'গুলশানের এক বাড়িতে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রস্তাব করা হয়েছিল'

‘গুলশানের এক বাড়িতে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রস্তাব করা হয়েছিল’

… ১৯৭৫, ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে কর্নেল আব্দুল হামিদ সেদিন সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে কি ঘটেছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন।  তাতে তিনি বলেছেন যে, মেজর শরিফুল ইসলাম (ডালিম) দুই তিনটি জিপ ভর্তি সশস্ত্র সৈনিক নিয়ে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে হাজির হলে সিনিয়র অফিসাররা হকচকিয়ে যান এবং আত্মরক্ষার জন্য কেউ টেবিলের তলায় আবার কেউবা থামের আড়ালে আত্মগোপন করার চেষ্টা করেন।  কিন্তু তারপর যখন মেজর ডালিম এসমস্ত অফিসারদের বলেন যে, তাদেরকে তার সাথে যেতে হবে এবং পরিস্থিতির হাল ধরতে হবে তখন একে একে সবাই রাজি হয়ে যান।  সাংবাদিক সম্মেলনে সাবেক নায়েক সুবেদার মো: জালাল উদ্দিন একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে বলা হয় যে, ১৯৭৫ সালে গুলশানের এক বাড়িতে বঙ্গবন্ধু  হত্যার প্রস্তাব করা হয়েছিল।  কর্নেল হামিদের বর্ণনা অনুযায়ী সেদিন রাত হতে হতে অভ্যুত্থানটি সামরিক বাহিনী আত্মীকরণ করে নেয়। এই অভ্যুত্থানের সময় আমি দিল্লীতে কর্মরত। সেখানে সেপ্টেম্বরের দিকে আমাদের মনে হচ্ছিল যে ঢাকায় খন্দকার মোশতাক সাহেব বঙ্গভবন থেকে দেশ চালাচ্ছেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই কূটনৈতিক সূত্রে আমরা খবর পাই যে, অভ্যুত্থানকারী কর্নেল ও মেজররা বঙ্গভবনেই অবস্থান করছে। তখন দিল্লীতে ধীরে ধীরে মোশতাক সাহেবের সরকারের বেসামরিক মুখোশটি সরে যাচ্ছিল। এই সময় দিল্লীতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর (পরে মেজর জেনারেল) একবার ঢাকা থেকে ঘুরে এলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, অভ্যুত্থানকারী সামরিক অফিসাররা প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাককে ঘিরে বঙ্গভবনে অবস্থান করছে কি না? তার উত্তরে ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর একথার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বলেন – “Don’t worry, they are our boys”. এর কিছুদিন পর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বঙ্গভবনের এই কর্নেল মেজরদেরকে হটিয়ে খোন্দকার মোশতাককে গদিচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করলেন। ৪ঠা নভেম্বর ১৯৭৫ সনে আমি যখন এই অভ্যুত্থানের কথা ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুরকে জানালাম তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘অপেক্ষা করুন। কাহিনী এখনও শেষ হয়নি’। … ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলেন। এর দু’একদিন পর ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুরের সাথে দেখা হলে তিনি বললেন, ‘সামাদ সাহেব, সেদিন বলেছিলাম কাহিনী শেষ হয়নি, আজকে বলছি, এখন শেষ হয়েছে’। তবে দু:খজনক হলেও সত্যি যে, ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর যে কাহিনীর কথা ইংগিত করেছিলেন আত্মঘাতের সেই কাহিনী তখনও শেষ হয়নি, যার ফলে পরবর্তীকালে কর্নেল তাহেরের জীবনাবসান ঘটানো হলো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯৭৫ সনে। জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হলেন ১৯৮১ সনের ৩১শে মে এবং তিনদিন পর জেনারেল মঞ্জুর নিজেও নিহত হলেন এবং ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৭০০-৮০০ সৈনিকও ফাঁসির দড়িতেসহ নানানভাবে নিহত হলো। অন্যদিকে এই রক্ত ও বিশৃঙ্খলার সোপান বেয়ে অভ্যুদয় ঘটে জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন এক সামরিক জান্তার॥” – আতাউস সামাদ (সাংবাদিক) [ ‘বাংলাদেশ : দুই দশকের রাজনীতি‘ শীর্ষক আলোচনা সভায় / ২৯ জানুয়ারী – ৪ঠা ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৩ ইং ]…

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফেরার আবেদন জিয়া নাকচ করেন

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফেরার আবেদন জিয়া নাকচ করেন

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট অভ্যুত্থানের নায়ক ফারুক, রশীদ ও অন্যান্যরা ভেবেছিল তাদের বিদেশে অবস্থান হবে স্বল্প কালের জন্য। কিন্তু ডিসেম্বরের…

নির্যাতন অন্যায়কারী অপশক্তি একদিন পরাভূত হবেই

নির্যাতন অন্যায়কারী অপশক্তি একদিন পরাভূত হবেই

একদিন সন্ধ্যায় থানায় কাজ করছি। এমন সময় মাঝ বয়েসী এক হিন্দু ভদ্রলোক হঠাৎ করেই আমার কক্ষে ঢুকে নি:শব্দে সোজা আমার…

রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থান

রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থান

এনটিভির একটি টকশোতে অংশ নিয়েছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সেখানে নানান আলোচনার ভেতরে রাজনীতিতে…

১৯৭৫ সালের ২৩শে মে বঙ্গবন্ধুর সাথে গণভবনে দেখা করে বাকশালে যোগ দেয়া সাংবাদিকদের একাংশ

বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন সেসব সাংবাদিক

:: তাহসিন আহমেদ ::  ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠার পর সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বড় একটি অংশ…

ব্যতিক্রমী একজন সেক্টর কমান্ডার

ব্যতিক্রমী একজন সেক্টর কমান্ডার

:: আসিফ নজরুল :: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একজন মেজর। সে রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে…

রাষ্ট্রপতি জিয়া হঠাৎ রাতে ঢাকা মেডিকেলে

রাষ্ট্রপতি জিয়া হঠাৎ রাতে ঢাকা মেডিকেলে

:: ওয়াসিম ইফতেখার ::  ২৩ মে, ১৯৮০, শুক্রবার স্থানঃ বায়তুল মোকারম মসজিদ ঢাকা প্রাঙ্গণ খন্দকার মোশতাক আহম্মেদের ডেমোক্রেটিক লীগ একটা…

জিয়া যেভাবে ফারাক্কার বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন

জিয়া যেভাবে ফারাক্কার বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন

.. ১৯৭৬ সালের মে মাসের ঘটনা। তখন পুরোনাে বিমান বন্দরই আকাশপথে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের গেটওয়ে। নতুন বিমান বন্দর চালু হলো ১৯৮০ তে। নতুন বিমান বন্দর যা আজ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বলে সুপরিচিত, কি করে তিন দিনের মধ্যে বিমান চলাচলের জন্যে প্রথম চালু হলো সে আর এক ইতিহাস। বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করছিলাম কখন ডাক পড়ে বিমানে আরোহণের জন্যে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কারও মুখে কথা…

'প্রধানমন্ত্রী জনতাকে অকাতরে বাঁশ দিচ্ছেন'

‘প্রধানমন্ত্রী জনতাকে অকাতরে বাঁশ দিচ্ছেন’

“… ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি করে গাছ উপহার চেয়েছেন।’ (বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম, সন্ধ্যা, ১৩.১১.১৯৭৩)।…