আহমদ ছফাকে নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া গল্পের প্রতিক্রিয়া

আহমদ ছফা‌কে নি‌য়ে ফেসবু‌কে ভাইরাল হওয়া গ‌ল্পের প্রতিক্রিয়া

:: নুরুল আনোয়ার ::

গ্রামীণ একটা প্রবাদ আছে, “আধা সের চা‌লের পিঠা, যার কথা শু‌নি তার কথা মিঠা।” বর্তমা‌নে এমন এক‌টি সময় যা‌চ্ছে, আহমদ ছফার ব্যাপা‌রে যে যা ব‌লে মিঠাই লা‌গে।


গত ক‌দিন আ ‌গে আ ‌মি ফেসবু‌কে এক‌টি কথা ব‌লে‌ছিলাম। লি‌খে‌ছিলাম, “মানুষ মারা গে‌লে তার সম্প‌র্কে মিথ্যা বলা খুব সহজ, যে‌টি আ হমদ ছফার বেলায় ঘ‌টে চ‌লে‌ছে।” কথাগু‌লো প‌ড়ে অ‌নে‌কে নানা মন্তব্য ক‌রে‌ছি‌লেন। কেউ কেউ জান‌তে চে‌য়ে‌ছি‌লেন, কারা এসব কর‌ছে? অ‌নে‌কে গালমন্দও ক‌রে‌ছেন। আ ‌মি কথাগু‌লো ছুঁড়ে দি‌য়ে চুপ হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিলাম। ফেসবু‌কে একটা কথা বল‌লে হাজারটা কথার জবাব ‌দি‌তে হয়। এটা অ‌নেক সময় মন থে‌কে সায় দেয় না।

আহমদ ছফা শেখ মু‌জিব‌কে বঙ্গবন্ধু বল‌তেন না। বিষয়‌টি ঠিক। তি‌নি ম‌নে কর‌তেন বঙ্গবন্ধু বল‌লে তাঁ‌কে ছোট করা হয়। তি‌নি ম‌নে কর‌তেন, এ শব্দ‌টি চিত্তরঞ্জন দাসকে দেয়া উপা‌ধি “দেশবন্ধু”র ম‌তো শ‌ব্দের ধার করা এক‌টি শব্দ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু‌কে তি‌নি বঙ্গপল্টু ব‌লে‌ছেন এটা‌কে কি আমা‌দের সত্য ব‌লে ধ‌রে নি‌তে হ‌বে?আহমদ ছফা ছি‌লেন অসম্ভব রকম বিনয়ী একজন মানুষ। আহমদ ছফা শেখ মু‌জিবুর রহমান‌কে জা‌তির পিতা স‌ম্বোধন কর‌তেন না, লিখ‌তেন বাংলা‌দে‌শের স্থপ‌তি। এটারও ব্যাখ্যা তি‌নি দি‌য়ে‌ছেন। শেখ মু‌জিব‌কে নি‌য়ে সব‌চে মূল্যায়নধর্মী ভা‌লো লেখা তি‌নিই লি‌খে‌ছেন। আহমদ ছফা লি‌খে‌ছেন, গত তিন হাজার বছ‌রে বাংলার ই‌তিহা‌সে শেখ মু‌জি‌বের ম‌তো মানুষ একজনও জন্মায়‌নি।


‌বেশ ক‌য়েক বছর ধ‌রে ফেসবু‌কে আ হমদ ছফাকে নি‌য়ে কিছু গল্প ভাইরাল হ‌তে দে‌খি। গল্পগু‌লোর স‌ঙ্গে স‌ত্যের কোন রেশ নেই জে‌নেও কোন রকম প্র‌তিবাদ ক‌রি‌নি। আ মার ধারণা ছিল, এসব গল্প কিছু‌দিন ঘুরা‌ফেরা করার পর আ পনাপ‌নি চাপা প‌ড়ে যা‌বে। কিন্তু আ মার ধারণা সত্য প্রমা‌ণিত না হ‌য়ে আ রও বে‌শি ভাইরাল হ‌তে থাকল।


আ হমদ ছফা এক‌টি কথা বল‌তেন, আ ‌মি মারা গে‌লে আ মা‌কে নি‌য়ে নানা গল্প তৈ‌রি হ‌বে। আ রও এক‌টি কথা বল‌তেন, আ ‌মি মারা গে‌লে চর দখ‌লের ম‌তো অবস্থা তৈ‌রি হ‌বে, সেখা‌নে আ মার কা‌ছের মানুষ ঘেঁষ‌তে পার‌বে না। কথাগু‌লোর ম‌ধ্যে যে বাস্তবতা ছিল তার কিছুটা হ‌লেও আ মরা বর্তমা‌নে অনুধাবন কর‌তে পা‌রছি।


‌যে কথাগু‌লো প্র‌তি‌নিয়ত ফেসবু‌কে ভে‌সে চ‌লে‌ছে সেইসব বিষ‌য়ে দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে আ মার কা‌ছে অ‌নে‌কে জান‌তে চে‌য়ে‌ছেন। আ ‌মি কাউ‌কে কাউ‌কে ভাসা ভাসা জবাব দি‌য়ে‌ছি, অ‌নে‌কের বেলায় বিরক্ত হ‌য়ে চে‌পে গি‌য়ে‌ছি। সম্প্র‌তি দাদা‌গি‌রি না‌মে এক‌টি ব্ল‌গে ওই গল্পগু‌লোর রেশ ধ‌রে আ হমদ ছফা‌কে নানাধর‌নের ভয়ানকভা‌বে তিরস্কার করা হ‌য়ে‌ছে। ‌সেই লেখা‌টিও একজন আ মার ইনব‌ক্সে পা‌ঠি‌য়ে‌ছেন। যারা এ লেখা‌টি যারা লি‌খে‌ছেন আ ‌মি তা‌দের দোষ দেই না। যেসব গল্পগু‌লো ভে‌সে বেড়া‌চ্ছে, যে কারও ম‌নে প্রশ্ন জাগা স্বাভা‌বিক, আ হমদ ছফার ম‌তো একজন মানুষ নানাধর‌নের দা‌য়িত্বহীন কথাবার্তা কিভা‌বে ব‌লেন!
এখন আ সল কথায় এ‌সে আ ‌মি এ‌কে একে বিষয়গু‌লো খোলাসা করার চেষ্টা কর‌ছি।

১। প্রথম বিষয়টা হ‌লো বেগম খা‌লেদা জিয়ার স‌ঙ্গে আহমদ ছফা ফো‌নে কথা হ‌য়ে‌ছিল। খা‌লেদা জিয়া সৌজ‌ন্যের খা‌তি‌রে আ হমদ ছফা‌কে দাওয়াত ক‌রেছি‌লেন। আ হমদ ছফা‌ ব‌লে‌ছি‌লেন, শেখ হা‌সিনা তাঁ‌কে রান্না ক‌রে খাই‌য়ে‌ছি‌লেন, আপনা‌কেও রান্না ক‌রে খাওয়া‌তে হ‌বে। এ বিষ‌য়ে আ ‌মি আ মার “ছফামৃত” বই‌য়ে লি‌খে‌ছিলাম। এখন প্রশ্ন হল, শেখ হা‌সিনা কি আ ‌দৌ আ হমদ ছফা‌কে রান্না ক‌রে খাই‌য়ে‌ছি‌লেন? আহমদ ছফা শেখ হা‌সিনার এমন কে যে তাঁ‌কে রান্না ক‌রে খাওয়া‌তে হ‌বে! আর খা‌লেদা জিয়া কি স‌ত্যি স‌ত্যি আহমদ ছফা‌কে রান্না ক‌রে খাওয়া‌নোর ম‌তো অবস্থা রা‌খেন? পু‌রো ব্যাপার‌টি ছিল একটা ফান। আহমদ ছফা কথায় কথায় ফান কর‌তেন। খা‌লেদা জিয়া আহমদ ছফার জন্য রান্না কর‌বেন এটা অসম্ভব ব্যাপার। আহমদ ছফার প‌ক্ষে ওখা‌নে যাওয়া হয়ত সম্ভব নয়, তা এ‌ড়ি‌য়ে যাওয়ার জ‌ন্যে তি‌নি এ অসম্ভব আবদার‌টি ক‌রে‌ছি‌লেন। পাঠকেরা য‌দি এতটুকু বোঝার ক্ষমতা না রা‌খেন তাহ‌লে তো মুশ‌কিল।

২। হুমায়ূন আ হ‌মেদ, আ ‌নিস সা‌বেত, আ হমদ ছফা কা‌ছের বন্ধু ছি‌লেন। হুমায়ূন আ হ‌মেদ তাঁর লেখায় লি‌খে‌ছেন, তাঁরা তি‌নজ‌নে শপথ ক‌রে‌ছি‌লেন কোন‌দিন বি‌য়ে কর‌বেন না। তি‌নি শপথ ভে‌ঙে বি‌য়ে ক‌রে‌ছেন, আ ‌নিস সা‌বেত মারা গে‌ছেন এবং আ হমদ ছফা কথা রে‌খে বি‌য়ে ক‌রেন‌নি।
আ হমদ ছফা ব্যাপার‌টি শোনার পর ক্ষে‌পে গি‌য়ে‌ছি‌লেন। সাক্ষাৎকা‌রে এ নি‌য়ে তি‌নি ব‌লে‌ছেন, এ ব্যাপা‌রে হুমায়ূ‌নের স‌ঙ্গে আ মি কোন কথা ব‌লি‌নি। আ ‌মি তো যে‌কোন সম‌য়ে বি‌য়ে কর‌তে পা‌রি। সে লেখক, গল্প বানাবার অ‌ধিকার তার আ ‌ছে। আ ‌মি এও জা‌নি সে আ মা‌কে নি‌য়ে অ‌নেক গল্প লি‌খে ফে‌লে‌ছে। আ ‌মি মারা গে‌লে ছাপ‌বে।
এ নি‌য়ে ‌তি‌নি আ রও অ‌নেক কথা ব‌লে‌ছেন সাক্ষাৎকা‌রে। তাহ‌লে এত রঙ দি‌য়ে কথাগু‌লো কিভা‌বে প্রকাশ পেল।

৩। শেখ মু‌জিবুর রহমান লাল টে‌লি‌ফো‌নে ফোন ক‌রে আ হমদ ছফা‌কে শিক্ষা উপ‌দেষ্টা করার প্রস্তাব দি‌য়ে‌ছি‌লেন। কিন্তু আ হমদ ছফা তাঁ‌কে কোন পাত্তাই দেন‌নি। তখন শেখ মু‌জিব ক্ষেপে গি‌য়ে সেই দা‌য়িত্ব দি‌লেন সা‌হি‌ত্যিক আ বুল ফজল‌কে।
‌শেখ মু‌জিব যখন ক্ষমতায় আ হমদ ছফার বয়স ক‌তো, বড়‌জোর ত্রিশ বছর? আ হমদ ছফার মেধা ছিল, প্র‌তিভা ছিল ঠিক আ ‌ছে, কিন্তু শেখ মু‌জিব‌কে কেন আ হমদ ছফা‌কে শিক্ষা উপ‌দেষ্টা বানা‌তে হ‌বে? আ ওয়ামীলী‌গে কি আ র কোন যোগ্য লোক ছিল না? তাও আ বার নি‌জে ফোন ক‌রে‌ছেন আ হমদ ছফা‌কে। মজার বিষয় হল আ হমদ ছফা ওই সময় কোন ফোনই ব্যবহার কর‌তেন না।
আ হমদ ছফার ওপর ক্ষে‌পে গি‌য়ে ‌শোধ নেয়ার জন্য শেখ মু‌জিব আ বুল ফজল‌কে শিক্ষা উপ‌দেষ্টা বানা‌লেন। আ স‌লে কি বঙ্গবন্ধু আ বুল ফজল‌কে উপ‌দেষ্ট ক‌রে‌ছি‌লেন? আ বুল ফজল‌কে শিক্ষা উপ‌দেষ্টা বা‌নি‌য়ে‌ছি‌লেন জিয়াউর রহমান, শেখ মু‌জিবুর রহমান নয়।

৪। আ হমদ ছফা শেখ মু‌জিব‌কে বঙ্গবন্ধু বল‌তেন না। বিষয়‌টি ঠিক। তি‌নি ম‌নে কর‌তেন বঙ্গবন্ধু বল‌লে তাঁ‌কে ছোট করা হয়। তি‌নি ম‌নে কর‌তেন, এ শব্দ‌টি চিত্তরঞ্জন দাসকে দেয়া উপা‌ধি “দেশবন্ধু”র ম‌তো শ‌ব্দের ধার করা এক‌টি শব্দ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু‌কে তি‌নি বঙ্গপল্টু ব‌লে‌ছেন এটা‌কে কি আ মা‌দের সত্য ব‌লে ধ‌রে নি‌তে হ‌বে? আ হমদ ছফা ছি‌লেন অসম্ভব রকম বিনয়ী একজন মানুষ।
আ হমদ ছফা শেখ মু‌জিবুর রহমান‌কে জা‌তির পিতা স‌ম্বোধন কর‌তেন না, লিখ‌তেন বাংলা‌দে‌শের স্থপ‌তি। এটারও ব্যাখ্যা তি‌নি দি‌য়ে‌ছেন। শেখ মু‌জিব‌কে নি‌য়ে সব‌চে মূল্যায়নধর্মী ভা‌লো লেখা তি‌নিই লি‌খে‌ছেন। আ হমদ ছফা লি‌খে‌ছেন, গত তিন হাজার বছ‌রে বাংলার ই‌তিহা‌সে শেখ মু‌জি‌বের ম‌তো মানুষ একজনও জন্মায়‌নি।

৫। ডেই‌লি স্টা‌রের এক‌টি ভি‌ডিও‌তে উ‌ল্লেখ ক‌রে‌ছেন, আ হমদ ছফা বাস কন্ট্রাক্ট‌রের কাজ দি‌য়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু ক‌রে‌ছি‌লেন। এটা মো‌টেই সত্য নয়। আ ‌মি জা‌নি না, তারা এসব তথ্য কোথায় পান।

৬। আ হমদ ছফা‌কে হাসপাতা‌লে নি‌য়ে যাওয়ার প‌থে মারা যান, এটাও সত্য নয়। আ হমদ ছফা মারা গি‌য়ে‌ছি‌লেন বাংলামট‌রের বা‌ড়ি‌তে আ মার হা‌তে মাথা রে‌খে। তারপ‌রেও আ মরা কজ‌নে মি‌লে হাসপাতা‌লে নি‌য়ে গি‌য়ে‌ছিলাম য‌দি বেঁ‌চে থা‌কেন সেই ভরসায়।

এরকম আ রও অ‌নেক গল্প আ হমদ ছফা‌কে নি‌য়ে পাওয়া যা‌বে। কারা এ গল্পগু‌লোর জন্ম দি‌চ্ছে? বাংলা‌দে‌শে মোহাম্মদ আ মীন না‌মের একজন খ্যা‌তিমান লেখক র‌য়ে‌ছেন, যি‌নি কা‌টিংপে‌স্টিং লেখক হি‌সে‌বে স্বীকৃত। তি‌নি ছি‌লেন সরকা‌রি আ মলা, উপস‌চিব। দুর্নী‌তির দা‌য়ে জেলফেরত। বর্তমা‌নে চাক‌রিচ্যুত হ‌য়ে জবরদস্ত লেখক। আ হমদ ছফার বাসায় তার যাতায়াত ছিল, কিন্তু তার নানা অপক‌র্মের কার‌ণে তি‌নি তা‌কে পছন্দ কর‌তেন না। বাসা থে‌কে একবার তা‌কে বারও ক‌রে দি‌য়ে‌ছি‌লেন।
আ হমদ ছফা মারা যাবার পরের বছর তি‌নি “আ হমদ ছফার চো‌খে বাংলা‌দে‌শের বু‌দ্ধিজীবী” না‌মে এক‌টি বই লি‌খে ফে‌লেন। পু‌রো বইটি বিত‌র্কিত গ‌ল্পে ঠাসা। লি‌খে‌ছেন উত্তমপুরু‌ষে। তি‌নি উ‌ল্লেখ ক‌রে‌ছেন, আ হমদ ছফা বই‌য়ের সব কথা তা‌কে ব‌লে‌ছেন। বই‌টি পড়‌লে ম‌নে হ‌বে আ হমদ ছফা একজন বাচাল এবং গীবতকারী। ক্ষেত্র বি‌শে‌ষে ম‌নে হ‌বে তিনি একটা অমানুষ।


এখন কথা হল, আ হমদ ছফা তা‌কে এসব কথা না ব‌লে থাক‌লে মোহাম্মদ আ মীন এসব গল্প কোথা থে‌কে বানা‌লেন?


আ হমদ ছফা মারা যাবার পর পত্রপ‌ত্রিকায় এত লেখা প্রকা‌শিত হয়, মোহাম্মদ আ মীন জসীম না‌মের একটি ছে‌লে‌কে দি‌য়ে সব লেখা সংগ্রহ ক‌রেছি‌লেন। সেইসব লেখা থে‌কে নানাগল্প সংগ্রহ ক‌রে তা‌তে রঙ লা‌গি‌য়ে ‌তি‌নি নি‌জের না‌মে চা‌লি‌য়ে দেন। ওই বই‌তে তি‌নি উ‌ল্লেখ ক‌রে‌ছেন, আ হমদ ছফা তা‌কে সব কথা ব‌লে‌ছেন। কিন্তু লোক‌টির বোধশ‌ক্তি এত নিচু, মিথ্যাকে স‌ত্য বানা‌তে গি‌য়ে আ রও হাজার মিথ্যার জন্ম দি‌য়ে‌ছেন।


এখন আ পনারা বল‌তে পা‌রেন বই‌টি নি‌য়ে আ প‌নি এত‌দিন প্র‌তিবাদ ক‌রেন‌নি কেন? প্রথ‌মে আ ‌মি বই‌টি নি‌য়ে কোনরকম ঘাঁটাঘাঁ‌টি কর‌তে চাই‌নি। পায়খানা নাড়াচাড়া কর‌লে গন্ধ বে‌শি ছড়ায়। আ ‌মি পায়খানা‌কে পায়খানার জায়গায় রাখ‌তে চে‌য়ে‌ছিলাম। বছর দু‌য়েক আ ‌গে আ মার অ‌ফি‌সের সাম‌নে ড স‌লিমুল্লাহ খা‌নের স‌ঙ্গে আ মার দেখা হয়। তখন তাঁর স‌ঙ্গে আ মার অ‌নেক কথা হয়ে‌ছিল। ওই সময় তি‌নি আ মা‌কে জানি‌য়ে‌ছিলেন, সাম‌নে আ হমদ ছফার জন্ম‌দি‌ন‌কে সাম‌নে রে‌খে তাঁর “অর্থ” প‌ত্রিকা‌টি পুনরায় প্রকাশ কর‌বেন। তি‌নি আ মা‌কে এক‌টি লেখা দি‌তে বল‌লেন। আ মার যত বড় লেখাই হোক তি‌নি ছাপ‌বেন। আ ‌মি তাঁ‌কে কথা দি‌য়ে‌ছিলাম। আ ‌মি একটা লেখা লি‌খে‌ছিলাম, যার দৈর্ঘ্য কু‌ড়ি পৃষ্ঠার অ‌ধিক, ই‌চ্ছে কর‌লে ছোট একটা বই করা যায়। এই লেখা‌টি লি‌খে‌ছিলাম মোহাম্মদ আ মী‌নের সেই বই‌টি সমা‌লোচনা ক‌রে। আ ‌মি পু‌রো বইটির এক‌টি জবাব দাঁড় ক‌রি‌য়ে‌ছিলাম এবং লেখা‌টি ড খান‌কে পা‌ঠি‌য়ে দিলাম। অ‌নেক‌দিন পর খান সাহেব প্রীত হ‌য়ে জানা‌লেন, এ লেখা চাপা যা‌বে না, ‌তি‌নি আ মীন‌কে গুরুত্ব দি‌তে চান না।


আ ‌মিও অ‌নেক বছর তা‌কে গুরুত্ব দেই‌নি। খান সা‌হেবও যখন দি‌তে চান না আ মার আ র কি করার থা‌কে। কিন্তু তি‌নি হয়‌তো জা‌ন‌তেন না, বড় ইঁদুর যেমন গোলার ধান খে‌য়ে ফে‌লে, ছোট ইঁদুরও কিন্তু কম যায় না।


এই লেখার ২,৩ এবং ৪ নম্বর গল্পত্রয় মোহাম্মদ আ মী‌নের সেই বই‌য়েরই অংশ বি‌শেষ। পাঠ‌কের বারবার তাগাদা থে‌কে আ মা‌কে এ লেখা‌টি লিখ‌তে হল। সকল‌কে ইদ মুবারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares