আওয়ামী লীগ দেখলেই থমকে দাঁড়াতে হবে

আওয়ামী লীগ দেখলেই থমকে দাঁড়াতে হবে

১৯৭৪ সালের জুলাই মাস। মেজর ফারুক ফার্স্ট বেঙ্গল ল্যান্সার্স-এর ব্র্যাভো স্কোয়াড্রন নিয়ে ডেমরায় চলে আসে। শেখ মুজিবের নির্দেশক্রমে এক নাটকীয় ‘পরিচ্ছন্ন অভিযান’-এর অংশ হিসেবে ফারুকের পোস্টিং হলো সেখানে। কয়েকদিনের মধ্যেই ফারুক ডাকাত দলের ‘আড্ডাখানা’ বলে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ রোডের আশপাশের এলাকা একেবারে পরিচ্ছন্ন করে ফেলে। ঐ এলাকার ত্রাস সৃষ্টিকারী ‘ডাকাত সর্দার’ এক বিশ বছরের যুবক। নিজেকে সে একজন আওয়ামী লীগার বলে পরিচয় দিযে থাকে। ফারুক তাকে গ্রেফতার করলে, সে পরিষ্কার ভাষায় স্বীকার করে যে, এ যাবত সে মাত্র ২১ (একুশ) জনকে নিজ হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় করে পরপারে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফারুক পরে আমাকে বলেছিল, ‘আমি তাকে এ কাজ করার কারণ জিজ্ঞেস করলে, সে তার ‘ওস্তাদের’ নির্দেশে তা করেছে বলে জানায়।’ ‘ঐ বদমায়েশের ওস্তাদ স্বয়ং শেখ মুজিব। সুতরাং তার কীইবা আমি করতে পারতাম?’

ফারুক জানালো সে একটা লিখিত নির্দেশ পায়। ঐ নির্দেশে বলা হয় যে, সে কাউকে গ্রেফতার করলে, তার নিজ দায়িত্বেই তা করতে হবে। কোন অঘটন ঘটে গেলে, তার জন্যে তার রেজিমেন্টাল কমান্ডার কিংবা ব্রিগেড কমান্ডার কেউই দায়ী হবে না। ফারুক বললো, ‘এর অর্থ ছিল এ রকম যে, আমাদেরকে অনাচার, দূর্নীতি দূর করতে হবে কিন্তু আওয়ামী লীগ দেখলেই থমকে দাঁড়াতে হবে।’ পুরো ব্যাপারটাই এক দু:খজনক ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছিল॥”

যুবকের ঘটনাটি মেজরকে সাংঘাতিকভাবে নাড়া দেয়। আওয়ামী লীগারদের যথেচ্ছ কর্মকান্ডে যে কোন ধরণের ‘একশান’ নিতে গেলেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এক বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতো। সেনাবাহিনী বিভিন্ন জায়গা থেকে চোরাচালান, মজুতদারী, হত্যা ইত্যাদি অভিযোগে শত শত লোককে গ্রেফতার করে। কিন্তু ঢাকা থেকে একটা টেলিফোনেই ঐ সকল লোকজন ‘বেকসুর খালাস’ হয়ে যেতো।

ফারুক জানালো সে একটা লিখিত নির্দেশ পায়। ঐ নির্দেশে বলা হয় যে, সে কাউকে গ্রেফতার করলে, তার নিজ দায়িত্বেই তা করতে হবে। কোন অঘটন ঘটে গেলে, তার জন্যে তার রেজিমেন্টাল কমান্ডার কিংবা ব্রিগেড কমান্ডার কেউই দায়ী হবে না। ফারুক বললো, ‘এর অর্থ ছিল এ রকম যে, আমাদেরকে অনাচার, দূর্নীতি দূর করতে হবে কিন্তু আওয়ামী লীগ দেখলেই থমকে দাঁড়াতে হবে।’ পুরো ব্যাপারটাই এক দু:খজনক ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছিল॥”

– অ্যান্থনী মাসকারেণহাস / বাংলাদেশ : এ লিগ্যাসি অব ব্লাড। অনুবাদ: মোহাম্মদ শাহজাহান ॥ [ হাক্কানী পাবলিশার্স । ফেব্রুয়ারী – ১৯৮৮ । পৃ: ৫৩ ]

দুই।

” … নবগঠিত ন্যাপ (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি) -এর পল্টনে প্রকাশ্য জনসভায় (আওয়ামী লীগের) জনৈক ছাত্র মোশাররফের নেতৃত্বে ঢাকার রাজনীতিতে প্রথম বোমাবর্ষণের ইতিহাস ইত্যাদি সবকিছুর মধ্য দিয়ে তখন আমরা পার হচ্ছি। এই মোশাররফই পরবর্তীকালে ব্যবসায় অবতীর্ণ হন এবং বর্তমানে সম্ভবত: কোটিপতি হয়েছেন। পুরোন বন্ধু, বর্তমানে নব ধনপতি মোশাররফের মতে সে আমলে রাজনৈতিক দলেও গুন্ডা আমদানী করে মারপিট করা হত। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ না করলে স্তব্ধ করা যেত না॥”

– ফয়েজ আহমদ / মধ্যরাতের অশ্বারোহী ॥ [ ইউনিভার্সিটি প্রেস লি: – ডিসেম্বর১৯৮২ । পৃ: ১৬ ]

তিন ।

“… মুজিবুর রহমানের যে শাসনকাল, সে শাসনকালে তিনি অবশ্য সুষ্ঠুভাবে শাসন করতে পারেননি। তিনি সেসময়ে ছিলেন সবচে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতা কিন্তু ক্রমশ: তিনি তার জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন। এবং তার মধ্যেও এক ধরণের স্বৈরপ্রবণতা দেখা দেয়। তিনি গণতন্ত্রকে অনেকটা ধ্বংস করে দিয়ে একদলভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রবর্তন করেন এবং একটি শোচনীয় পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছেন।

… আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছি। যেমন রাজাকাররা এখন একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সঙ্গী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অবশ্য এটা যদি আমরা ভালো করে দেখি যে আওয়ামী লীগও একসময় ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগও একসময় ক্ষমতায় ছিল, তারাও কিন্তু একসময় রাজাকারদের সঙ্গে এরকম সম্পর্কিত ছিল। সেই রাজাকারদের তারা ঠিক ক্ষমতার অংশ করে তোলেনি। কিন্তু তারা আন্দোলন করেছে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছে। অনেক রাজাকার আওয়ামী লীগের মধ্যেও ঢুকে গিয়েছিল এ ব্যাপারটাও লক্ষ্য করার মতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সম্পর্কে একটা ধারণা যে এরা বাঙালিপন্থী। এরাও ধর্মোন্মদনা কম সৃষ্টি করেনি। এরাও হজ্ব এবং ওমরা কম পালন করেনি, এরাও ঘোমটা কম দেয়নি এবং মুখে কম দাড়ি রাখেনি। এরাও প্রচুর করেছে॥”

– হুমায়ুন আজাদ / মুক্তিযুদ্ধ : ভাষা আন্দোলনের অবধারিত পরিণতি ॥ সম্পাদনা: শরীফা বুলবুল ॥ [ বলাকা – ফেব্রুয়ারী২০০৭ । পৃ: ১১-১৫ ]

One thought on “আওয়ামী লীগ দেখলেই থমকে দাঁড়াতে হবে”
  1. তখনকার অবস্থা আর বর্তমান অবস্থার মধ্যে পার্থক্য নাই। তখন ছিল অ্যানালগ সিস্টেম এখন ডিজিটাল সিস্টেমে চলছে মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। এখনো আওয়ামী লীগ করলে যত অন্যায় করুক তারা জানে তাদের কিছু হবে না। আজকে ধর্ষণ করে মাডার। রাস্তায় কুকুরের ডুবাই মার্ডার করে রেখে দিচ্ছি ধর্ষণ ধর্ষণ করে খুঁজে দেখেন একই জিনিস। কিন্তু কেউ ধরা পড়ছে না বিচার হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares