খালিদীকে আ’লীগের প্রতিদান দুর্নীতির মামলা

খালিদীকে আ'লীগের প্রতিদান দুর্নীতির মামলা

:: এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান ::

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের স্বার্থ নিয়ে নরমে-গরমে দুইটা কথা বলতে ২০১৩ সালে গঠন করা হয় এডিটরস’ কাউন্সিল বা সম্পাদক পরিষদ। বলা যায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সাথে সরকারের আচরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পাদকেরা সম্ভবত কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারেন ভবিষ্যতে সরকার চাইলে তাঁদের সাথেও মাহমুদুর রহমানের মত আচরণ করতে পারে তাই তারা নিজেদের মধ্যে একটা ন্যূনতম ঐক্যের ব্যাপারে একমত হন।

খালিদী সাহেব সম্ভবত মনে করছিলেন আওয়ামীদের উনি জীবনে এত এত উপকার করেছেন, আওয়ামীরা নিশ্চয়ই তাঁকে প্রতিদান দিবে। তো আওয়ামীরা ওনাকে যেই প্রতিদান দিলেন তা হচ্ছে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে একটা দুর্নীতির মামলা।

যেহেতু আওয়ামী লীগ সকল প্রতিষ্ঠানের আওয়ামী করণে বিশ্বাসী তাই এইটা তাঁদের সহ্য হইলো না। একটা সংগঠন দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দুইটা কথা বলবে, শেখ হাসিনা জীবিত থাকতে তো তা হতে পারে না। আবার এইটা কোন প্রেস ক্লাবও না যে শফিকুর রহমানের মত কিছু সাংবাদিক নামের গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে গেলাম আর সাদাপোশাকের বাহিনী দিয়ে দখল করে নিলাম।

এই সমস্যার একটা সমাধান নিয়ে আসেন আওয়ামী লীগের কিছু দালাল সাংবাদিক যারা বিভিন্ন চ্যানেল ও ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক পদ দখল করে রেখেছেন।

এরা চিন্তা করলো সম্পাদক পরিষদে আমরা দালালেরা যেহেতু সুবিধা করতে পারবো না, তাই আমরা আওয়ামী দালালেরা নিজেরাই একটা সংগঠন করি। সম্পাদক পরিষদ নরমে-গরমে দুইটা সত্য বললে আমরা তৎক্ষণাৎ সেইটার উলটা কথা বলবো। এতে একটা ব্যালেন্স হয়ে যাবে।

কিন্তু এদের যেহেতু কোন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নাই, নিজেদের সার্কেলের বাইরে কেউ এদেরকে গোণেও না, তাই তাঁদের দরকার ছিল এমন একটা মুখ যার ন্যূনতম একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। সেই মুখ হইলেন বিডিনিউজের তৌফিক ইমরোজ খালিদী। খালিদী সাহেবকে সামনে রেখে গঠিত হলো এডিটরস গিল্ড।

খালিদী সাহেব সম্ভবত মনে করছিলেন আওয়ামীদের উনি জীবনে এত এত উপকার করেছেন, আওয়ামীরা নিশ্চয়ই তাঁকে প্রতিদান দিবে। তো আওয়ামীরা ওনাকে যেই প্রতিদান দিলেন তা হচ্ছে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে একটা দুর্নীতির মামলা।

খালিদী সাহেবের দোষ হচ্ছে উনি বিডিনিউজে এমন একটা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু ইনভেস্টমেন্ট আনছিলেন যেই প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনার কাছের মানুষ চৌধুরী নাফিজ শারাফাতের ব্যবসায়ীক প্রতিযোগী। দুই নম্বরী ব্যবসায়ী নাফিজ শারাফাতের ভয় ছিল বিডিনিউজ তার দুই নম্বরী ব্যবসার আদ্যোপান্ত ফাঁস করে দিতে পারে এবং সেইটা করা শুরু হইলে হাসিনার অনেক কুকীর্তিও সামনে আসতে পারে।

তো খালিদী সাহেব এত সার্ভিস দিয়েও হাসিনাকে খুশি তো করতে পারলেনই না, উলটা এখন তাঁর এই দুঃসময়ে তাঁর নিজের তৈরি সংগঠন এডিটরস’ গিল্ডকেও পাশে পাচ্ছেন না। এডিটরস’ গিল্ডের সদস্যদের কোন মিডিয়াই তাঁর কেসটা নিয়ে দুইটা সত্য কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

খালিদী সাহেব সম্ভবত ভুলে গেছিলেন প্রশিকার কাজী ফারুক, শাহবাগের ইমরান এইচ সরকার থেকে হালের জেনারেল সোহরাওয়ার্দীদের কথা। কিন্তু সময় বারবার মনে করিয়ে দেয়, শেখ হাসিনা কি জিনিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares