পলাশীর প্রান্তরে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হবার দিন

পলাশীর প্রান্তরে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হবার দিন

:: মারুফ কামাল খান ::

আজ তেইশে জুন। পলাশীর প্রান্তরে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে প্রায় বিনাযুদ্ধেই দুশো বছরের জন্য আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হবার দিন।আজ তেইশে জুন। ঢাকার টিকাটুলি এলাকার রোজ গার্ডেন নামের ক্ষয়িষ্ণু এক সামন্তবিলাসভবনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রিক শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অভ্যুদয়ের দিন। সেটা ১৯৪৯ সালের কথা।এর পরের বছরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মানকি শরীফের পীর, নবাবজাদা নসরুল্লাহ্ খান, নবাব ইফতেখার হোসেন মামদুদ প্রমুখ পশ্চিম পাকিস্তানবাসী নেতার যোগদানের মাধ্যমে এটিকে নিখিল পাকিস্তানি দল হিসাবে রূপ দেয়া হয়। কয়েক বছর পর মুসলিম শব্দ বিলোপ করে দলটিকে সার্বজনীন করা হয়। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগকে হারিয়ে ভূমিধস বিজয় আসে এই দলের সঙ্গে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, হাজী দানেশদের গণতন্ত্রী দল, নেজামে ইসলাম পার্টি ও আরো কয়েকটি ক্ষুদ্র দলের জোট যুক্তফ্রন্টের।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। তাঁর নির্দেশনায় এবং তাঁর প্রবর্তিত দলবিধির আওতায় অন্যান্য বিলুপ্ত দলের সঙ্গে আওয়ামীলীগ পুনর্জন্ম লাভ করে। বিএনপিসহ নতুন কিছু দলও গঠিত হয়। বাকশালের ভষ্মস্তুপ থেকে শহীদ জিয়ার নির্দেশনা ও অনুমোদনে পুনর্জন্ম নেয়া আওয়ামীলীগই আজকের আওয়ামী লীগ।এই দলটি ভাসানীর নেতৃত্বে রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ার তারিখকেই জন্মদিন ধরে আজ তার একাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  উদযাপন করছে। কিন্তু দলের স্থপতি ভাসানীর প্রতি তাদের কোনো কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। সোহরাওয়ার্দীর যোগদানের মাধ্যমে ১৯৫০ সালে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের তারিখকে তারা জন্মদিন ধরেনা। ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দ বিলুপ্ত করে কেবল আওয়ালীলীগ গড়ার তারিখকেও তারা জন্মদিন মনে করেনা। এমনকি সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিবের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে যে দিনটিতে পুনর্গঠিত হয় আওয়ামীলীগ, সেই তারিখকেও তারা দলের জন্মদিন বলে মানেনা। আর বাকশালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আওয়ামীলীগের শহীদ জিয়ার নির্দেশনায় পুনর্জন্মের তারিখকে জন্মদিন মানা তো দূরের কথা, এই সত্যটা স্বীকার করতেও তাদের লজ্জার অন্ত নেই।

১৯৫৬ সালে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে তার অনুসৃত ফরেন পলিসি এবং নীতি-কৌশলগত প্রশ্নে অন্যান্য কিছু বিষয়ে দলে বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধের সূত্র ধরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ভাসানী তাঁর অনুসারীদের নিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ১৯৫৭ সালে ন্যাপ গঠন করেন।১৯৫৮ সালে পাকিস্তানজুড়ে মার্শাল ল জারি করা হয়। সোহরাওয়ার্দী সহ রাজনৈতিক নেতারা বন্দী ও হেনস্তা এবং নানান রকম প্রহসনের বিচারে সাজাপ্রাপ্ত হন। রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকে। পরে সোহরাওয়ার্দী কারামুক্ত হয়ে আইউব বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন। এ আন্দোলন দানা বেধে ওঠার আগেই ১৯৬৩ সালে তিনি মারা যান। তার ইন্তেকালের পর আওয়ামী লীগ আবারো পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক দলের রূপ হারিয়ে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়।সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশকে সভাপতি করে আওয়ামীলীগ পুনর্গঠন করা হলেও আসল নেতৃত্ব ছিল সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে এবং অচিরেই তর্কবাগীশকে সরিয়ে তিনি সভাপতির পদ গ্রহন করেন।এরপর তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ছয় দফা কর্মসূচি দিয়ে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব ধাপে ধাপে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেন। পাক-ভারত যুদ্ধের পর ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ মাত্র এই পাঁচ বছর সময়ের মধ্যেই আওয়ামীলীগ ও শেখ মুজিবের যাদুকরী বিষ্ময়কর উত্থান ঘটে এই অঞ্চলে।পরের ইতিহাস আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিজয়, জনতার ম্যান্ডেট মানতে পাকিস্তানের সমরজান্তা ও ক্ষমতালিপ্সু কুচক্রী রাজনৈতিক মহলের অস্বীকৃতি, গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও রক্তসাগর পেরিয়ে স্বাধীনতা।স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রগঠন এবং দেশ পরিচালনায় আওয়ামীলীগ শোচনীয় ব্যর্থতার কালো অধ্যায় রচনা করে। তারপর শেখ সাহেব নিজেই একদলীয় বাকশাল শাসনপদ্ধতি চালু করে সব দলের সঙ্গে আওয়ামীলীগও বিলুপ্ত করে দেন।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। তাঁর নির্দেশনায় এবং তাঁর প্রবর্তিত দলবিধির আওতায় অন্যান্য বিলুপ্ত দলের সঙ্গে আওয়ামীলীগ পুনর্জন্ম লাভ করে। বিএনপিসহ নতুন কিছু দলও গঠিত হয়। বাকশালের ভষ্মস্তুপ থেকে শহীদ জিয়ার নির্দেশনা ও অনুমোদনে পুনর্জন্ম নেয়া আওয়ামীলীগই আজকের আওয়ামী লীগ।এই দলটি ভাসানীর নেতৃত্বে রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ার তারিখকেই জন্মদিন ধরে আজ তার একাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  উদযাপন করছে। কিন্তু দলের স্থপতি ভাসানীর প্রতি তাদের কোনো কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। সোহরাওয়ার্দীর যোগদানের মাধ্যমে ১৯৫০ সালে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের তারিখকে তারা জন্মদিন ধরেনা। ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দ বিলুপ্ত করে কেবল আওয়ালীলীগ গড়ার তারিখকেও তারা জন্মদিন মনে করেনা। এমনকি সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিবের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে যে দিনটিতে পুনর্গঠিত হয় আওয়ামীলীগ, সেই তারিখকেও তারা দলের জন্মদিন বলে মানেনা। আর বাকশালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আওয়ামীলীগের শহীদ জিয়ার নির্দেশনায় পুনর্জন্মের তারিখকে জন্মদিন মানা তো দূরের কথা, এই সত্যটা স্বীকার করতেও তাদের লজ্জার অন্ত নেই। আজকের নেত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে স্থাপন এবং ভারতের প্রবাসী জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থা ও অনুমোদনও শহীদ জিয়াই করেছিলেন। দেশে ফেরার আগেই সরকারী পত্রিকা সাপ্তাহিক বিচিত্রায় শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার ভিত্তিক কভার স্টোরি ছাপা হয় তার গ্রহনযোগ্যতা তৈরির জন্য। শহীদ জিয়া এতো কিছু করেছিলেন দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল গঠনের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করার লক্ষ্যে।এ জাতির দুর্ভাগ্য, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার তেরো দিনের মাথায় দেশী-বিদেশী চক্রান্তে নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান শহীদ হন। একজন মৃত মানুষ কারো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন। তবুও দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, এখনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বদলে মিথ্যা কাহিনী রটিয়ে জিয়াউর রহমানের চরিত্রকে মসিলিপ্ত করার সার্বক্ষণিক বিরামহীন প্রচেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে তিনি যে দলটির পুনর্জন্ম দিয়েছেন সেই আওয়ামীলীগ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares