তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কালের কণ্ঠের ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কালের কণ্ঠের ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে

:: মুজতবা খন্দকার ::

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার বিরুদ্ধে কালের কন্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ করে পত্রিকাটির সম্পাদকের কাছে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে কথিত অভিযোগ কতটুকু সত্য, কিম্বা আদৌ সত্য কি না তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। আমার বক্তব্য প্রতিবেদনটি প্রকাশের ধরন নিয়ে।

তারেক রহমানকে নিয়ে আমাদের তথাকথিত স্বাধীন গণমাধ্যমের আগ্রহ এবং উৎসাহ কম নয়। সেই বারো বছর আগে থেকেই, শুরু হয়েছে তারেক রহমানকে দুর্নীতিবাজ প্রমান করতে লেখালেখি। দিস্তার পর দিস্তা সংবাদপত্র গুলো কেবলমাত্র তারেক রহমানের জন্য খরচ করেছে। তাকে মিডিয়া ট্রায়াল করা হলেও বিচারিক আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির অভিযোগও প্রমান করা যায়নি। বরং তাকে একটি মামলা থেকে খালাস দেওয়া বিচারককে এই সরকার দেশ ছাড়া করেছে।


প্রতিবেদনটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার মৌলনীতি অনুসরন করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে মস্তবড় প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। সাধারনত কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে অভিযোগকারীর বক্তব্য কতটুকু সত্য তার জন্য ক্রসচেক করার একটা বাধ্যবাধকতা থাকে। সেক্ষেত্রে অভিযোগগকারীর পাশাপাশি অভিযুক্তকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। অন্তত: রিপোর্টটির গ্রহনযোগ্যতার স্বার্থে এটা অত্যন্ত জরুরীও বটে। প্রতিবেদকের কাছে অকাট্য তথ্যপ্রমান থাকার পরেও সেটা করতে হয়, এটাই এথিকস।
কিন্তু কালের কন্ঠ ” ২৩ জুন অনলাইনে ছেলে ধরা মিঠুর মুঠোয় স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটা শিরোনামে যে প্রতিবেদনটিতে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে, সেটা পড়লে কোনোভাবেই এটাকে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলা যায়না। প্রতিবেদনের এক জায়গায় বলা হয়েছে-
কিছুদিন আগে পর্যন্ত মিঠুর বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকার মিঠু বিএনপির আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের নিয়ন্ত্রিত হাওয়া ভবনের সিন্ডিকেটে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদারি। ওই সময় নামে-বেনামে তাঁর সরবরাহকৃত অনেক যন্ত্রপাতি এখনো সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে, যা কখনোই ব্যবহার করা যায়নি। অনেক হাসপাতালে তখন প্রয়োজন না থাকলেও কিংবা ব্যবহারের জনবল ও অবকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছিল।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোনো সূত্র দিয়ে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরী করা যায় কিম্বা সেটা একটা দায়িত্বশীল জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ কতটুকু যায় সেটা আমার বোধে আসে না।
আর তাছাড়া যিনি প্রত্যক্ষ্য সুবিধাভোগি সেই ব্যক্তি যদি এই বয়ান দিতেন তাহলেও প্রতিবেদনটি কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য হতো। কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের সময় অনুসরন যোগ্য কোন নিয়মই প্রতিবেদক মানেননি… এমনকি অভিযুক্ত কথিত মিঠুর কোনো ভাষ্যও প্রতিবেদনে নেই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে এমন একটি রিপোর্ট করা হলো?


একটি বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এ ধরনের কোনো রাজনীতিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনতে হলে শক্ত তথ্য প্রমান প্রয়োজন হয়। হাওয়ায় পাওয়া তথ্য দিয়ে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার বিপদ অনেক।


কথিত দুর্নীতির প্রতিবেদনটিতে তারেক রহমানকে জড়ানোটা অনেকটা উদ্দেশ্যমূলক বলে আমার অন্তত: মনে হয়েছে। রিপোর্টটা পড়ে মনে হয়েছে,অনাহুত কিম্বা যেনতেনভাবে একজন পলিটিক্যাল নেতার ইমেজ ড্যামেজ করাই যেন প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।


তারেক রহমানকে নিয়ে আমাদের তথাকথিত স্বাধীন গণমাধ্যমের আগ্রহ এবং উৎসাহ কম নয়। সেই বারো বছর আগে থেকেই, শুরু হয়েছে তারেক রহমানকে দুর্নীতিবাজ প্রমান করতে লেখালেখি। দিস্তার পর দিস্তা সংবাদপত্র গুলো কেবলমাত্র তারেক রহমানের জন্য খরচ করেছে। তাকে মিডিয়া ট্রায়াল করা হলেও বিচারিক আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির অভিযোগও প্রমান করা যায়নি। বরং তাকে একটি মামলা থেকে খালাস দেওয়া বিচারককে এই সরকার দেশ ছাড়া করেছে।

এখন পাড়া মহল্লায় হাজার হাজার হাওয়া ভবন হলেও সেগুলোতে আমাদের গণমাধ্যমের সেইভাবে কোনো বাড়তি নজর আছে বলে মনে হয়না। সরকারের ঠেঙ্গানোর ভয় আর কিছুটা ‘মনপসন্দ’ দল বলে শাসক দলের নেতাদের দুর্নীতির বিষয়ে উৎসাহী নয় আমাদের তথাকথিত স্বাধীন, সাহসি ও সাবালক মিডিয়া।


যার ফলে যে কোন দুর্নীতির বিষয় লিখতে গেলে কলমের ডগায় সবার আগে নাচে বারো বছর আগের বিএনপি নেতারা কবে কি করেছিলো সেটা। ঢুকিয়ে দেয়া হয় মনের মাধুরি মিশিয়ে অনেক সত্য মিথা। গত বারো বছরে দুর্নীতি করে যে দেশটার সাকাম করে ছাড়া হলো,তা নিয়ে কাউকে কোনদিন ঊশখুশ করতে দেখি না।


করোনার এই দু:সময়ে প্রতিদিন চিকিৎসার অভাবে মানুষ রাজপথে বেঘোরে প্রাণ দিচ্ছে। অথচ এই সময়ে পিপিই কেনা,মাস্ক কেনাসহ স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম ধরা পড়লেও তা নিয়ে দেখিনা তো কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। অথচ এক যুগ আগে কবে কোন দল ক্ষমতায় ছিলো,তাদের কোন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে কে বিশ টাকা আত্মসাৎ করেছিলো,তার বিবরনী প্রকাশে আমাদের মিডিয়া বড়ই মনযোগি। একটি দেশের দুর্নীতি,অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা চরমাকারে পৌছানোর জন্য সে দেশের মিডিয়ারও কমবেশী দায় থাকে। আজকে দেশে যে ক্রান্তিকাল চলছে,তার জন্য আমাদের মিডিয়া কি দায় এড়াতে পারবে? মুরোদ থাকলে, বিদ্যুৎ খাতে যে লুটপাট চলছে, তার পেছনে কারা জড়িত তা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে দেখাক তো? বলুক তো, কে মিষ্টার টেন পার্সেন্ট?


যত দোষ নন্দ ঘোষ বলে বেশীদিন পার পাওয়া যাবেনা। পাঠক এখন যথেষ্ঠ সচেতন। যেনতেনভাবে তাদের বোঝানোর দিন শেষ। সরকারের পক্ষেও মুক্তিযুদ্ধের তথা কথিত চেতনার আফিম দিয়ে বেশীদিন আর মানুষকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা সম্ভব হবে না,মানুষ জাগছে… হুঁশ ফিরছে কিন্তু জনতার… সুতরাং সাধু সাবধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares