জিয়ার নির্দেশে জানজুয়াসহ অফিসারদের মেরে ফেলা হয়

জিয়ার নির্দেশে জানজুয়াসহ অফিসারদের মেরে ফেলা হয়

“… এরপর তিনি একাই একটি গাড়ি নিয়ে ছুটে যান অফিসার কমান্ডিং জানজুয়ার বাড়ি। কলিং বেল টিপতেই ঘুম ভেঙ্গে উঠে আসেন জানজুয়া। আর সামনেই মেজর জিয়াকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে ওঠেন। তার ধারণা ছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী মেজর জিয়া বন্দরে বন্দী হয়ে রয়েছে। জানজুয়াকে গ্রেফতার করে নিয়ে ষোলশহরে ফিরে আসেন মেজর জিয়া। পথে অফিসার্স মেসে মেজর শওকতকে তিনি সব কথা বলতেই মেজর শওকত উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন এবং বিদ্রোহে তার সাথে যোগ দেয়ার কথা ঘোষণা করে দ্রুত ব্যাটালিয়নে চলে আসেন॥” [ সাক্ষাৎকারে লে: কর্নেল জিয়াউর রহমান / দৈনিক বাংলা – ২৬.০৩.১৯৭২ ]

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র (৯ম খন্ড) / সম্পাদনা : হাসান হাফিজুর রহমান ॥ [ তথ্য মন্ত্রণালয় – জুন, ১৯৮৪ । পৃ: ৪৩-৪৪ ]

#০২
“… এইটথ বেঙ্গল-এ এসে শুনলাম যে সমস্ত পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মেজর জিয়াউর রহমানের নির্দেশে এটা করা হয়েছে। মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন যে এখন থেকে তিনি ই হচ্ছেন ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার। তিনি আরো বললেন যে গোলাগুলির খবর তিনি শুনেছেন। এ খবর শোনার পর তিনি ব্যাটালিয়ন-এর কমান্ডিং অফিসার লে: কর্নেল জানজুয়াসহ অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করেছেন। পরে ওদের সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছিল॥” – সাক্ষাৎকারে ক্যাপ্টেন শমসের মুবিন চৌধুরী / ২০.১০.১৯৭৩

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র (৯ম খন্ড) / সম্পাদনা : হাসান হাফিজুর রহমান ॥ [ তথ্য মন্ত্রণালয় – জুন, ১৯৮৪ । পৃ: ৫৮-৫৯ ]

#০৩
“… ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান ফিরে এলেন। মেজর জিয়া নৌবাহিনীর গাড়িতেই অবাঙালী অফিসার ও বাহিনীসহ ষোলশহরে এসে পৌঁছালেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমেই তার সঙ্গে অফিসার ও সৈনিকদের অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করলেন। তার পরেই তিনি বন্দী করে নিয়ে এলেন কম্যান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল. জানজুয়াকে॥”

মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম, পিএসসি / একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ : প্রতিরোধের প্রথম প্রহর ॥ [ ইউপিএল – ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ । পৃ: ২৯ ]

এইটথ বেঙ্গল-এ এসে শুনলাম যে সমস্ত পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মেজর জিয়াউর রহমানের নির্দেশে এটা করা হয়েছে। মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন যে এখন থেকে তিনি ই হচ্ছেন ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার। তিনি আরো বললেন যে গোলাগুলির খবর তিনি শুনেছেন। এ খবর শোনার পর তিনি ব্যাটালিয়ন-এর কমান্ডিং অফিসার লে: কর্নেল জানজুয়াসহ অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করেছেন। পরে ওদের সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছিল॥

#০৪
“… একবার বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, জিয়া আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ষোলোশহরের ঘাঁটিতে পৌঁছে তিনি তার সঙ্গী পশ্চিমা সৈন্যদের নিরস্ত্র করেন। কম্যান্ডিং অফিসারকে গ্রেফতার করেন তার কক্ষ থেকে এবং তারপর তাকে মেরে ফেলেন ব্যাটম্যানকে দিয়ে॥”

গোলাম মুরশিদ / মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর : একটি নির্দলীয় ইতিহাস ॥ [ প্রথমা প্রকাশন – জানুয়ারী, ২০১০ । পৃ: ৯২ ]

#০৫
“… ব্যাটেলিয়নে ফিরে এসেই তিনি পশ্চিমা অফিসারটিকে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। অফিসারটি আত্মসমর্পণ করলে তিনি ট্রাকের পশ্চিমা নৌ-সেনাদের দিকে রাইফেল তাক করে তাদেরও আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। হঠাৎ এই অবস্থার পরিবর্তনে পাকিস্তানী সৈন্যরা হকচকিয়ে যায় কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এরপর তিনি একাই একটা গাড়ী নিয়ে ছুটে যান অফিসার কমান্ডিং জানজুয়ার বাড়িতে। সেখানে কলিং বেল টিপতেই জানজুয়া ঘুম থেকে উঠে এসে মেজর জিয়াকে দেখে, হতভম্ব। যাকে সে বন্দী করার পরিকল্পনা করেছিল সে যে তার পাতা ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসে তার সামনেই যমদূতের মতো হাযির হবে সে তা ভাবতেও পারেনি। এরপরে মেজর জিয়া ষোল শহরে ফিরে আসেন॥”

মেজর জেনারেল (অব:) এম এস এ ভূঁইয়া / মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস ॥ [ আহমদ পাবলিশিং – জুলাই, ২০১১ । পৃ: ৪২ ]

#০৬
“… While the Army was successful in bringing peace of the graveyard to Dacca city, its position in the rest of East Bengal was untenable. Its situation was most desperate in the major seaport of East Bengal, Chittagong, where the second-in-command of the East Bengal Regiment, Major Ziaur Rahman, after killing the West Pakistani commanding officer, announced the formation of the provisional government of Bangladesh from Chittagong Radio Station on March 26.”

G. W. Choudhury / The Last Days of United Pakistan ॥ [ UPL – 1994 । p. 186 ]

#০৭
“… ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান আগ্রাবাদের কাছে গিয়ে মেজর জিয়াকে পাকিস্তানিদের বাঙালি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানাতেই মেজর জিয়া বিদ্রোহ করার সিদ্ধান্ত নিলেন ওই আগ্রাবাদের রাস্তায়। তিনি তার সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যদের কাবু করে গাড়ি ফেরালেন এবং ষোলশহর সিডিএ মার্কেটে ব্যাটালিয়নের দিকে রওয়ানা হলেন।

ওই সময় আমার সঙ্গে ডিউটিতে ছিল কোয়ার্টার গার্ডের ছয় সিপাহী, দু’জন গার্ড কমান্ডার, একজন বিউগলার, হাবিলদার ইউনুস ও ব্যাটালিয়নের সুইপার। গুলি খাওয়া রিক্রুটদের আমরা ফাস্ট এইড দিলাম। এ সময় বিমান বাহিনীর চারজন অফিসার এলেন। তাদের একজন আমাদের ব্যাটালিয়নের পাঞ্জাবি অফিসার লে. আজম। এরা চারজন কোয়ার্টার গার্ডে এসে গার্ড কমান্ডার আলী হোসেনকে বললেন—বাইরের অবস্থা ভালো নয়। আমাদের একজনের কাছে রাইফেল আছে। অন্যদের হাতেও অস্ত্র দরকার। কোয়ার্টার গার্ডের চাবি দাও, তাদের অস্ত্র দিতে হবে। তখন আলী হোসেন বলল—আপনি ডিউটি অফিসারও নন, জেসিও নন। আপনাকে চাবি দিতে পারব না। ওই চারজনের মধ্যে যার কাছে অস্ত্র আছে সে আলী হোসেনকে গুলি করতে রাইফেল উঠাল। সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি সিপাহিরা তার রাইফেল কেড়ে নিল। আমি গিয়ে বললাম—সবাইকে ধরে কোয়ার্টার গার্ডের খাঁচায় ঢুকিয়ে ফেল। ফলে বাঙালি গার্ড ও সিপাহীরা তাদের ধরে খাঁচায় ঢুকিয়ে ফেলল।

কিছুক্ষণ পরই এলেন মেজর জিয়া ও মেজর মীর শওকত। মেজর জিয়া কোয়ার্টার গার্ডে বন্দি চারজনকে দেখে উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন—মেহমানরা কারা? আমরা ঘটনা খুলে বললাম। তিনি আমাকে বললেন— আহসান আমাকে ‘এক তিন গার্ড’ দাও। অর্থাত্ একজন কমান্ডার ও তিনজন সিপাহি অস্ত্রসহ। আমি মেজর জিয়াকে এক তিন গার্ড দিলাম। মেজর জিয়া কমান্ডিং অফিসারের গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন কর্নেল জানজুয়ার বাসায়। এর আগে তিনি গার্ডদের ব্রিফ করলেন।

বাসায় পৌঁছে তিনি কলিংবেল চাপলেন। বাসার ভেতর থেকে কর্নেল জানজুয়া বললেন—‘তুম কোন হ্যাঁ?’ জিয়া বললেন—মে জিয়া হোঁ। তুম কিসলিয়ে আয়া হে? জিয়া বললেন—‘স্যার বাহার হালত আচ্ছা নেহি হ্যায়, আপকা পাছ সাজেশন লেনে কি লিয়ে আয়া হ্যায়।’ অর্থাত্ বাইরের অবস্থা ভালো নয়। আপনার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে এসেছি। এ অবস্থায় দরজা খুলতেই মেজর জিয়া কর্নেল জানজুয়ার কলার গলাসুদ্ধ ধরে ফেলেন। সঙ্গে গার্ডরাও তার চারদিকে অস্ত্র ধরে তাকে বাসা থেকে টেনে বের করে গাড়িতে তোলেন। তার পরনে ছিল পায়জামা। মেজর জিয়া জানজুয়াকে বলেন, তুমি আমাকে বন্দরে পাঠিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিলে? এখন লক্ষ্মী সোনার মতো গাড়িতে উঠো।

কর্নেল জানজোয়াকে নিয়ে তিনি কোয়ার্টার গার্ডে এলেন এবং খাঁচায় ভরলেন। কোয়ার্টার গার্ডের রেজিস্ট্রার টেবিলের ওপর বসলেন জানজুয়া। ওই খাঁচায় পাঞ্জাবি লে. আজমসহ আটককৃত আরও চারজন। জিয়াউর রহমান সবগুলো কোম্পানিকে একত্রিত করার নির্দেশ দিলেন। মেজর জিয়াকে নিয়ে যে দুটি কোম্পানি বন্দরের দিকে গিয়েছিল তার মধ্যে চার্লি কোম্পানি বন্দরে ঢুকে যাওয়ায় তারা আর ফিরতে পারেনি। পরে শুনেছি তাদের হত্যা করা হয়েছে। হাশেম নামের একজন সৈনিক সমুদ্রে ঝাপ দিয়ে পড়ে বেঁচে যায়। যাই হোক, বাঙালিরা ব্যাটালিয়নে একত্রিত হলো। ব্যাটালিয়নের পাকিস্তানি অফিসার, সৈনিক ও অন্যদের গ্রেফতার করা হলো।

এ সময় কোয়ার্টার গার্ডের খাঁচার সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন মেজর জিয়া। খাঁচার ভেতর থেকে কর্নেল জানজুয়া পাঞ্জাবি লে. আজমকে চিন্তিত দেখে বলছিলেন— ‘আজম তুম কিয়া সুস্তা হ্যায়, আউর পাঁচ মিনিট হ্যাঁয়, পাঁচ মিনিট কা বাদ এইট বেঙ্গল কা কুই নিশানা নেহি মিলে গা।’ অর্থাত্ আজম তুমি কি চিন্তা করছ? পাঁচ মিনিট পর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। মেজর জিয়া কর্ণেল জানজুয়ার দম্ভোক্তি শুনেই উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন—ওদের বের করে কমান্ডিং অফিসারের কক্ষে ঢোকাও। সঙ্গে সঙ্গে সব বন্দিকে সিও’র অফিসে নিয়ে যাওয়া হলো। মেজর জিয়া আদেশ দিলেন ফায়ার করো। সিও’র রানার আবদুল মতিন ফায়ার করলেন। সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও ফায়ার করা শুরু করল। এ সময় বন্দিদের মধ্য থেকে একজন এয়ারফোর্সের অফিসার চিত্কার করে বললেন—‘আমি বাঙালি, আমাকে মারবেন না।’ তাকে বের করে বাকিদের ওপর চালানো হলো ফায়ার। ওখানে ২০ থেকে ২৫ জন পাকিস্তানি ছিল॥”

ক্যাপ্টেন সৈয়দ আহসান উল্লাহ (মুক্তিযোদ্ধা) / মেজর জিয়ার বিদ্রোহ ঘোষণার সাক্ষী আমি (সাক্ষাৎকার) ॥ [ দৈনিক আমার দেশ – ৩০.০৩.২০১১ ]

#০৮
“… লেঃ কর্ণেল জানজুয়ার বাসায় দরজায় গিয়ে মেজর জিয়া নিজেই কলিং বেল বাজালেন। জানজুয়ার বাড়ীর সামরিক গার্ডরা কোনো রকম প্রতিক্রিয়া দেখায় নি।তারা সব বাঙালি ছিল। জানজুয়া সাদা পাজামা পাঞ্জাবী ও বাটার সেন্ডেল পড়ে বেরুলেন। সামনে মেজর জিয়াকে দেখে ভূত দেখার মত বিস্মিত হলেন। এসব কথা মেজর জিয়া নিজে পরে আমাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। ভীত সন্ত্রস্ত জানজুয়া জিজ্ঞেস করলেন, জিয়া কি হয়েছে। জিয়া বললেন স্যার, আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। জানজুয়া ভাবছিলেন জিয়াকে আমি বন্দরে পাঠিয়েছিলাম ব্রিগেডিয়ার আনসারিকে রিপোর্ট করার জন্য সে ওখান থেকে ফিরে আসলো কি করে। বন্দরে কি ঘটলো, কোথায় কি হলো কিছুই বুঝতে পারছিলেন না।

তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে মেজর জিয়াকে উর্দুতে বললেন, জিয়া আও ব্যাঠো। জিয়া বললেন, নো স্যার, We have something to tell you. তিনি বললেন, ঠিক হায় Let us discuss here. জিয়া বললেন, No Sir, we should go to unit line, Captain Khalequzzaman and Captain Oli is there they will like to discuss with you. জানজুয়া বললেন, আচ্ছা ঠিক হ্যায় চলো। জানজুয়া জিপে বসলেন, মেজর জিয়া জিপ চালালেন এবং সিপাহী দুজন পিছনে বসা।

কোয়ার্টার গার্ডের সামনে এসে জিপ থামলো। আমি, ল্যান্সনায়েক শফি এবং রবিউল আনাম সেখানে দাঁড়ানো। মেজর জিয়া রবিউল আনামের কাছ থেকে একটা রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে জানজুয়ার দিকে তাক করলেন। জানজুয়ার দিকে রাইফেল তাক করে বললেন ‘স্যার ইউ আর আন্ডার এ্যারেষ্ট। ডোন্ট ট্রাই টু টেইক লিডারশীপ’। জানজুয়ার মুখ থেকে একটি শব্দও বেরোল না। মেজর জিয়া আমাকে বললেন, খালেক নিয়ে যাও। তখন আমি জানজুয়াকে সম্মান দেখিয়ে বললাম, স্যার কাম টু দ্যা কোয়ার্টার গার্ড। জিয়া দাড়াঁনো। আমি জানজুয়াকে কোয়ার্টার গার্ডে নিয়ে যাচ্ছি। তখন ল্যান্সনায়েক শফিও আমার সঙ্গে ছিল। কোয়ার্টার গার্ডে একটা চেয়ার রাখা ছিল। জানজুয়াকে নিয়ে আমি সেখানে বসিয়ে দেই। তখন পরিস্কার যে আমরা বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছি॥”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী খালেকুজ্জামান (অব:) / অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট চট্টগ্রামে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে যেভাবে ।। [ দৈনিক ইত্তেফাক – ২৬.০৩.২০০৮ ]

#০৯
“… As providence dictated Janjua was shot and killed by 8 East Bengal Regiment and his body was thrown in the same pit when 8 East Bengal Regiment revolted under the leadership of Major Ziaur Rahman on the night of 25/26 March 1971.”

– Lt. General Mir Shawkat Ali / The Evidence (Vol. 01) ॥ [ Somoy Prakashan – February, 2008 । p. 41]

#১০
“… I had known him (Maj. Zia) since 1967, when we were platoon commanders together at the Military Academy, and our acquaintanceship had survived time and space. I had liked him: he was intelligent, mild mannered, and very easy to get along with, and his wife was equally friendly. Meeting him one got the impression that he was not narrow-minded or parochial, but a gentleman with a broad outlook on life who was sure of himself and could find his rightful place in any competitive and just society.

One could not think of him as an intriguer, a traitor, a rabble-rouser, or a murderer, but that is how he is reported to have behaved during the upheaval of 1971. In those days of madness he (Maj. Ziaur Rahman), as second-in-command of a unit, is alleged to have treacherously called his commanding officer, Lt.-Col. Rashid Janjua, and some other officers of West Pakistan origin from their homes to the unit lines and had them killed in cold blood.”

Major General Hakeem Arshad Qureshi (Commander of Infantry Battalion (26FF) in Saidpur-Rangpur-Dinajpur in1971 war) / The 1971 Indo-Pak War : A Soldier’s Narrative ॥ [ Oxford University Press – 2002 । p. 92 ]

#১১
“… মেজর জিয়া যখন ফিরে আসলেন তখন সকলেই (অর্থাৎ বাঙ্গালী অফিসার এবং সেপাইরা) অপেক্ষা করছেন তিনি কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে। দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করলেন। ৬ জন পাঞ্জাবী অফিসারকে নিকাশ করা হলো॥”

মাহবুব-উল আলম / বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত ॥ [ অনুপম প্রকাশনী – ফেব্রুয়ারী, ২০১১ । পৃ: ২০১ ]

#১২
“… আমি কমান্ডিং অফিসারের জীপ নিয়ে তার (জানজুয়ার) বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম। তার বাসায় পৌঁছে হাত রাখলাম কলিংবেলে। কমান্ডিং অফিসার পাজামা পরে বেরিয়ে এলো। খুলে দিলো দরজা। ক্ষিপ্রগতিতে আমি ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং কলার টেনে ধরলাম। দ্রুতগতিতে আবার দরজা খুলে কর্নেলকে আমি বাইরে টেনে আনলাম। বললাম, বন্দরে পাঠিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিলে? এই আমি তোমাকে গ্রেফতার করলাম॥”

মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান / একটি জাতির জন্ম ॥ [ বিচিত্রা – স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা, ১৯৭৪ ]

#১৩
“… Major Zia said to me, “Get me a jeep.” The jeep of the commanding officer had come back by then. Capt. Oli, who was working upstairs, did not know that we were back. Major Zia told me, “Let me go and get the commanding officer” and headed towards ‘Al-hamra’, Lt. Colnel Janjua’s official residence.

Major Zia told me later what had happened. He rang the calling bell himself. The military guards of the residence were Bengalee soldiers. When they saw the 2nd in command, their weapons turned from outward to inward i.e. against Lt. Col. Janjua. Janjua was a very clever person but he had nothing to do. He knew that something big was going to happen but did not take any self-precautions. He came out of the house wearing white pajama-panjabi and sandals. He was surprised as if he had seen a ghost when he saw Major Zia and asked, “What’s wrong, Zia?” Zia said, “Sir, I need to talk to you.”

Janjua was wondering how Zia came back when he had sent him to the port to report to Brigadier Ansari. He could not grasp what had happened in the port. He said in Urdu, “Come Zia, sit. “Major Zia said, “No sir, we have something to talk about.” He said, “All right, let’s discuss it here.”

Zia said, “Sir, we should go to unit line, Captain Khalequzzaman and Captain Oli is there. They would like to discuss something with you.” Janjua agreed. He sat in the jeep and Zia drove with the two soldiers sitting on the rear seat of the jeep, stopped in front of the quarter guard where I, Lance Corporal Shafi and sepoy Rabiul Anam were standing. Major Zia snatched the rifle from Rabiul Anam, pointed it to Janjua and said, “Sir, you are under arrest. Don’t try to take leadership.”

Janjua did not say a word in utter surprise. Zia asked me to take him away. Shafi and I took him to the quarter guard. Shafi was a spirited and courageous soldier who always carried a rifle. He took part in the 1965 Indo-Pakistan war.

I made Janjua sit on a chair in the quarter guard. He said softly, “Khaleque, my family should know where I am.” I realised that he was very nervous and afraid. We had left Colonel Janjua’s wife at his home. I said, “Sir, surely she will come to know where you are”. Later she was respectfully taken to the cantonment. There were Azam and Humayun with Col. Janjua; and Shafi was standing as guard. Major Zia said, “Hold them and keep an eye on them.”

Major Zia went upstairs to contact the political leaders and others. It was clear that we were revolting and it would not have been wise to keep our soldiers on duty outside. I sent message for Captain Sadek, Lt. Mahfuz, and Lt. Shamsher to bring back those who were on duty in the Bayazid Bostami Road and elsewhere. I sent word to the senior J.C.O. Subedar Mahbubur Rahman to fetch the Pathan officer Captain Ahammaduddin from the officers’ mess. He too was arrested and put in the quarter guard. They did not create any trouble. We finished the work with courage and speed.

Two Pakistani officers used to stay in the EPR mess to the south of the 8 East Bengal officers’ mess. One of them was Captain Nazar with whom I once prepared for the Captain to Major examination. I asked my batman Nurul Amin to go and tell the Bengalees to get out of there. He knew where each officer stayed. When he went there at 12-30 A.M., Captain Nazar threatened him with a gun. Nurul shot him down at once.

When he was bringing back Lt. Col. Janjua, Major Zia had waken up Major Mir Shawkat in the officers’ mess. Major Shawkat came a while later and Major Zia said to him in front of the quarter guard, “Shawkat, I hope you are with us.” He said it to ensure if Shawkat was with us in the rebellion. I don’t know if the two of them had talked about it earlier.

Maj Shawkat said, “Zia Bhai, of course I’m with you.” Major Zia replied, “Shawkat, it is good to settle everything before we go for a serious game.” By then my batman Nurul Amin had gone to arrest the EPR officers. We did not know what to do with our arms and ammunitions. Major Zia brought Janjua upstairs with respect and asked him to sit on the chair of the commanding officer. The other officers remained in the quarter guard.”

– Brig. Gen. Chowdhury Khalequzzaman (Retd.) / Flames of Freedom : Beginning of Liberation War in Chittagong ॥ [ collected from internet ]

#১৪
“… The briefings at Chittagong were complicated … Colonel Shigri, of the East Bengal Regiment Centre, and Lieutenant Colonel Janjua were helpless in their command of Bengali troops. However, it was important that they knew enough to protect themselves, their West Pakistani colleagues, and their families.

… Shigri was able to protect himself, but Janjua was not so fortunate. His Second-in-Command, Major (later General and President of Bangladesh) Zia-ur-Rahman, organized his killing along with that of two other West Pakistani officers of the battalion.”

Major General (Retd.) Khadim Hussain Raja / A Stranger in My Own Country, East Pakistan, 1969-1971 ॥ [ Oxford University Press – 2012 । p. 75-76 ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares