ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগনের ভোটই একমাত্র বিকল্প নয়

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগনের ভোটই একমাত্র বিকল্প নয়

:: মুজতবা খন্দকার ::

শেখ হাসিনা টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তাকসিম এ খান টানা পাঁচবারের ওয়াসা এমডি। কাজী সালাহউদ্দীন টানা গতবার বাফুফের সভাপতি হলো তা নিয়ে অামাদের জ্বলুনির অাসলে কিছু নেই। প্রিয়ভাজন Rashed ফেসবুকে লিখেছেন, হাসিনা যদি মানতে পারেন,তবে সালাহউদ্দীনকে কেন নয়। রাশেদকে বলি, হাসিনাকে যারা মাইনা নিছে তারাই তাকসিম, সালাহউদ্দীনকে মাইনে নেবে এটাই হিসাব।
হাসিনা যেভাবে মিডনাইট ভোটের ইলেকশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গদিনশীল হইসে সেইটা অামরা মেনে নেইনি। যেমন তাকসিমকে অামরা মানতে পারিনা। তেমন সালাহউদ্দীনকেও না।
শেখ হাসিনা অামার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই,অামি সব হারিয়েছি এমন নাটকিয় সংলাপ ঢংয়ে কথা কলে দেশের মিডিল ক্লাস সেন্টিমেন্টকে কিনতে পারেন। তাদের কনভিন্স করতে পারেন। কিন্তু তার সরকার যে চরমভাবে ব্যার্থ সেইটা অামাদের মাঠের রাজনৈতিক দলগুলো চোখে অাঙ্গুল দিয়ে জনগনসহ সারা বিশ্বে দেখাতে চরমভাবে ব্যার্থ হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দুর্নীতি করেছেন এমন প্রমান পাওয়া না গেলেও তার সরকারের অামলে দুর্নীতি শিল্পে পরিনত হয়েছে। দলের ছিচকে নেতার ঘরেও টাকার ব্যাংক অাবিস্কার হয়েছে। অথচ তিনি সব সময় ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে অাছেন। ছাত্রলীগের সম্মেলন হলে তাকে সাংগঠনিক নেত্রি হিসেবে প্রধান অতিথি হিসেবে অামন্ত্রন জানানো হয়,তিনি সেখানে এই সংগঠনের তিনিও এক সময় কর্মী ছিলেন বলে বক্তৃতা দেন। তাদের প্রসংসায় ভাসিয়ে দেন। অথচ ছাত্রলীগ যখন কোনো অপকর্ম করে তখন বলে দেন ছাত্রলীগ অাওয়ামী লীগের কেউ না।

বিএনপির ব্যর্থতা তারা এমন কোনো সুশীল কিংবা প্রেশারগ্রুপ তৈরীতে কখনো মনোযোগী ছিলোনা, এখনো নেই। যারা দেশের ক্রান্তিতে বিএনপি না হোক। দেশের মানুষের পক্ষে দাড়াবে.. এখন বিএনপির নয়, সরকারের অনাচার, অত্যাচারের প্রতিবাদ করার মত কারো নৈতিক মনোবল এখনো আছে সেটা আমি বিশ্বাস করি। তবে দেশে যে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে হাসিনা সরকার গত দশ বছর ধরে..কেউ তাদের বিরোধীতা করলে তাকে স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে অপমান হেনস্থা করতে মাঠে নামাবে মিডিয়া।

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কেবলমাত্র জনগনের ভোটই একমাত্র বিকল্প নয়, সেটা কি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানেন কিংবা বোঝেন? আমার কেন জানি সন্দেহ হয়!


অাওয়ামী লীগ অর্থাৎ শেখ হাসিনা অন্যদল গুলোর প্রধানের চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে অাছেন। নিজের দলের অনুগত একদল সুশীল তৈরী করতে পেরেছেন। খুদকুড়ো দিয়ে তিনি তাদের পোষেন। যাদের সমাজ,দেশ এবং দেশের মানুষ চিনে। তাদের প্রতিটি বক্তব্যকে সত্য বলে ধরে নেয়,এটা একদিনে হয়নি। শুধু তাই নয়, গণমাধ্যমেও অাওয়ামী লীগের একটি বড় সৃহৃদ গ্রুপ অাছে। যেটা অাওয়ামী লীগ যত্ন করে তৈরী করেছে। অথচ শেখ হাসিনার পিতা বাকশাল করে চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকিসব বন্ধ করে দিয়েছিলো। গণকন্ঠ অফিস তছনচ করেছিলো,তার সম্পাদক কবি অাল মাহসুদকে জেলে পুরেছিলো। তারপও অাওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল মিডিয়া কর্মী এদেশে বেশী।


অথচ হবার কথা ছিলো উল্টো,জিয়াউর রহমান, বহূদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন,সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিযে দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে বিএনপির প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের সহানুভুতি থাকার কথা ছিলো, কিন্ত দুর্ভাগ্য বিএনপির তারা গণমাধ্যমের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশী অাঘাত পেয়েছে। কথিত হাওয়া ভবনকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে কল্পিত মিথ তৈরীর প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে অাওয়ামী লীগ,এই মিডিয়ার কল্যাণে। অথচ অাজ যে প্রতিটি পাড়া,মহল্লায়,মন্ত্রিপাড়ায় এক একটি হাওয়া ভবন গড়ে উঠেছে.. সেগুলোর মিডিয়াতে বড় একটা অাসেনা। দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি যায়, এক একটা রাষ্ট্রিয় ব্যাংক লুটেরারা ফতুর করে দেয়,সেগুলোওতে মিডিয়া অাওয়ামী সরকারের দোষ খুঁজে পায়না। ট্রাজেডি অার কি হতে পারে। দেশের স্বাধীনতা,স্বার্বভৌমত্ব যেখানে প্রশ্নের মুখে। সেখানে মিডিয়া দেখে সরকারের কুটনৈতিক সাফল্য! অাজ সমকালের প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে,শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে কুটনীতিতে বাংলাদেশ ঈর্ষনীয় সাফল্য পেয়েছে। অথচ সৌদি প্রবাসীদের সাথে পরচুলা পরা দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ব্লাফের বিষয়টা এখনো ম্লান হয়ে যায়নি। তিনি বললেন, সৌদি সরকার সবার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে,সৌদি অারব এমন কিছুই করেনি। প্রবাসিরা যখন সৌদি দুতাবাসে গিয়ে ফিরে এলো,তখন তিনি বললেন,এটা সংশ্লিষ্ট প্রবাসীকে তার নিয়োগদাতার সাথে কথা বলে করতে হবে। তাহলে মন্ত্রি অাগের ঘোষনা কোথায় গেল। সৌদি সরকার চাপ দিচ্ছে ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিতে হবে। এ কেমন কথা যারা অামাদের দেশের নাগরিকই নয়,তাদের কেন পাসপোর্ট দিতে হবে। অথচ পরচুলা না কি উইকি পরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কোনো জবাব নেই। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যার্থ একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। যে কি না,হিন্দুস্থানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর বলে মন্তব্য করে। টেকসই,কিম্বা জনগনের ভোটের সরকার হলে পরদিনই তার চাকরী চলো যাবা্র কথা। কিন্তু সরকার তো অাসলেই হিন্দুস্থানের ওপর ভর করে অাছে। তিস্তায় পানির খবর নেই। চায়না যখন তিস্তার এপারে ব্যারেজ দেবার প্রকল্প নিয়ে হাজির হলো,তখন হিন্দুস্থানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পড়িমরি করে বাংলাদেশ সফরে এলো। হয়তো কাটা ঘায়ে মলম দিতে। নতুবা বলতে, অামরা কিন্ত তোমাদেরর স্বাধীনতা কিনো দিয়েছি। চীন কিন্তু শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর তোমাদের স্বাধীনতার স্বিকৃতি দিয়েছে। তাই তোমাদের শত্রুমিত্র চিনে না্ও। সরকারের সাথে হিন্দুস্থানের জনগনের যতই দোস্তি,মাস্তির সম্পর্ক থাকুক। বাংলাদেশের জনগন জানে হিন্দুস্থান তাদের কখনোই বন্ধু রাষ্ট্র নয়। সিমান্তে প্রতিদিন যেভাবে বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিএসএফ,সেটা কোনো বন্ধু রাষ্ট্র হলে করতো কিম্বা সমশক্তির রাষ্ট্র হলে হিন্দুস্থান দুবার ভাবতো। বিবিসি বলছে, ইযরাইল,প্যালেস্টাইনের পর বাংলাদেশ ভারত সিমান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বিপদজনক।


শুরু করেছিলাম বিএনপির কথা দিয়ে,
বিএনপির ব্যর্থতা তারা এমন কোনো সুশীল কিংবা প্রেশারগ্রুপ তৈরীতে কখনো মনোযোগী ছিলোনা, এখনো নেই। যারা দেশের ক্রান্তিতে বিএনপি না হোক। দেশের মানুষের পক্ষে দাড়াবে.. এখন বিএনপির নয়, সরকারের অনাচার,অত্যাচারের প্রতিবাদ করার মত কারো নৈতিক মনোবল এখনো আছে সেটা আমি বিশ্বাস করি। তবে দেশে যে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে হাসিনা সরকার গত দশ বছর ধরে..কেউ তাদের বিরোধীতা করলে তাকে স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে অপমান হেনস্থা করতে মাঠে নামাবে মিডিয়া।


অাপনাদের মনে পড়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অাবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে জাগৃতি প্রকাশনির দীপন নৃসংসভাবে খুন হয়েছিলেন। এই হাসিনা সরকারের অাগের রেজিমে। খুন হবার পর তিনি বলেছিলেন,তার সন্তানের হত্যার বিচার তিনি চাননা,তিনি চান সমাজে যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয়। অামি তার সেদিনের সে বক্তব্য শোনার পর, মর্মাহত হয়েছিলাম। কেন স্যার সেদিন এমন বক্তব্য দিলেন। নিজ সন্তানের হত্যার বিচার পর্যন্ত চাইলেন না।


অামি মানতে পারিনি। তবে,স্যারকে অামি চিনি অারো দূদশক অাগে থেকে, তিনি এক সময় শিক্ষক সমিতি পলিটিক্সে অাওয়ামী এন্টি ছিলেন। অামার ধারনা,স্যার নির্বিবাদী মানুষ। নিজ ছেলের হত্যার জন্য দেশের অাইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে.. যদি সরকার নতুন কোনো বিড়ম্বনায় ফেলে,এই বয়সে তিনি সেটা চাননি হয়তবা। কারন তিনি বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর সাল দেখেছেন.. বিএনপি এইসব ইন্টেলেকচুয়াল কিম্বা সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কী করেছে? কেউ কি বলতে পারেন? ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কেবলমাত্র জনগনের ভোটই একমাত্র বিকল্প নয়, সেটা কি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানেন কিংবা বোঝেন? আমার কেন জানি সন্দেহ হয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *