জামায়াতের বিনাশ চায়না আওয়ামী লীগ

জামায়াতের বিনাশ চায়না আওয়ামী লীগ

:: মুজতবা খন্দকার ::

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এটা গণমাধ্যমের খবর। বিএনপি দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল। এর শেকড় অনেক গভীরে প্রোত্থিত। দেশের বেশীরভাগ মানুষ,বিএনপির ওপর এখনো ভরসা করে। সেই দল যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। সেটা নিয়ে সব মহলে আ লোচনা হবে, সমালোচনা হবে। সেটাই হওয়া উচিৎ এবং সেটাই স্বাভাবিক। তবে হঠাৎ কি এমন ঘটলো যে এই করোনা পরিস্থিতিতে এতদিনের রাজপথের সঙ্গিকে বিএনপির ছুড়ে ফেলার মতন বেমক্কা সিদ্ধান্ত নিতে হবে? আ মার জানা নেই। তাহলে কি ভেতরে ভেতরে কিছু কি ঘটছে। এই অসম্ভব সময়ে মাঠের রাজনীতির কথা তো ভাবা যায়না। ঘরোয়া রাজনীতি সেও অসম্ভব। কিন্ত শতরঞ্জ। সেটা কি খেলা যায়? বিশ্বস্ত হলে খেলা যায় বই কি! তাহলে এই করোনাকালে কে সেই শতরঞ্জ কি খিলাড়ি, যে কিস্তি মাত করে দিলেন.. এতদিন,এত বছরে এত আ বেদন,এত সমালোচনা এত হুমকী,এত পলিটিক্যাল পোলারাইজেশনে বিএনপিকে যেটা টলাতে পারেনি.. এই করোনাকালে রাজনীতি যেখানে নিস্তরঙ্গ। দেশের এত সমস্যা, একদিকে নিরন্ন বানভাসি মানুষের হাহাকার, অন্যদিকে দুূনীতির আ কাশসম বিস্তার,তবুও শাসকদলের জন্য নেই কোনো প্রত্যক্ষ,কিম্বা প্রচছন্ন হুমকী। ঠিক সেই সময়ে,বিএনপি থেকে জামাত কে বিচ্ছিন্ন করার এই দাবার চালটি কে দিলেন,কেই বা মাত করলেন কিস্তি? ইন্টারেস্টিং! খুবই ইন্টারেস্টিং!!

বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জামায়াতের সাথে আ ওয়ামী লীগ সব দল এক হয়ে আন্দোলন কি করেনি? বলবেন,তথন হয়েছিলো যুগপথ আন্দোলন? হ্যা বলতে পারেন, কিন্তু দুই দলের মধ্যে লিয়াজো করেছিলেন কে? তিনি আজ আর বেঁচে নেই। আর নেই বলেই তার ঊল্লেখ করলামনা। তবে এটুকু বলি তিনি ছিলেন একজন সংখ্যালঘু। যিনি এক সময় মুজিব পরবতী বাকশালেের বড় নেতা ছিলেন। এসব তথ্য একদিন ওয়ার্কাস পার্টির সাবেক নেতা, এখন সিপিবির পলিট ব্যুরোর সদস্য রনো ভাইয়ের কাছ থেকে শোনা।


দুই।

শুরুতেই কবুল করে নেই, আমি মওদুদিবাদি এই সংগঠনের প্রতি কখনো সহানুভূতিশীল ছিলামনা, এখনো নেই। তবে হ্যা। রাজনৈতিক দল হিসেবে,তাদের প্রতি শাসকদলের অন্যায়,অন্যায্য, ক্ষমাহিন অপরাধের আমিও অন্যান্যদের মত ছিলাম সমালোচনায় মুখর।

জামায়াতে ইসলামী কি এবং কেন.. এটার ব্যাখা করতে গেলে মুল কথাটা হারিয়ে ফেলবো বলে আ মি অতীতে যেতে চাইনা। আ মি সাম্প্রতিককালে থাকতে চাই। বিএনপির সাথে জামায়াতের গাটচ্ছড়া বাধার ইতিহাসটা মোটেও সুখকর নয় বলেই আ মি জানি। বিএনপির সাথে জামায়াতের সম্পর্কটা তৈরীর পেছনে বর্তমান শাসকদলের পরোক্ষ্য উস্কানি আ ছে। আ রো আ গে যদি যাই, স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে মুজিবের ঐতিহাসিকভাবে একটা মধুর সস্পর্ক ছিলো। যদিও,বাহাত্তরে দেশে ফিরে স্বাধীনতাবিরোধী সব রাজনৈতিক দল তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন বটে। তবে তৎকালীন পাকিস্তান পন্থী পালের গোদা,কিম্বা চাঁইদের সাথে তিনি কখনো সম্পর্ক ত্যাগ করেননি। ক্ষেত্র বি্শেষ দেশে ফিরে সম্পর্ক আ রো মধুর করেছেন। উদহরন দিতে গেলে প্রথমে বলতে হবে শাহ আ জিজের নাম। তাকে জেল থেকে মুক্ত করে, চাকরি দিয়েছেন,গাড়ি কিনে দিয়েছেন শেখ মুজিবই। অথচ জিয়া কেন তাকে মন্ত্রী বানালো সেটা নিয়েই সবার আ ক্ষেপ,ক্ষোভ,ক্ষেদ যাই বলুন।সব। মুজিবের সাথে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের শিল্পপতি, নেতাদের সাথে সম্পর্ক নতুন নয়। আলফা ইন্সুরেন্সে তিনি যখন পুর্ব পাকিস্তানের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন তখনও সেটা ছিলো। স্বাধীনতা পরবর্তীতে সেটা তিনি কেবল অতীতের পাওনা শোধ করেছেন বলতে দ্বিধা নেই,যে কারনে তার স্বাধীনতাবিরোধীদের জেলে পুরেও কিছুদির পর সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করতে হয়েছিলো। মানুষ দ্রুত তার অতীতকে ভুলে যায়।গোলমালটা লাগে ঠিক তখনি!

তিন।
জামায়াতে ইসলামী বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হবার আ গে আ ওয়ামী লীগের রসুই ঘরের সুম্বাদু খাবার জিহবায় পরখ করেনি? কে অস্বিকার করবে.. সেকথা?


নব্বইতে এরশাদবিরোধী আ ন্দোলনের কথা নাইবা বল্লাম। একানব্বইতে প্রথম গণতান্ত্রিক সরকারের আ মালে যখন খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতন প্রধানমন্ত্রী হতে সম্মতি দেন। সর্বসম্মতিতে সংসদে পাশ হয় দ্বাদশ সংশোধনী। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যখন সময় আ সে তখন সেই সময়ের বিরোধীদল আ ওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা এত সহজে আ মরা ভুলে যাই কী করে?


তখন আ ওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয় বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। আ র বিএনপির প্রার্থী ছিলো আ বদুর রহমান বিশ্বাস। জামায়াতের আ মির তখন বিতর্কিত অধ্যাপক গোলাম আ জম। বদরুল হায়দার চৌধুরী দলীয় সিদ্ধান্তে জামায়াতের সমর্থন পেতে তার সমর্থন ভিক্ষা করতে জায়নামায,তসবিহ আ র পবিত্র কোরআ ন শরীফ নিয়ে কি যায়নি! তার কাছে ?


এর পরের ইতিহাস আরো ভয়াবহ, বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জামায়াতের সাথে আ ওয়ামী লীগ সব দল এক হয়ে আ ন্দোলন কি করেনি? বলবেন,তথন হয়েছিলো যুগপথ আন্দোলন? হ্যা বলতে পারেন, কিন্তু দুই দলের মধ্যে লিয়াজো করেছিলেন কে? তিনি আজ আর বেঁচে নেই। আর নেই বলেই তার ঊল্লেখ করলামনা। তবে এটুকু বলি তিনি ছিলেন একজন সংখ্যালঘু। যিনি এক সময় মুজিব পরবতী বাকশালেের বড় নেতা ছিলেন। এসব তথ্য একদিন ওয়ার্কাস পার্টির সাবেক নেতা, এখন সিপিবির পলিট ব্যুরোর সদস্য রনো ভাইয়ের কাছ থেকে শোনা।


সে যাইহোক। এরপর জামায়াতের পরামর্শে আ ওয়ামী লীগের তখন ৫৪ অথবা ৫৮ ঠিক মনে নেই, নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সম্ভবত ৯৪ সালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। স্পিকার ছিলেন প্রয়াত শেখ রাজ্জাক আ লী। আ মৃত্যু গণতান্ত্রিক এই রাজনীতিক। সেদিনের ঘটনা আ মাকে পরে বর্ননা করেছিলেন,সুপ্রিম কোর্টে একদিন তাকে পেয়ে ধরেছিলাম। বলতে চাননি,বহুত অনুনয় বিনয়ে পর বললেন,আ গের রাতেই তাকে নাকি হুমকী দেয়া হযেছিলো, কথা না শুনলে শাহেদ আ লীর পরিস্থিতি হবে! তিনি বলেন,গণতন্ত্রের মত পাল্টা মত থাকবে, তাই বলে সংসদ থেকে একযোগে পদত্যাগ! এটা আ মার জন্য অনেক অনেক বেশী পেইনফুল ছিলো।


চার।
জামায়াত যখন আ ওয়ামী লীগের সাথে যায়,যুগপথ আ ন্দোলন করে,তত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা তাদের মস্তিস্কপ্রসূত দাবি করে তখন আ াওয়ামী লীগের চেতনা যায়না.. বিএনপির সাথে য়খন থাকে তখনি মনে হয় সব গেল সব গেল.. এদেশের কলমজীবীরাও আ ছেন.. মাংসের জন্য নয়,নেহায়েত হাড়ের জন্য শাসকদলের সব অপরাধ কিভাবে নিস্পাপ বলে চালিয়ে দেন। আ ইয়ৃব খানের লিমিটেড গণতন্ত্রের সময়েও এমন করতেন তারা। এমনকি পাক ভারত যুদ্ধের সময় সৈয়দ শামসুল হক,মুনীর চৌধুরীরা,পাকিস্তান রেডিয়োতে কিভাবে প্রশংসা করে এক একজন কথিকা লিখেছিলেন, সবাই হয়তো তা জানেনা। আ রো জানেনা,এত বড় মুক্তিযুদ্ধ গেলো,এত প্রান বিসর্জন হলো,দেশ নিয়ে হলোনা তেমন বেশী ঊপন্যাস,গল্প কবিতা!বড়ই আ ক্ষেপের কথা!

পাঁচ
সময় বদলায়। যে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতেে এমন মধুর ভাইবন্ধুর সময় কেঁটেছে.. সেই বন্ধুর সময়ে তাদের নেতাদের গিলোটিনে যেতে হয়েছে।


মইন, ফখরুদ্দিনেরর সময়ে বেগম জিয়া,বন্দি, তারেক রহমান নির্বাসনে। বিএনপির শুভাকাংখি উপদেষ্টাদের উল্টোরথ। সেই অকালিন সময়ে জামায়াতের পরামর্শে বিএনপির মতন বড় দলকে নির্বাচনে যেতে হবে। ব্যারিষ্টার মওদুদ আ হমদ,রাজনীতিক হিসেবে সব দলের সাথে ছিলেন,কিন্ত লেথক মওদুদ,নৈব্যক্তিক। তার বইতে পড়েছিলাম, বইতে তিনি লিখেছে,সেই নির্বাচনের আ দ্যোপান্ত।
এত কিছুর পরেও বিএনপি এতদিন জামায়াতকে নিয়ে ছিলো,এটা আ মি মেনে কিম্বা মনে কোনভাবেই নিতে পারিনি। দলটি হচ্ছে সুবিধাবাদি। হাসিনা ওদের পুচছ নয়,গলা কেটে দিযেছে..বলে তাই ওদের ২০১৪ সালের আস্ফালন। যার জের বইতে হচ্ছে একটি ট্রাডিশনাল রাজনৈতিক দলকে।
তারপরও বলি,যে দলের ইতিহাস হচ্ছে, বেঈমানির, প্রতারনার সেই অভিশপ্তদের ফেলা দোয়ার সিদ্ধান্ত আ মি মনে করি ঠিক,সঠিক।


আমি এও বলতে চাই,যুদ্ধাপরাধী মামলায়, কোনো একটি রায়ে গোটা জামায়াত দলটাকে নিষিদ্ধ করতে বলোছিলো! হাসিনার সরকার সেটা করেনি! খোদার কসম! আওয়ামীলীগ চায়না, জামায়াতের বিনাশ! তাহলে চেতনা। সেটা ইমরান এইচ সরকার জানে!

One thought on “জামায়াতের বিনাশ চায়না আওয়ামী লীগ”
  1. আওয়ামী লীগ জামাতের বিনাশ চায়না কিন্তু এইটা অস্ত্র হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রচার করে বি এন পির নীতিনির্ধারকদের এটা বুঝতে কেন এত সময় লাগলো এটা আমাদের বোধগম্য নয়। জামাতের সঙ্গ আজকে বিএনপিকে এবং দেশকে বিপদাপন্ন করতে পেরেছে। বিএনপি জামাতের সঙ্গ লাভের থেকে ক্ষতির তাই অনেক বেশি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *