবাসে এবং প্রথম বেঙ্গল ক্যাভালরীকে সাভার সেনানিবাসে স্থানান্তর করা হয়। তোয়াব ফারুককে জানান রাত ৯ টা পর্যন্ত ট্যাংক বহরকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় প্রশিক্ষণের জন্য।

ফারুক বেনগাজী ফিরে এলেন এবং রশীদের সাথে বসে পরিকল্পনা তৈরী করলেন। স্থির করা হোল ফারুক মোসলেমউদ্দিন এবং হাসেমকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে যাবেন। তারা সিঙ্গাপুরে ঢাকা থেকে রশিদের বার্তার অপেক্ষা করবেন। রশীদ ঢাকা অবস্থান কালে আভ্যূত্থানের জন্য দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারী, বেঙ্গল ল্যান্সার ও প্রথম বেঙ্গল ক্যাভালরীর সৈন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন একই সংগে ফারুক ও অন্যান্যদের দেশে ফেরার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করবেন। পরিকল্পনাটি ছিল নিম্নরুপ:

প্রথম দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারী ও ট্যাংক বাহিনী ফারুকের সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমান ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ মাত্র ঢাকা বিমান বন্দর দখল করে নেবে। ফারুক তখন এই সব সৈন্যদেরকে নিয়ে জেনারেল জিয়া এবং অন্যান্য উর্দ্ধতন সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ক্ষমতা দখল করবে। দ্বিতীয় বিকল্প পরিকল্পনা ছিল ফারুক ঢাকা বিমান বন্দর অবতরণ করা মাত্র কেউ জানার আগেই তাকে সাভারে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ফারুক ট্যাংক বাহিনীসহ ঢাকা প্রবেশ করবে। উল্লেখ্য যে এসব নাটকীয় পরিকল্পনা কোনটাই কার্যকরী হয়নি।

রশীদ শিশুকে ফোন করেন এবং মেজর ডালিমকে সংগে নিয়ে আসার অনুমতি চান। রশীদ ব্যাংকক থেকে ২০শে এপ্রিল ঢাকা বিমান বন্দরে পৌঁছান। বিমান বন্দরে আত্মীয়স্বজন ছাড়াও সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সে দিনই রাতে ব্রিগেডিয়ার শিশু রশিদকে নিয়ে জেনারেল জিয়ার কাছে যান। এ বৈঠক ছিল দীর্ঘ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। রাতের খাবারের পর জিয়া রশীদকে জিজ্ঞেস করলেন – ‘ফারুক কোথায়’ ? উত্তরে ফারুক বেনগাজীতে আছে জানালে জিয়া বলেন যে, একটি বিশ্বস্ত সূত্রে তাকে জানিয়েছে যে, ফারুক সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে।

পরিকল্পনা মোতাবেক ফারুক দেশে ফিরে আসেন এবং সাভার সেনানিবাসে প্রায় দুই হাজার সৈন্য তাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং “ফারুক জিন্দাবাদ” শ্লোগান দিতে থাকে।

২৫ শে এপ্রিল একই বিমানে তোয়াব এবং ডালিম ঢাকা আসেন।এই ঘটনায় তোয়াবের প্রতি জিয়ার সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীকালে তোয়াবকে বিমান বাহিনীর পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

২৭ শে এপ্রিল বগুড়া সেনানিবাস থেকে বেংগল ল্যান্সারের সৈনিকেরা এই মর্মে বার্তা পাঠায় যে অবিলম্বে ফারুককে বগুড়া পাঠাতে হবে। তা না হলে তারা ট্যাংকসহ ঢাকা চলে আসবে। এই খবরে জিয়া আতংকিত (?) হয়ে উঠে এবং এক ব্যাটেলিয়ন সৈন্য আরিচা ঘাটে মোতায়েন করে। একই সংগে জিয়া ফারুককে বগুড়া যেতে অনুমতি দেন এবং ফারুক কালো আর্মার্ড ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় বগুড়া সেনানিবাসে প্রবেশ করেন।

২৭ শে এপ্রিল বিকেলে রশীদকে গৃহবন্দি করা হয়। পরদিন সকালে ৪ জন অফিসার তাকে জেনারেল জিয়ার কাছে অফিসে নিয়ে যান। পাশের একটি ঘরে ৬ ঘন্টা বসিয়ে রাখার পর জিয়া সাক্ষাত প্রদান করেন। জিয়া রশীদকে বলেন যে, রশীদ, ফারুক, ডালিম এবং অন্যান্যদেরকে অবশ্যই কিছু দিনের জন্য বাইরে থাকতে হবে। জিয়া তাদের সবাইকে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে চাকুরী প্রদানের নিশ্চয়তা দেন। রশীদকে সামরিক প্রহরায় বিমান বন্দর নিয়ে যাওয়া হয় এবং রশীদ ও ডালিমকে থাই এয়ার ওয়েজের একটি বিমানে ব্যাংকক পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বগুড়া সেনানিবাসে ৬ ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে: কর্ণেল হান্নান শাহ বেংগল ল্যান্সারের সৈনিকদেরকে ঘিরে ফেলে। ঢাকায় জেনারেল জিয়ার সুদৃঢ় অবস্থানের কথা ভেবে এবং রশিদ ও ডালিমের দেশ ত্যাগের কথা জানতে পেরে ফারুক নিরাশ হয়ে পড়ে। জেনারেল জিয়া ফারুকের পিতা ও বোনকে একটি হেলিকপ্টারে বগুড়া পাঠান এবং ফারুকের আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তাব দেন। ফারুক কোন উপায়ন্তর না দেখে আত্মসমর্পন করেন এবং পরে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দুঽমাস পরে ১৫ ই জুলাই ১৯৭৬ জেনারেল জিয়া বেংগল ল্যান্সারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

ফারুক ও রশীদ বিদেশী দূতাবাসে চাকুরী গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। বাকী ১১ জনকে বিদেশী দূতাবাস সমূহে পদস্থ করা হয়।

১৯৭৭ সালের মে মাসের ১ম সপ্তাহে আংকারায় বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সেক্রেটারী হিসাবে কর্মরত লে: কর্ণেল (অব:) আবদুল আজিজ পাশা ছুটিতে দেশে ফেরার পথে ইসলামাবাদে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত মেজর বজলুল হুদা এবং পিকিং থেকে আগত লে: কর্ণেল শরিফুল হক ডালিমের সংগে বৈঠকে মিলিত হন। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ সরকারকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎখাত করার বিষয়টিও আলোচিত হয়। পাশা, ডালিম ও হুদা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা ও সেনাবাহিনীর সৈনিকদের সংগে গোপনে যোগাযোগ করে একটি সশস্ত্র সংগঠন তৈরির পরিকল্পনা করেন। ডালিম এর আগে তেহরানে মেজর নুরের সংগেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাপ্তাহিক হলিডেতে প্রকাশিত পাশার স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বাম পন্থী সরকার গঠন করা এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল।

ডালিম ও পাশা সমমনা সামরিক অফিসার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংগে যোগাযোগ করবেন, সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিয়ে একটি গোপন সংগঠন করার দায়িত্ব পড়লো লে: কর্ণেল দিদারুল আলম ও লে: কর্ণেল নুরুন্নবী খানের ওপর। মোশাররফ হোসেন ও কাজী মনির হোসনকে বাম পন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সংগে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। মনির জগন্নাথ কলেজের বাম পন্থী ছাত্র নেতা ছিলেন এবং মোশাররফ ছিলেন কৃষি ব্যাংকের অফিসার যার সাথে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যোগাযোগ ছিল। মাও পন্থী সর্বহারা দলের নেতা লে: কর্ণেল জিয়াউদ্দিনের সমর্থনের জন্য ডালিম বেশ কয়েকবার জিয়াউদ্দিনের সংগে যোগাযোগ করেন। কিন্তু জিয়াউদ্দিন এ ধরণের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। ডালিম ও পাশা লিফলেট ছাপানোর জন্য একটি প্রিন্টিং প্রেস ক্রয়ের অর্থ দিদারুল আলমকে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন। অনুরুপভাবে অর্থ সংগ্রহের জন্য একটি আন্ত:নগর বাস কিনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২৬ থেকে ২৯ শে ডিসেম্বর আংকারায় অপর একটি বৈঠকে পাশা, বজলুল হুদা, রশিদ ও নুর মিলিত হয়। ডালিম ও শাহরিয়ারের ও যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মূহুর্তে ছুটি না পাওয়ায় উপস্থিত হতে পারেননি। ফারুক তখন বাংলাদেশে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে কারাগারে দিন কাটাচ্ছিলেন। আংকারার এই বৈঠকের কথা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মামুন ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেন। এতে পাশা ক্ষিপ্ত হয়ে মামুনের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।

এই ঘটনার ৫ মাস পরে ডালিম, শাহারিয়ার ও হুদা আংকারায় যান এবং ২৭ শে মে তারিখে পাশার সাথে বৈঠকে মিলিত হন। নুর ছুটি না পাওয়ার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি। রশিদের পরিবর্তে সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত এবং লিবিয়ায় নির্বাসিত জীবন যাপনকারী ফারুকুর রহমান আসেন।


দিদারুল আলম জুন মাসেই অভ্যূত্থান ঘটাতে চান কারণ বেশী দেরী করলে গোপনীয়তা রক্ষা করা যাবে না। দিদারুল আলম জাসদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সৈনিকেরা ৭ই নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের মত একটি বিপ্লব ঘটাতে অধিকতর আগ্রহী হয়ে পড়েন। দিদারুল আলম ঢাকায় কুমিল্লা ও সাভার সেনানিবাসের সংগে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এভাবেই ১৯৮০ সালের ১৭ই জুন আরেকটি ব্যর্থ অভ্যূত্থান ঘটানে হয়। জিয়া এই সময়ে বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন। অভ্যূত্থানকারীরা সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এরশাদকে হত্যা ও অন্যান্য অফিসারদের বন্দি অথবা হত্যা করে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করেন। সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় অত:পর একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করে দেশ শাসন করা হবে এবং ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী বিদ্রোহের দাবীসমূহ বাস্তবায়ন করা হবে।

সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এ ঘটনার কথা জেনে ফেলে এবং একটি লিফলেট উদ্ধার করে। ফলে ১৭ই জুন তারিখের অভ্যূত্থান সংঘটিত হওয়ার আগেই ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়। গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারগণ অনেক সৈনিককে গ্রেফতার করেন এবং বাকী সৈন্যরা পালিয়ে যায়। দিদারুল আলম ভারতে পালিয়ে যায় এবং পরে বাংলাদেশে ফিরে আসলে ১৯৮০ সালের ১১ই নভেম্বর কুষ্টিয়া শহরে একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আব্দুল আজিজ পাশাকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য দেশে ফিরে আসতে বলেন। ১৮ই নভেম্বর পাশা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত ও সশস্ত্র বাহিনীর সৈনিকদের বিপথগামী করার অভিযোগে ১০ই মার্চ ১৯৮১ সালে ঢাকা সেনানিবাসে এক সামরিক আদালতে এদের বিচার করা হয়। আবদুল আজিজ পাশা ও কাজী মনির হোসেন অপরাধ স্বীকার করেন এবং রাজস্বাক্ষী হিসাবে সাক্ষ প্রদান করেন। ২০ শে মে তারিখ আদালত দিদারুল আলমকে ১০ বৎসরের কারাদন্ড, মোশাররফ হোসেন ও লে: কর্ণেল নুরুন্নবীকে যথাক্রমে ২ বৎসর ও ১ বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত করে। কাজী মুনির হোসেনকে ক্ষমা করা হয় এবং সেই সাথে আবদুল আজিজ পাশা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে আংকারাস্থ বাংলাদেশী দূতাবাসে নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান। উল্লেখযোগ্য, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে প্রায় ২১টি ছোট বড় অভ্যূত্থান অথবা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়॥”

মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি

স্বাধীনতার বাইশ বছরকাকলী প্রকাশনী – ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ । পৃ: ৮০-৮৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *