আহমদ ছফার মুক্তিযুদ্ধ ও বাস্তবতা

আহমদ ছফার মুক্তিযুদ্ধ ও বাস্তবতা

আজ বাংলাসা‌হি‌ত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র অকালপ্রয়াত  মনীষী লেখক আহমদ ছফার ৭৭তম জন্মবা‌র্ষিকী। এ মনীষী লেখ‌কের জন্ম‌দি‌নে লা‌খো পাঠ‌ক এবং অনুরাগীর স‌ঙ্গে আ‌মিও নি‌জে‌কে একাত্ম ক‌রে নিলাম। সেই স‌ঙ্গে অফুরন্ত শ্রদ্ধা এবং ভা‌লোবাসায় নি‌বেদন করলাম নি‌চের এই লেখা‌টি। এত‌দিন ধ‌রে যারা আহমদ ছফার মু‌ক্তিযুদ্ধ বিষ‌য়ে ধোঁয়াশার ম‌ধ্যে ছি‌লেন এ লেখা‌টি তা‌দের কিছুটা হ‌লেও জানার খোরাক যোগা‌বে ব‌লে আমার বিশ্বাস। আর যারা আমার কা‌ছে বিষয়‌টি সম্প‌র্কে জান‌তে চে‌য়ে‌ছি‌লেন দে‌রি‌তে হ‌লেও আ‌মি আপনা‌দের ই‌চ্ছে পূরণে চেষ্টা ক‌রেছি। এ লেখার মাধ্যমে আপনাদের জানার আগ্রহ কিছুটা হ‌লেও মিট‌বে আশা ক‌রি। শুভ জন্ম‌দিন। আহমদ ছফা অমর র‌হে।

:: নুরুল আনোয়ার ::

আহমদ ছফা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ছি‌লেন, না‌কি ছি‌লেন না এ নি‌য়ে বেশ তর্ক‌বিতর্ক হ‌তে দে‌খি। হা‌লে বিষয়‌টি‌তে আরও পা‌নি পে‌য়ে‌ছে। এক‌শ্রে‌নি বল‌ছে আহমদ ছফা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ছি‌লেন না। তারা তাঁ‌কে মৌলবাদী বল‌তেও দ্বিধা কর‌ছে না। কোন এক সময় হয়‌তো ব‌লেও দি‌তে পা‌রে তি‌নি রাজাকার ছি‌লেন। এমন অবস্থা দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে তারা পার‌লে আহমদ ছফা‌কে এ‌কেবা‌রে ধু‌য়ে দেন। আ‌রেক শ্রে‌নি‌কে দে‌খি ভাসা ভাসাভা‌বে কোন রকম জবাব দাঁড় করা‌তে। কে কি বলল না বলল এ‌ নি‌য়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন আহমদ ছফা‌কে নি‌য়ে কোন কথা ও‌ঠে সেইসব নানাজ‌নে আমার কা‌নে তো‌লেন।  আমার কা‌ছে তারা জবাব দা‌বি ক‌রেন। বিরক্তও হই। কিন্তু আহমদ ছফা‌কে নি‌য়ে আমার এমন কিছু অপরাধ র‌য়ে‌ছে ই‌চ্ছে করে চুপ থাক‌তে চাই‌লেও চুপ থাকা যায় না, য‌দিও আ‌মি তাঁর সম্প‌র্কে সবজান্তা নই। আহমদ ছফা‌কে আ‌মি মানুষ হিসা‌বে দে‌খি, কিন্তু তাঁ‌কে দেবতাজ্ঞা‌নে পু‌জো ক‌রি না। কথাটা বললাম এই  কার‌ণে, আহমদ ছফার র‌ক্তের ধারা আমার শরী‌রেও প্রবহমান, সেই ধারায় কথা বলায় আ‌মি অভ্যস্ত নই। যেটা সত্য সেটাই আমা‌কে বল‌তে হয়। যেখা‌নে পাঠক বিচারক সেখা‌নে এক‌পে‌শে কথা বলার সু‌যোগ থা‌কে না।

আস‌লে কি আহমদ ছফা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ছি‌লেন? আ‌মি বলব, হ্যাঁ। ত‌বে একথা সত্য, তি‌নি বন্দুক কিংবা লা‌ঠি কাঁ‌ধে নি‌য়ে মু‌ক্তিযুদ্ধ ক‌রেন‌নি, সেই  অ‌র্থে বলা যায় তি‌নি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা নন। বন্দুক কাঁ‌ধে নি‌য়ে যুদ্ধ কর‌লেই মুক্তি‌যোদ্ধা হয় সেই  রকম আইনী কোন নিয়ম আ‌ছে কিনা আমা‌দের জানা নেই। এই  বাংলা‌দে‌শে কত মানুষ কতভা‌বে আমা‌দের মহান মু‌ক্তিযু‌দ্ধে অবদান রে‌খে‌ছেন তার হিসাব কষা সহজ নয়। আর সহজ নয় ব‌লে তা‌দের নাম মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের তা‌লিকায় বি‌শেষ পাওয়া যা‌বে না। শুধু বন্দুক নি‌য়ে যারা যুদ্ধ ক‌রে‌ছেন তারাই এককভা‌বে দেশ স্বাধীন ক‌রে‌ছেন সে‌টি বোধহয় স‌ঠিক নয়। মু‌ক্তিযু‌দ্ধে যারা অসহায় মানু‌ষের পা‌শে দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছেন, যারা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের এক‌বেলা খে‌তে দি‌য়ে‌ছেন, যারা তা‌দের থাকার ব্যবস্থা ক‌রে দি‌য়ে‌ছেন, যারা শত্রু‌দের চি‌হ্নিত ক‌রে নিশানা দি‌য়ে‌ছেন, যারা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের পথ চলার সু‌যোগ তৈ‌রি ক‌রে দি‌য়ে‌ছেন, যারা মু‌ক্তিযু‌দ্ধের পক্ষ নি‌য়ে নানা কর্মকা‌ণ্ডে সদা জাগ্রত থে‌কে‌ছেন তারা কি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা নন? সে বিষয়গু‌লো শিল্পসা‌হি‌ত্যে কিছু কিছু স্থান ক‌রে নি‌লেও বাস্ত‌বে তা‌দের মূল্যায়ন কখনও হয়‌নি, ভ‌বিষ্য‌তে হ‌বে এমন ভরসা নেই।

আমা‌দের দে‌শের এক বু‌দ্ধিজীবীর মাথায় বাজ প‌ড়ে গেল, আ‌মি কেন “‌বি‌শিষ্ট মু‌ক্তি‌যোদ্ধা” লিখলাম। এখা‌নেই তি‌নি থে‌মে থা‌কেন‌নি, কবর‌টি নি‌য়ে আরও নানা‌কিছু ব‌লে প‌ত্রিকায় এক‌টি লেখাও লি‌খে ফেললেন। ভাগ্য ভা‌লো যে তি‌নি আমা‌কে মার‌তে আ‌সেন‌নি। এই লেখক‌টি পার‌লে আহমদ ছফার জন্য জান কোরবান ক‌রে দি‌তে পা‌রেন। ঈশ্ব‌রের নাম যত না মু‌খে নেন তার চে বে‌শি নেন আহমদ ছফার নাম। তি‌নিও দে‌খি আহমদ ছফা‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা বল‌তে নারাজ। তি‌নিও আহমদ ছফা‌কে ব‌লে থা‌কেন “তথাক‌থিত মু‌ক্তি‌যোদ্ধা”। তাঁর ম‌তে, আহমদ ছফা মু‌ক্তি‌যুদ্ধ ক‌রেন‌নি, ওপার বাংলায় গি‌য়ে‌ছি‌লেন সেই  অ‌র্থে ‌তি‌নি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা। তার মা‌নে আহমদ ছফা‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা মান‌তে অ‌নে‌কের চুলকা‌নি আ‌ছে। এই  য‌দি হয় বাংলা‌দে‌শে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌টি কে? আর কি কর‌লে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হয়? হায়‌রে বাংলা‌দে‌শের বু‌দ্ধিজীবী! মজার ব্যাপার হল আহমদ ছফা কখনও প্রচার চালান‌নি তি‌নি একজন মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ছি‌লেন। মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হি‌সে‌বে তি‌নি কোন সু‌বিধাও নেন‌নি। মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের তা‌লিকায়ও তাঁর নাম নেই। এ নি‌য়ে তাঁর মাথাব্যথাও ছিল না।

ওসব কথা থাক। মু‌ক্তিযু‌দ্ধে আহমদ ছফা কি ক‌রেছি‌লেন সেই  প্রস‌ঙ্গে আ‌সি। বঙ্গবন্ধু সাত মার্চ রেস‌কোর্স ময়দা‌নে ভাষণ দি‌লে সেই থে‌কে সম্মুখযু‌দ্ধের এক‌টি গ‌তিপথ তৈ‌রি হ‌য়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষ‌ণের সমা‌বে‌শে লক্ষ লক্ষ মানু‌ষের মা‌ঝে সে‌দিন আহমদ ছফাও সেখা‌নে ছি‌লেন। তি‌নি সেখা‌নে একজন সাধারণ দর্শক হিসা‌বে ছি‌লেন না, ছি‌লেন এক‌টি গুরুত্বপূর্ণ ভূ‌মিকায় অবতীর্ণ হ‌য়ে। সমা‌বে‌শে তি‌নি যে কাজ‌টি ক‌রে‌ছি‌লেন স্বাধীন বাংলার প্রথম সংবাদপত্র “প্র‌তি‌রোধ” না‌মে এক‌টি প‌ত্রিকার বের ক‌রে সেখা‌নে তা বি‌লি ক‌রে‌ছি‌লেন সাধারণ মানুষ‌কে উদ্বুদ্ধ করার ল‌ক্ষে। প‌ত্রিকা‌টি তি‌নি বিনামূ‌ল্যে বি‌লি ক‌রেন‌নি। সমা‌বে‌শে সে‌টি বে‌চে তি‌নি অ‌নেক টাকাও পে‌য়ে‌ছি‌লেন। সেই  টাকা কবি ফরহাদ মজহা‌রের কা‌ছে গ‌চ্ছিত ছিল ব‌লে জানা যায়। ওই টাকাটা তি‌নি তাঁর কাছ থে‌কে ফেরত নেন‌নি। য‌দিও আহমদ ছফা ব‌লে‌ছেন, ফরহাদ মজহার সেই  টাকা ফেরত দেন‌নি। প‌রে টাকার অভা‌বে সেই পত্রিকা প্রকাশ করা আর সম্ভব হয়‌নি। সেই  বিষয় নি‌য়ে আহমদ ছফার সাক্ষাতকা‌রে বিস্তা‌রিত উ‌ল্লেখ পাওয়া যায়।

মু্ক্তিযু‌দ্ধের পূর্বাপর আহমদ ছফার কর্মকাণ্ড থে‌মে ছিল না। ২৩ মার্চ তাঁর প্র‌তি‌ষ্ঠিত সংগঠন “বাংলা‌দেশ লেখক শি‌বিরের” উ‌দ্যো‌গে বাংলা একা‌ডে‌মি মিলনায়ত‌নে “ভ‌বিষ্য‌তের বাংলা : আমা‌দের করণীয়” শীর্ষক এক‌টি আ‌লোচনা সভার আ‌য়োজন ক‌রে‌ছি‌লেন। সেখা‌নে ড. আহমদ শরীফ, ড. মমতাজুর রহমান তরফদার, জনাব সরদার ফজলুল ক‌রিম, ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জনাব কবীর চৌধুরী, ড. বোরহানুদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, প্রয়াত ক‌বি হুমায়ন কবীর, ফরহাদ মজহার এবং আহমদ ছফা স্বয়ং উপ‌স্থিত ছি‌লেন। সভা‌টি আ‌য়োজ‌নে ছি‌লেন আহমদ ছফা, ফরহাদ মজহার এবং হুমায়ুন কবীর। এই  সভার আসল উ‌দ্দেশ্য ছিল বাংলা‌দে‌শের বাঘা বাঘা বু‌দ্ধিজীবী‌দের টে‌নে এ‌নে আসন্ন যু‌দ্ধের প‌ক্ষে কথা বলা‌নো। কিন্তু এসব বু‌দ্ধিজীবীরা তাঁ‌দের বক্তৃতায় মু‌ক্তিযুদ্ধ প্রস‌ঙ্গের ধা‌রেপা‌শেও যান‌নি। আহমদ ছফা ব‌লে‌ছেন, বাংলা‌দেশ স্বাধীন হ‌বে কিনা এই  প্র‌শ্নে সক‌লে যেন পরামর্শ ক‌রে চুপ মে‌রে গি‌য়ে‌ছি‌লেন। কিন্তু ছফারা যখন জানা‌লেন বাংলা‌দেশ স্বাধীন হ‌তে চ‌লে‌ছে তখন দর্শ‌কেরা হর্ষধ্ব‌নির মাধ‌্য‌মে করতা‌লি দি‌য়ে তাঁ‌দের উৎসা‌হিত ক‌রে‌ছি‌লেন। আ‌য়োজ‌কেরা সে‌দিন এটা‌কে বড় প্রা‌প্তি ম‌নে ক‌রে‌ছি‌লেন। কিন্তু উপ‌স্থিত বু‌দ্ধিজীবীরা সেটা‌কে ভা‌লো ম‌নে নি‌তে পা‌রেন‌নি। আহমদ ছফা লি‌খে‌ছেন, “আমার স্পষ্ট ম‌নে আ‌ছে, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ব‌লে‌ছি‌লেন, আমরা হঠাৎ ক‌রে সকল‌কে কসাইখানায় থাকার ব্যবস্থা কর‌ছি। দেশ স্বাধীন হোক না হোক আমা‌দের আ‌গেভা‌গে ঘোষণা দেবার কী দরকার ছিল।”

‌সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কথাটা বলে সভাস্থল ত্যাগ ক‌রে‌ছি‌লেন। তাঁ‌কে অনুসরণ ক‌রে‌ছি‌লেন আরও অ‌নেক বু‌দ্ধিজীবী। আহমদ ছফা যে বাহাত্তর সা‌লে তাঁর “বু‌দ্ধিবৃ‌ত্তির নতুন বিন্যাস” বই‌টি লি‌খে‌ছেন সেখা‌নে আমরা তাঁর যে কথা‌টি প্রবাদ বা‌ক্যের ম‌তো এখা‌নে সেখা‌নে ঘোরপাক খে‌তে দে‌খি “বু‌দ্ধিজীবীরা যা বল‌তেন শুন‌লে বাংলা‌দেশ স্বাধীন হত না, এখন যা বল‌ছেন শুন‌লে সমাজকাঠা‌মোর প‌রিবর্তন হ‌বে না। আ‌গে বু‌দ্ধিজীবীরা পা‌কিস্তা‌নি ছি‌লেন বিশ্বা‌সের কার‌ণে নয়, প্র‌য়োজ‌নে। এখন অ‌ধিকাংশ বাঙা‌লি হ‌য়ে‌ছেন তাও ঠেলায় প‌ড়ে।” তার মা‌নে বু‌দ্ধিজীবী‌দের চ‌রিত্র আহমদ ছফার অ‌নেক আ‌গে থে‌কে জানা হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল। কথাগু‌লো একটু অপ্রাস‌ঙ্গিক হ‌য়ে গেল।

তারপ‌রের ঘটনায় আ‌সি। পঁচিশ মার্চ রা‌তে পা‌কিস্তা‌নি সেনাবা‌হিনী ঘুমন্ত ঢাকা শহ‌র আক্রমন করে, সেই রা‌তে আহমদ ছফা তাঁর প্র‌তি‌ষ্ঠিত “লেখক সংগ্রাম শি‌বিরে” রাত যাপন ক‌রে‌ছি‌লেন। সকা‌লে তি‌নি রাস্তায় বে‌রি‌য়ে দেখ‌তে পান এখা‌নে সেখা‌নে লাশ প‌ড়ে আ‌ছে। সত্য‌মিথ্যা জা‌নি না, সে‌দিন তি‌নি পা‌কিস্তা‌নি সৈন্য‌দের হা‌তে প‌ড়ে‌ছি‌লেন এবং ঝাড়ুদার প‌রিচ‌য়ে নি‌জে‌কে আত্মরক্ষা ক‌রেন, এমন এক‌টি তথ্য এখা‌নে সেখা‌নে দেখ‌তে পাই। সাতাশ মার্চ কা‌র্পিউ শি‌থিল হ‌লে আহমদ ছফা নী‌লিমা ইব্রাহীম, ড আহমদ শরীফ‌দের খুঁ‌জে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ছু‌টে যান। সেখা‌নে গি‌য়ে আহমদ ছফা চিৎকার কর‌তে থা‌কেন পা‌কিস্তা‌নি আর্মিরা সকল‌কে মে‌রে ফে‌লে‌ছে। নী‌লিমা ইব্রাহী‌মের বরা‌তে জানা যায়, ছফা চিৎকার ক‌রে না বল‌লে ঢাকা শহ‌রে কি ঘ‌টে‌ছে আমরা জান‌তেই  পারতাম না।

আহমদ ছফার ডা‌য়ে‌রি সাক্ষ্য দেয়, ওই বছ‌রের প‌হেলা বৈশাখ অর্থাৎ এ‌প্রিল মা‌সের মাঝামা‌ঝি সম‌য়ে বাংলা‌দে‌শের সীমানা পে‌রি‌য়ে আহমদ ছফা আগরতলা পৌঁছান। নুরুল ক‌রিম না‌সিম ব‌লে‌ছেন, ছফা ভাই‌কে আ‌মি নি‌জে ‌নি‌য়ে গি‌য়ে মেঘনাতে নৌকায় উ‌ঠিয়ে দি‌য়ে‌ছিলাম। তি‌নি আশঙ্কা প্রকাশ ক‌রেছেন ছফা দেশ না ছাড়‌লে তাঁ‌কে নি‌শ্চিত মে‌রে ফেলত। আগরতলা যাওয়ার উ‌দ্দেশ্য ছিল সম্মুখযু‌দ্ধের প্র‌শিক্ষণ নেয়া। তি‌নি দু দুবার ক্যা‌ম্পে গি‌য়ে যু‌দ্ধে শ‌রিক হওয়ার সু‌যোগ অর্জন কর‌তে পা‌রেন‌নি। তি‌নি ব‌লে‌ছেন, যারা যুদ্ধ প্র‌শিক্ষ‌ণের দা‌য়ি‌ত্বে ছি‌লেন তি‌নি তা‌দের সুনজ‌রে পড়‌তে পা‌রেন‌নি। তাঁ‌কে বোঝা‌নো হ‌য়ে‌ছিল আপনার ম‌তো একজন ক্রি‌য়ে‌টিভ মানুষ‌কে বন্দুক নি‌য়ে যুদ্ধ কর‌তে হ‌বে কেন! আপনার সাম‌নে করার ম‌তো অ‌নেক কাজ র‌য়ে‌ছে।

আহমদ ছফা ব্যর্থম‌নোরথ হ‌য়ে কোলকাতা চ‌লে যান। মোর‌শেদ শ‌ফিউল হাসান এবং সোহরাব হাসান সম্পা‌দিত “আহমদ ছফা স্মারকগ্র‌ন্থে” উল্লেখ করা হ‌য়ে‌ছে, “‌কোলকাতায় গি‌য়ে আহমদ ছফা পার্ক সার্কাস রো‌ডে সিকান্দার আবু জাফরের বাসায় আশ্রয় নি‌য়ে‌ছি‌লেন। ওই সময় তি‌নি মু‌ক্তিযু‌দ্ধের সমর্থ‌নে “দাবানল” নামক এক‌টি প‌ত্রিকা সম্পাদনা ক‌রেন এবং সিকান্দার আবু জাফর সম্পা‌দিত “অ‌ভিযান”সহ বি‌ভিন্ন পত্রপ‌ত্রিকায় ‌লেখায় মন‌নি‌বেশ ক‌রেন।” ওই সময় দাঁড় ক‌রি‌য়ে‌ছি‌লেন “বাঙলা‌দেশ সাংস্কৃ‌তিক সংগ্রাম শি‌বির” না‌মক এক‌টি সংগঠন, যার সভাপ‌তি ছি‌লেন ড অজয় রায় এবং সাধারণ সম্পাদক ছি‌লেন আহমদ ছফা স্বয়ং। মু‌ক্তিযু‌দ্ধের ভীবৎস স্মৃ‌তি নি‌য়ে লি‌খে‌ছেন “ঢাকায় যা দে‌খে‌ছি যা শু‌নে‌ছি।” মু‌ক্তিযু‌দ্ধের ওপর প্রথম বই “জাগ্রত বাংলা‌দেশ” বই‌টি ওই সময় কোলকাতা থে‌কে প্রকা‌শিত হয়। প্রকাশ ক‌রে‌ছিল “মুক্তধারা”। এ‌টি দি‌য়ে মুক্তধারা প্রকাশনা জগ‌তে পা বাড়ায়। ওই সময় তি‌নি কোলকাতা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের উদয়ন ছাত্রাবা‌সে অবস্থান ক‌রে‌ছি‌লেন। বই‌টির ভূ‌মিকা লে‌খেন কোলকাতা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের প্র‌ফেসার শ্রী আশু‌তোষ ভট্টাচার্য। কম‌রেড মোজাফ্ফর আহমদ বই‌টির ওপর দীর্ঘ আ‌লোচনা লি‌খে‌ছি‌লেন যে‌টি “সাপ্তা‌হিক বাংলা‌দে‌শে” ছাপা হ‌য়ে‌ছিল।

“অলাতচক্র”, “অ‌র্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী” বই দু‌টি আহমদ ছফার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। সত্য ঘটনার ওপর ভি‌ত্তি ক‌রে উপন্যাস দু‌টি লি‌খিত। “অলাতচক্র” কোলকাত‌া থাকাকালীন ঘ‌টে যাওয়া ঘটনাব‌লির নি‌রি‌খে লেখা। এটা‌কে এক‌টি ঐ‌তিহা‌সিক দ‌লিল বল‌লে অত্যু‌ক্তি করা হয় না। ওই উপন্যা‌সে আহমদ ছফা মু‌ক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কি ক‌রে‌ছি‌লেন তার য‌থেষ্ট প্রমাণ মে‌লে। “অ‌র্ধেক নারী অ‌র্ধেক ঈশ্বরী” উপন্যা‌সে আহমদ ছফা নি‌জে‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হি‌সে‌বে প‌রিচয় দি‌য়ে‌ছেন। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের আন্তর্জা‌তিক ছাত্রাবা‌সে দুরদানা ওর‌ফে শা‌মিম শিকদার যখন আহমদ ছফার ক‌ক্ষে যে‌তে চাই‌লেন তখন দা‌রোয়ান তাঁ‌কে বাঁধা দেন। কোন ম‌হিলা ভেত‌রে যাওয়ার রী‌তি নেই ব‌লে এই  বিড়ম্বনা। দা‌রোয়ান‌কে নানাভা‌বে বু‌ঝি‌য়েও দুরদানা এবং জা‌হিদ হাসান ওর‌ফে আহমদ ছফা কোনভা‌বে বু‌ঝি‌য়ে কুল পা‌চ্ছি‌লেন না। তখন জা‌হিদ হাসান বল‌ছেন, “এই মূর্খ দা‌রোয়ান একটা ‌জি‌নিস হিসা‌বের ম‌ধ্যে আন‌ছে না আ‌মি সদ্য যুদ্ধ‌ফেরত একজন মু‌ক্তি‌যোদ্ধা। সব জায়গায় মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের সুযোগ সু‌বিধা আলাদা। আই‌নে যা থাকুক আ‌মি একজন ভদ্রম‌হিলা‌কে আমার ঘ‌রে নি‌য়ে যে‌তে পারব না তা কেমন ক‌রে হয়!” আ‌রেক জায়গায় ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের ইং‌রে‌জির প্র‌ফেসর ড শ‌ফিকুল ইসলাম চৌধুরী (এই  নাম‌টি একজন বিখ্যাত মানুষ‌কে ম‌নে ক‌রি‌য়ে দেয়) জা‌হিদ হাসান ওর‌ফে আহমদ ছফা‌কে বল‌ছেন, “‌তোমরা চা‌রি‌দি‌কে ব‌লে বেড়াচ্ছ মু‌ক্তিযুদ্ধ ক‌রেছ। য‌দি এতটুকু অন্যায় আটকা‌তে না পা‌রো তাহ‌লে মু‌ক্তিযুদ্ধ যে করেছ আমরা কি ক‌রে সেটা বিশ্বাস করব?”

অ‌নে‌কে হয়‌তো বল‌তে পা‌রেন, এসব উপন্যা‌সের কথা তার ম‌ধ্যে সত্য খোঁজা অবান্তর। তারপ‌রেও কথাগু‌লোর যে একটা পূর্বাপর রেশ র‌য়ে গে‌ছে আমরা সে‌টি অস্বীকার করব কিভা‌বে! একটা প‌রি‌চিত চ‌রি‌ত্রে য‌দি এক‌টি ডাহা মিথ্যা ত‌থ্যের অনুপ্রে‌বেশ ঘটা‌নো হয় তখন ওই চ‌রিত্র‌টি খে‌লো হ‌য়ে যায়, একই স‌ঙ্গে লেখকও। আমা‌দের বুঝ‌তে হ‌বে আহমদ ছফা একজন আত্মস‌চেতন লেখক। ই‌চ্ছে কর‌লে তি‌নি যাচ্ছেতাই লিখ‌তে পা‌রেন না।

আ‌রেক‌টি প্রস‌ঙ্গে আ‌সি। একবার ক‌বি আল মাহমুদ এক সাক্ষাৎকা‌রে নি‌জে‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা লেখক এবং মু‌ক্তিযু‌দ্ধের একমাত্র লেখক হি‌সে‌বে দা‌বি ক‌রে‌ছি‌লেন। কিন্তু তি‌নি চে‌পে গি‌য়ে‌ছি‌লেন, কিংবা জান‌তেন না বাংলা‌দে‌শে আরও লেখক মু‌ক্তিযুদ্ধ ক‌রে‌ছেন। আল মাহমু‌দের এমন আত্মাহংকারী কথা আহমদ ছফা‌কে উ‌ত্তে‌জিত ক‌রে তো‌লে। তৎক্ষণাৎ আহমদ ছফা “বাংলাবাজার প‌ত্রিকায়” তাঁর সাক্ষাৎকা‌রের প্র‌তিবাদ জা‌নি‌য়ে দীর্ঘ এক‌টি লেখা লি‌খে ব‌সেন। সেখা‌নে তি‌নি ব‌লে‌ছি‌লেন, “আমার বল‌তে‌ ‌দ্বিধা এবং সং‌কোচ হ‌চ্ছে, তথা‌পি স‌ত্যের খা‌তি‌রে কথাটা বলা উ‌চিত, আ‌মি ব্য‌ক্তিগতভা‌বে মু‌ক্তিযু‌দ্ধে অংশগ্রহণ ক‌রে‌ছি এবং লি‌খে‌ছি। সেই  সম‌য়ে লেখাগু‌লো মানুষ পছন্দও ক‌রে‌ছিল। যে‌হেতু আমরা আল মাহমু‌দের ম‌তো দৃঢ়‌চিত্ত এবং ম‌নোবলসম্পন্ন লেখক নই সেজন্য ঘোষণা দি‌তে পা‌রি‌নি।” এসব লিখ‌তে ই‌চ্ছে ক‌রে না। তারপ‌রেও বল‌তে হয়, সমা‌জে সু‌যোগসন্ধানী মানু‌ষের তো অভাব নেই।

আহমদ ছফা মারা যাবার বছর দু‌য়েক পর আ‌মি নি‌জের উ‌দ্যো‌গে তাঁর কবর‌টি বাঁধাই ক‌রি। কবর‌টি বাঁধাই কর‌তে গি‌য়ে আমা‌কে কম ঝ‌ক্কিঝা‌মেলা পোহা‌তে হয়‌নি। সেইসব কথা অন্য‌কোন লেখায় লিখব। 

কব‌রের গা‌ত্রে আ‌মি বড় এক‌টি নামফলক সংযুক্ত ক‌রি। ওই নামফল‌কে আ‌মি আহমদ ছফা‌কে “‌বি‌শিষ্ট মু‌ক্তি‌যোদ্ধা” উ‌ল্লেখ ক‌রে‌ছিলাম। আ‌মি জা‌নি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা কখনও বি‌শিষ্ট হয় না, তারপ‌রেও স‌চেতনভা‌বে অ‌ভিধা‌টি আ‌মি উ‌ল্লোখ ক‌রে‌ছিলাম। লি‌খে‌ছিলাম এই  কার‌ণে, আহমদ ছফা মারা গে‌লে বু‌দ্ধিজীবী কবরস্থা‌নে দাফন করার জন্য অনুম‌তি নি‌তে গি‌য়ে আহাদ চৌধুরী প্রশ্ন তু‌লে‌ছি‌লেন, আহমদ ছফা কোথায় মু‌ক্তিযুদ্ধ ক‌রেছি‌লেন? তি‌নি আহমদ ছফা‌কে বু‌দ্ধিজীবী কবরস্থা‌নে দাফন কর‌তে দেন‌নি, অথচ অমু‌ক্তিযোদ্ধা‌দের কবর ওখা‌নে কম‌বে‌শি পাওয়া যা‌বে। কিন্তু আহমদ ছফা মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হ‌য়েও সেখা‌নে তাঁর জায়গা হয়‌নি রাজ‌নৈ‌তিক কার‌ণে। তাঁর জন্য পঁ‌চিশ হাজার তিরা‌শি টাকা দি‌য়ে সাধারণ গোরস্থা‌নে কবর কিনতে হ‌য়ে‌ছিল। ধ‌রে নিলাম তি‌নি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ছি‌লেন না, কিন্তু একজন লেখ‌ককে কবর কি‌নে মা‌টির নি‌চে পাঠা‌তে হয় তার চে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হ‌তে পা‌রে!

আ‌মি “‌বি‌শিষ্ট মু‌ক্তি‌যোদ্ধা” লি‌খে বুঝা‌তে চে‌য়ে‌ছিলাম মু‌ক্তি‌যোদ্ধারা কেবল ভিআই‌পি কবরস্থা‌নে স্থান পায় না, প‌রি‌স্থির শিকার হ‌য়ে তাঁ‌দের সাধারণ কবরস্থা‌নেও শুই‌য়ে থাক‌তে হয়। সাধারণ মানু‌ষের ম‌নে প্রশ্ন জাগার জন্য আ‌মি স‌চেতনভা‌বে কাজ‌টি ক‌রে‌ছিলাম। সে‌টি দে‌খে আমা‌দের দে‌শের এক বু‌দ্ধিজীবীর মাথায় বাজ প‌ড়ে গেল, আ‌মি কেন “‌বি‌শিষ্ট মু‌ক্তি‌যোদ্ধা” লিখলাম। এখা‌নেই তি‌নি থে‌মে থা‌কেন‌নি, কবর‌টি নি‌য়ে আরও নানা‌কিছু ব‌লে প‌ত্রিকায় এক‌টি লেখাও লি‌খে ফেললেন। ভাগ্য ভা‌লো যে তি‌নি আমা‌কে মার‌তে আ‌সেন‌নি। এই লেখক‌টি পার‌লে আহমদ ছফার জন্য জান কোরবান ক‌রে দি‌তে পা‌রেন। ঈশ্ব‌রের নাম যত না মু‌খে নেন তার চে বে‌শি নেন আহমদ ছফার নাম। তি‌নিও দে‌খি আহমদ ছফা‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা বল‌তে নারাজ। তি‌নিও আহমদ ছফা‌কে ব‌লে থা‌কেন “তথাক‌থিত মু‌ক্তি‌যোদ্ধা”। তাঁর ম‌তে, আহমদ ছফা মু‌ক্তি‌যুদ্ধ ক‌রেন‌নি, ওপার বাংলায় গি‌য়ে‌ছি‌লেন সেই  অ‌র্থে ‌তি‌নি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা। তার মা‌নে আহমদ ছফা‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা মান‌তে অ‌নে‌কের চুলকা‌নি আ‌ছে। এই  য‌দি হয় বাংলা‌দে‌শে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌টি কে? আর কি কর‌লে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হয়? হায়‌রে বাংলা‌দে‌শের বু‌দ্ধিজীবী! মজার ব্যাপার হল আহমদ ছফা কখনও প্রচার চালান‌নি তি‌নি একজন মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ছি‌লেন। মু‌ক্তি‌যোদ্ধা হি‌সে‌বে তি‌নি কোন সু‌বিধাও নেন‌নি। মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের তা‌লিকায়ও তাঁর নাম নেই। এ নি‌য়ে তাঁর মাথাব্যথাও ছিল না।

‌লেখাটা শেষ ক‌রি একটা কথা দি‌য়ে। ভারতীয় বই‌তে গোটা দেশ সয়লাব হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল। দে‌শের প্রকাশনা প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো প‌থে বসার উপক্রম। প্রকাশনা বাঁচা‌তে আহমদ ছফা ভারতীয় বই‌য়ের অনুপ্র‌বেশ ব‌ন্ধে ক‌ঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ কর‌লেন। অ‌নে‌কে  তাঁর বি‌রো‌ধিতাও ক‌রে‌ছি‌লেন। তাঁ‌দের একজন ছি‌লেন শওকত ওসমান। প্রায় প্র‌তি‌দিন সকা‌লে ফো‌নে তি‌নি তাঁর স‌ঙ্গে কথা বল‌তেন। এক‌দিন তাঁ‌কে স‌ঙ্গে নি‌য়ে আহমদ ছফা টে‌ক্সি‌তে ক‌রে বে‌রি‌য়ে পড়েন। তাঁ‌কে স‌ঙ্গে  নি‌য়ে তি‌নি ঢাকার অ‌নেক বই‌য়ের দোকান, এয়ার‌পোর্ট, নিউমা‌র্কেট‌ে তাঁর বই খুঁ‌জে বেড়া‌লেন। কোথাও তাঁর এক‌টি বইও পাওয়া যায়‌নি। যেখা‌নে যান তাঁ‌দের দোকা‌নিরা ভারতীয় বইই ধরি‌য়ে দেন। প‌রে আহমদ ছফা ক্ষুব্ধ হ‌য়ে লি‌খে‌ছেন, “‌যে বাংলা‌দে‌শের বই‌য়ের দোকানদা‌রেরা আপনার ম‌তো প্রবীণ এবং প্র‌তিভাবান একজন লেখ‌কের এক‌টি বই বি‌ক্রি কর‌তে রা‌জি হয় না, সেই দেশ‌কে আমরা কেন স্বাধীন ক‌রে‌ছিলাম? স্যার গুরুজন। তাঁর স‌ঙ্গে তো বেফাঁস কথা বলা চ‌লে না। আমার সমবয়সী কেউ হ‌লে বলতাম, ভা‌লো লি‌খেও আমার দে‌শে আ‌মি য‌দি এক‌টি বইও বেচ‌তে না পা‌রি তাহ‌লে লড়াই ক‌রে বাল ছেঁড়ার জন্য দেশটা‌কে স্বাধীন ক‌রে‌ছিলাম!”

‌দেশ স্বাধীন ক‌রেও আহমদ ছফা স্বাধীনতার স্বাদ পান‌নি। তাঁর কা‌ছে এ স্বাধীনতা অর্থহীন। সুতরাং কেউ তাঁ‌কে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা বল‌লেও কি না বল‌লেও কি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares