রাষ্ট্রপতি জিয়া হঠাৎ রাতে ঢাকা মেডিকেলে

রাষ্ট্রপতি জিয়া হঠাৎ রাতে ঢাকা মেডিকেলে

:: ওয়াসিম ইফতেখার :: 

২৩ মে, ১৯৮০, শুক্রবার
স্থানঃ বায়তুল মোকারম মসজিদ ঢাকা প্রাঙ্গণ
খন্দকার মোশতাক আহম্মেদের ডেমোক্রেটিক লীগ একটা জনসভার আয়োজন করে। হঠাৎ জনসভাতে প্রচন্ড বোমা বিষ্ফোরণ ঘটে। ফলে ৭টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। শুধু বোমা বিষ্ফোরণ-ই নয়, সভা স্থলে সাপ-ও ছেড়ে দেয় কে বা কাহারা। জী, ঠিক-ই শুনছেন; সাপ অর্থাৎ সর্প বা নাগ/নাগিন।
নিহতদের একজন সাংবাদিকসহ পাঁচ জন তাদের দলীয় কর্মী ছিল। আহত হয় প্রায় একশ। তাঁদের মাঝে পেশাদার সাংবাদিকদের ৭ জন ছিলেন গুরুতর জখম। তারা হলেনঃ
১) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান (নিহত) – দৈনিক বাংলা
২) জনাব মাশির হোসেন – দৈনিক বাংলা।
৩) জহিরুল হক – দৈনিক বাংলা।
৪) আবু সালেহ – দৈনিক দেশ।
৫) কামরুজ্জামান – দৈনিক বাংলা।
৬) মাহবুবুল আলম – মুক্তিবানী।
৭) বাঙ্গাল আব্দুল কুদ্দুস – দৈনিক আকবর।
৮) আব্দুল মান্নান – দৈনিক সংগ্রাম।
পরবর্তীতে যখনই আহত সাংবাদিকদের সাথে মুক্তিযোদ্ধা জিয়ার দেখা হতো, নিজে কাছে এগিয়ে গিয়ে কথা বলতেন, পরিবার ও শরীরের খবর নিতেন। স্প্রিন্টার নিয়ে বেঁচে থাকা আহত সাংবাদিকগন কৃতজ্ঞতা জানাতেন হাসি মুখে। 
আচ্ছা বলতে পারেন এ ঘটনার পরে এই সাংবাদিকরা নিরপেক্ষতার আড়ালে কি জিয়ার বিরোধিতা করেছিলেন? পেশাদারিত্বের আড়ালে কি প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বিশেষ তোয়াজ করে চলতেন? অথবা জিয়া-ই কি কোন সুবিধা নিয়েছিলেন?
নাহ্, এ গুলোর কোনটিই ঘটেনি। জিয়া তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন সত্যকে প্রকাশ করতে হবে, তা যত নিষ্ঠুর হোক না কেন! সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতা সত্য, ন্যায়ের পথ থেকে সরে গেলে রাষ্ট্র’র আর কোন উপায় থাকেনা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম মুক্ত গনমাধ্যমে বিশ্বাস করতেন। ‘গনমাধ্যম’ কর্মীদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় বুকে আগলে রাখতেন। আজ সেল্ফ সেন্সর ও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের যুগে কোথায় জিয়ার মত সংবাদ মাধ্যমের বন্ধু সরকার? কোথায় জিয়ার তৈরি বিএনপিতে সাংবাদিকদের অবাধ সাবলীল ও নিরাপদ চলাচল ?
আহতদের আর্ত চিৎকারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আহতদের বাঁচাতে সে রাতে অনেক রক্তের প্রয়োজন ছিল। রক্ত ঐ সময় আজকের মত সহজলভ্য ছিল না।
ঘটনা শুনেই জরুরি বিভাগে এসে উপস্থিত হন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঢাকা শহরের নামকরা সব হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ওই রাতেই তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এনে হাজির করেন।
ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বললেন আমার ছাত্রদলের ছেলেরা কৈ? ঢাকা ভার্সিটির ছাত্রদলের সবাইকে এখানে চাই, র‍্যান্ডম ব্লাড দিতে হবে।
পরিচালকের রুমে বসে তিনি সারারাত চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাদি মনিটর করলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঐ রাতে মিনি বঙ্গভবন এ রূপান্তরিত হলো।
রাষ্ট্রপতি  সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ নজর দিলেন। মিলিটারি ভেইকেল পাঠিয়ে দিলেন আহতদের গ্রামের বাড়ি। আর্মি ট্রান্সপোর্টে অহত সাংবাদিকদের বাবা-মা’দের গ্রাম থেকে ঢাকাতে আনা হল। শুধু ঐ দিনই দায়িত্ব পালন করে ক্ষান্ত হননি জিয়া। ৩ দিন পর আবার মেডিকেলে গিয়ে কেবিন, ওয়ার্ড ঘুরে আহত সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার খবরাখবর নেন প্রেসিডেন্ট।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, পিজি হাসপাতাল থেকে শুরু করে আহতাবস্থার ধরন অনুযায়ী লন্ডনের The Harley Street Hospital এবং Hammersmith Hospital এ রাষ্ট্রীয় খরচে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
পরবর্তীতে যখনই আহত সাংবাদিকদের সাথে মুক্তিযোদ্ধা জিয়ার দেখা হতো, নিজে কাছে এগিয়ে গিয়ে কথা বলতেন, পরিবার ও শরীরের খবর নিতেন। স্প্রিন্টার নিয়ে বেঁচে থাকা আহত সাংবাদিকগন কৃতজ্ঞতা জানাতেন হাসি মুখে।
আচ্ছা বলতে পারেন এ ঘটনার পরে এই সাংবাদিকরা নিরপেক্ষতার আড়ালে কি জিয়ার বিরোধিতা করেছিলেন? পেশাদারিত্বের আড়ালে কি প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বিশেষ তোয়াজ করে চলতেন? অথবা জিয়া-ই কি কোন সুবিধা নিয়েছিলেন?
নাহ্, এ গুলোর কোনটিই ঘটেনি। জিয়া তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন সত্যকে প্রকাশ করতে হবে, তা যত নিষ্ঠুর হোক না কেন! সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতা সত্য, ন্যায়ের পথ থেকে সরে গেলে রাষ্ট্র’র আর কোন উপায় থাকেনা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম মুক্ত গনমাধ্যমে বিশ্বাস করতেন। ‘গনমাধ্যম’ কর্মীদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় বুকে আগলে রাখতেন। আজ সেল্ফ সেন্সর ও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের যুগে কোথায় জিয়ার মত সংবাদ মাধ্যমের বন্ধু সরকার? কোথায় জিয়ার তৈরি বিএনপিতে সাংবাদিকদের অবাধ সাবলীল ও নিরাপদ চলাচল ?
বিভিন্ন সময়ে সিনিয়র সাংবাদিক হতে তরুন সংবাদ কর্মী সহ অনেককে কারাগারের কাটতে হয়েছে, বিদেশে পালাতে হয়েছে, প্রান বিসর্জন দিতে হয়েছে, আবার ড্রিল মেসিন দিয়ে সাংবাদিকের শরীর ফুটো করার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। উজবুকস্থানে তো খুন হওয়া জোড়া সাংবাদিকের এতিম সন্তানের চোখের জলে, তাদেরই সাংবাদিক নেতারা পাজারো স্পোর্টস এ দাপিয়ে বেড়ান মুক্ত চিন্তার মন্দিরে!
আজ এই বাংলাদেশের যে সেক্টরের দিকে তাকাই দেখি জিয়ার সেই উর্ধমূখী পদচারণের গলাতে কে যেন ফাঁসির রজ্জু চড়িয়ে দিতে স্বচেষ্ট। সয়ং জিয়ার তৈরী দলও জিয়ার কর্মকে বাধাগ্রস্ত করতে পিছপা হয়না।
আর কেও নয়, একমাত্র জিয়াই শুধু প্রস্তুত ছিলেন দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে, দোদুল্যমান ফাঁসির পাটাতনে পা রেখে দেশের জন্য কাজ করে যেতে।
জিয়া, তোমার প্রতি এক আকাশ রাগ ক্ষোভ হতাশা নিয়ে বসে আছি, অভিযোগের ঝাঁপি হাতে। তুমি মানুষ হতে শিখিয়েছিলে, জানবাজ শ্রমিক হতে শিখিয়েছিলে, কিন্তু এই হতভাগা জাতিকে আরো ১০ টা বছর সময় দিয়ে হাতে কলমে অনুশীলন করিয়ে দিয়ে যাওনি।
আজ প্রতিশোধের জ্বালামূখে বারুদ ঠুকে দেওয়া জাতীয়তাবাদী যোদ্ধার বড্ড আকাল।
শহীদের দেশ
বিদায় বিদায়
এ অভাগা আজ নোয়াই শির!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *