বঙ্গবন্ধুর একি পরিবর্তন!

বঙ্গবন্ধুর একি পরিবর্তন!

 

 

পদধূলির জন্য আগ্রহের আতিশয্য দেখে বিরক্ত হয়ে একদিন বললেন, The more I see my people, more I love my dog. এই খ্যাতনামা উক্তিটি কার জানি। এও জানি, বঙ্গবন্ধুও কম দু:খে একথা উচ্চারণ করেননি। কিন্তু একই ছড়ি দিয়ে কুকুর ও দলের কর্মীদের আদর করতে দেখে আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি। বঙ্গবন্ধুর একি পরিবর্তন!

 

 

The more I see my people, more I love my dog.

“… গণভবনে উন্মুক্ত পরিবেশে মাঠের মধ্যে বেতের চেয়ার পেতে তিনি বিকেলের দিকে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে বসেন। হাতে একটা ছড়ি। পোষা কুকুরটিকে সেই ছড়ি দিয়ে মৃদু আঘাত করছেন প্রাণীটিকে ভালোবেসে। সে তা বুঝতে পেরে পায়ের সামনে বসে আনন্দে লেজ নাড়ায়। সেখানেও মানুষজনদের বিরাম নেই। এক এক দল আসছে। আর বঙ্গবন্ধুর পদধূলি নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। প্রায়ই তার পাশে বসে সমস্ত কান্ড উপভোগ করি। যে ছড়ি দিয়ে তিনি একটু পূর্বে কুকুরকে আদর করছিলেন, সেই ছড়িই কর্মীদের মাথায়-শরীরে ঠেকিয়ে সালামের উত্তরে দোয়া এবং স্নেহ দিচ্ছেন। পদধূলির জন্য আগ্রহের আতিশয্য দেখে বিরক্ত হয়ে একদিন বললেন, The more I see my people, more I love my dog. এই খ্যাতনামা উক্তিটি কার জানি। এও জানি, বঙ্গবন্ধুও কম দু:খে একথা উচ্চারণ করেননি। কিন্তু একই ছড়ি দিয়ে কুকুর ও দলের কর্মীদের আদর করতে দেখে আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি। বঙ্গবন্ধুর একি পরিবর্তন!

কিছু কিছু ঘটনা আমার কাছে ঘোরের মতো অনুভূত হত। বঙ্গবন্ধু কি কাজের চাপে, মানুষের চাপে বা সর্বময় ক্ষমতার অমোঘ স্রোতে বিলীন হয়ে যাচ্ছেন, নাকি তার মনে জন্ম নিয়েছে এমন অহমিকা যা প্রকারান্তরে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং যার পরিণাম কখনও শুভ হয় না।

গণভবনে তার কক্ষে এক সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেল। তখন এদেশে চার্জ-লাইটের প্রচলন হয়নি। আমরা মোমবাতি বা ল্যাম্প আনার জন্য ডাকাডাকি করতেই তিনি বলে উঠলেন, এই বিদ্যুৎ এক্ষুণি চলে আয়। আমি বলছি, চলে আয়।

নিবেন করলাম, নেতা, কোন যান্ত্রিক কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। আমাদের মতো ওটা নির্দেশ পেয়ে ছুটে আসবে না। অপেক্ষা করতে হবে। বাতি আনুক তিনি আবারও একই সুরে বললেন, আমি বলছি, এই লাইট চলে আয়। এখনি চলে আয়।

তিনি যদি হাস্যচ্ছলে বলে থাকেন তা হলে ঠিক আছে। কিন্তু অন্য কোন অনুভূতি থেকে বলে থাকলে সমূহ ভয়ের কারণ রযেছে।

তিনি গণভবনের ভিতরে পুষ্করিণীতে নানা রঙের মাছ ছেড়ে দিলেন। অবসর পেলেই সেগুলো দেখতে যেতেন। পূর্বেই বলেছি, আমার কোন গুণের কারণে নয়, তিনি আমাকে অকারণেই অধিক স্নেহ করতেন এবং কাছাকাছি দেখতে ভালোবাসতেন। এক বিকেলে বললেন, আমার মাছ দেখেছিস?

বললাম, না লীডার, দেখা হয়নি।

তিনি বললেন, চল তোকে মাছ দেখাই। সঙ্গে আরও কেউ কেউ ছিল। তিনি ঘাটের শেষপ্রান্তে নেমে ডাকলেন, এই মাছ, এদিকে আয়!

কে কার কথা শোনে। মাছ ডাকতে হলে কিছু খাবার ছিটিয়ে দিতে হয়। ভয়ে ভয়ে বললাম, লীডার শুন্য হাতে ডাকলে হবে না – ওরা ডাক শুনতে পায় না। কিছু খাদ্যদ্রব্য ছিটিয়ে দিতে হবে।

তিনি ছোটখাটো হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, আলবৎ আমার ডাক শুনতে হবে। এই মাছের বাচ্চারা, এদিকে আয়। আমি বলছি, এদিকে আয়।

অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল। তার চেহারার সূক্ষ্ণ পরিবর্তন খুব একটা দেখতে পাই নি।

সেদিন মাছ দেখা গেল না। তিনি দৃশ্যতই হতাশ হলেন॥”

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন 
মুজিব সরকারের প্রথম চীফ হুইপ
বলেছি বলছি বলব  অনন্যা - সেপ্টেম্বর২০০২  পৃ২৪৫-২৪৬ 

দুই।

“… পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর মানানসই অফিস রয়েছে। তার স্টাফদের কোন অসুবিধা হয় না। কিন্তু তিনি গণভবনে বসতেই পছন্দ করতেন। একদিন শোনা গেল প্রকৌশলীরা পার্লামেন্ট ভবনের মাইকের তার গণভবন পর্যন্ত টানতে গিয়ে অনেক রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করেছে। তিনি জানেন, পার্লামেন্টের সাউন্ড সিস্টেম সংসদ ভবনের গন্ডি পেরিয়ে বাইরে যাওয়া রীতি-বিরুদ্ধ। পুরনো সংসদ ভবনেই তখন পর্যন্ত পার্লামেন্ট অবস্থিত ছিল। সেখান থেকে নতুন গণভবন, অর্থাৎআজকের করোতোয়া পর্যন্ত অনেকটা পথ বিশেষভাবে খুঁড়তে হয়েছে সেই বিশেষ লাইনটি বসানোর জন্য।

ইদানীং বক্তৃতা-বিবৃতিতেও তিনি কোন……

[ক্রমশ] 

One thought on “বঙ্গবন্ধুর একি পরিবর্তন!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *